‘খোলা আকাশের নিচে পোলাপান লইয়া না খাইয়া আছি’

মনি আচার্য্য, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আগুনে সহায়সম্বল হারানো এক বৃদ্ধা | ছবি: শাহরিয়ার তামিম

আগুনে সহায়সম্বল হারানো এক বৃদ্ধা | ছবি: শাহরিয়ার তামিম

  • Font increase
  • Font Decrease

মিরপুরে রূপনগর বস্তিতে আগুনে সহায়সম্বল হারানো বস্তিবাসীরা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অনাহারে রয়েছেন। আগুনে সর্বস্ব খোয়ানো মানুষগুলোর জন্য দুই বেলা খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

ঘরহীন মানুষগুলো আশা করেছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অন্তত তাদের খাবারের ব্যবস্থা করবেন, কিন্তু তা হয়নি।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রূপনগর আবাসিক এলাকার ঝিলপাড় বস্তির আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

সহায়সম্বল হারানো বস্তিবাসীর আহাজারি | ছবি: শাহরিয়ার তামিম

পোড়া বস্তিটিতে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় কাউন্সিলের পক্ষ থেকে সামান্য কিছু খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেই খাবার সংগ্রহ করতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া অধিকাংশ মানুষ খাবার না পেয়ে অভুক্ত রয়ে গেছেন।

বস্তিটির বাসিন্দা মো. সবুজ বার্তা২৪.কমকে জানান, তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৭ জন। আগুনে তাদের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুন লাগার পর বুধবার দিবাগত রাতে তাদের কপালে কলা-রুটি জুটেছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তারা আর কোনো খাবার পাননি। মাথা গোঁজার ঠাই হারানোর সঙ্গে অনাহারের কষ্টে জুটেছে নতুন করে।

সালমা বেগম নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, এখানে অভুক্ত লোক রয়েছে হাজারেরও বেশি, কিন্তু রান্না করা হয়েছে মাত্র কয়ে ডেকচি খিচুড়ি। কেবল এক-দেড়শো মানুষ খাবার পেয়েছে।

ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে একজন খুঁজে পেয়েছেন তার কিছু বাসনকোসন

খাবার না পেয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে সালমা বলেন, কাউন্সিলর ভোটের সময় বলছিল— সবসময় আমাগো পাশে থাকব। কিন্তু এহন আগুনে পুইড়া সব শেষ হয়ে গ্যাছে, আমাগো খাবারের ব্যবস্থাই করবার পারে নাই৷ এখন খোলা আকাশের নিচে পোলাপাইন লইয়া না খাইয়া আছি, কিন্তু দেখার কেউ নেই।

গত বুধবার (১১ মার্চ) সকাল পৌনে ১০টার দিকে রূপনগরে ঝিলপাড় বস্তিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ২৪টি ইউনিট প্রায় ৩ ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে বস্তিটির কয়েকশ’ ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

আপনার মতামত লিখুন :