যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলা খারিজ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সিএনএন ফিলিপাইন

ছবি: সিএনএন ফিলিপাইন

  • Font increase
  • Font Decrease

 

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের আদালতে বাংলাদেশ ব্যাংক যে মামলাটি করেছিল তা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) মামলার বিবাদী প্রতিষ্ঠান ব্লুমবেরি রিসোর্ট করপোরেশনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন ফিলিপাইন।

সিএনএন ফিলিপাইন তাদের প্রতিবেদনে জানায়, এক প্রজ্ঞাপনে ব্লুমবেরি রিসোর্ট করপোরেশন সোমবার এ তথ্য ফিলিপাইনের স্টক এক্সচেঞ্জে প্রকাশ করেছে। প্রজ্ঞাপনে তারা জানায়, নিউইয়র্কের ম্যানহাটন সাদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট গত ২০ মার্চ (শুক্রবার) বাংলাদেশ ব্যাংকের মামলা খারিজ করে দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট আদালতের রায়ের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বাদীপক্ষ সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি আদালত আর মামলাটি শুনবেন না বলেও ঘোষণায় উল্লেখ করে ব্লুমবেরি।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার অজ্ঞাতনামা হ্যাকাররা হাতিয়ে নেন। আর ওই টাকা ফিলিপাইনের একটি ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়েছিল। যার প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি নিউইয়র্কের আদালতে মামলাটি দায়ের করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মামলায় ব্লুমবেরি ও রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনসহ (আরসিবিসি) বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আসামি করা হয়।

মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংক দাবি করে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ চুরির সঙ্গে আরসিবিসিসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও এর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা জড়িত ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মামলার পর আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, মামলায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অভিযোগে বলা হয়, আরসিবিসি ব্যাংকের শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তা এই অর্থ চুরির জন্য কয়েক বছর ধরে বড় ধরনের জটিল ষড়যন্ত্র করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক দাবি করেছিল, অজ্ঞাতনামা উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা এই চুরিতে সহায়তা করেছেন। অর্থ চুরির পর তা নিউইয়র্ক সিটি ও ফিলিপাইনে আরসিবিসির অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। পরে এই অর্থের বেশির ভাগ ফিলিপাইনের ক্যাসিনোর মাধ্যমে পাচার হয়ে যায়।

২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি অর্থ চুরির ঘটনা ঘটলেও তা প্রকাশ পায় মার্চে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমানকে পদত্যাগ করতে হয়। দুই ডেপুটি গভর্নরকেও সরিয়ে দেয় সরকার। ঘটনা তদন্তে সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে প্রধান করে কমিটি করে সরকার। কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলেও এখন পর্যন্ত তা প্রকাশ করা হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন :