সিলেটে প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সিলেটে ফাহিম আহমদ (২৫) নামে এক প্রবাসী যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দিনগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট সদর উপজেলার হায়দরপুর গ্রামে এ খুনের ঘটনা ঘটে। নিহত ফাহিম হায়দরপুর গ্রামের আব্দুল মানিকের ছেলে। সে তিন মাস আগে কাতার থেকে দেশে আসে।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার হায়দরপুর গ্রামে বাড়ির পাশে ফাহিমকে কুপিয়ে হত্যা করে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জেদান আল মুসা জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ওই যুবকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

জাপানের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে রাধা বিনোদ পালের নাম



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
বিচারপতি ড. রাধা বিনোদ পাল

বিচারপতি ড. রাধা বিনোদ পাল

  • Font increase
  • Font Decrease

আজ ২৭ জানুয়ারি বুধবার বিচারপতি ড. রাধা বিনোদ পালের ১৩৬তম জন্মদিন। জাপানের ইতিহাসে বিচারপতি ড. রাধা বিনোদ পালের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। জাপানের বন্ধুখ্যাত এই বিচারপতির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিচারপতির বাস্তুভিটা কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের কাকিলাদহে বিচারপতি রাধা বিনোদ পাল মডেল স্কুলে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

১৮৮৬ সালের ২৭ জানুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মধুরাপুর ইউনিয়নের ‘মৌজা সালিমপুরের’ অধীন তারাগুনিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন রাধা বিনোদ পাল। এলাকাটি বর্তমানে জজপাড়া নামে পরিচিত। তার বাবা বিপিন বিহারি পাল। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের ছাতিয়ান গ্রামের গোলাম রহমান পণ্ডিতের কাছে তার শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি। কুষ্টিয়া হাইস্কুলে তিনি মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। ১৯০৮ সালে কলকাতা প্রেসিডেনসিয়াল কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণিতে গণিতে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৪১ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারক ছিলেন। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে কাজ করেন ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রায় শেষ, অক্ষশক্তিকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে নুরেমবার্গ এবং টোকিওতে দুটি ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়। হিটলারের মন্ত্রিপরিষদ এবং যুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিচার করা হয় নুরেমবার্গে। এছাড়া জাপানের সমরবিদ জেনারেল হিদেকি তোজোর বিচার করা হয় টোকিও ট্রাইব্যুনালে। টোকিও ট্রাইব্যুনালের অন্যতম প্রধান বিচারপতি ছিলেন ড. রাধা বিনোদ পাল।

বিচারের একপর্যায়ে রাধা বিনোদ পাল বাদে অন্য সব বিচারপতি জেনারেল তোজোকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত করে ফাঁসিতে ঝুলানোর সিদ্ধান্ত নেন। অন্যান্য বিচারপতির ধারণা ছিল, বিচারপতি পালও মিত্রশক্তির পক্ষে অনুগত থাকবেন। কিন্তু বিচারপতি রাধা বিনোদ পালের ৮০০ পৃষ্ঠার ঐতিহাসিক রায় মিত্রশক্তি এমনকি বিশ্বকে হতবাক করে দেয়। আইনের শাসনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল বিচারপতি পাল পূর্ববর্তী রায়কে বিতর্কিত প্রমাণ করে যুক্তি দেন।

এ কারণে রাধা বিনোদ পালকে জাপানিরা অত্যন্ত শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। মাত্র কয়েক বছর আগে জাপানি প্রধানমন্ত্রী ‘মিস্টার আবে’ (যিনি বর্তমান জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের বাবা) কলকাতায় এসেছিলেন। তখন তিনি রাধা বিনোদ পালের ছেলেকে সমগ্র জাপানের তরফ থেকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। জাপানের রাজধানী টোকিওতে তার নামে রাস্তা এবং কিয়োটো শহরে তার নামে রয়েছে জাদুঘর ও স্ট্যাচু।

বিচারপতি ড. রাধা বিনোদ পাল মডেল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা যেন তাকে ভুলে না যাই এজন্য তার নামে বিচারপতি ড. রাধা বিনোদ পাল মডেল স্কুল নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। এই বিদ্যালয়েই আমরা ছোট পরিসরে তার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীর আয়োজন করে থাকি।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববাসী আজ যে সকল মহান ব্যক্তিদের কারণে আমাদের দেশকে স্মরণ করে রেখেছে, রাধা বিনোদ পাল তার মধ্যে একজন। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন মহান ব্যক্তি খুব কমই রয়েছে। তার স্মৃতি রক্ষার্থে কাজ করতে হবে এবং জাতীয়ভাবে তার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন করার দাবিও জানান।

;

হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন প্রকৌশলী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহীর পুঠিয়ায় পরিবারের ইচ্ছে পূরণ করতে হেলিকপ্টারে চড়ে দিনাজপুর বিয়ে করতে গেলেন এক প্রকৌশলী। হেলিকপ্টার চড়ে বিয়ের যাত্রা দেখতে সকাল থেকে আশেপাশের কয়েক গ্রামের হাজারো উৎসক লোকজন জড়ো হন।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের হাড়োগাতি গ্রামের একটি ইটভাটায় ল্যান্ড করা হয় হেলিকপ্টার। ওই গ্রামের সাবেক নৌবাহিনী কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেনের ছেলে ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ইমরান হোসেনের বিয়ে হচ্ছে দিনাজপুর বিরামপুর উপজেলা এলাকার সেনা কর্মকর্তার মেয়ের সাথে।

বরের বাবা ইসমাইল হোসেন বলেন, আমাদের পরিবারের ইচ্ছে ছিল ছেলেকে হেলিকপ্টারে করে বিয়ে করানোর। তাদের সে ইচ্ছে পূরণে প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ করে হেলিকপ্টার ভাড়া নেয়া হয়। দুপুরে এখান থেকে বর নিয়ে কনের বাড়ি যাবে। বিয়ের কাজ শেষে আবার নিয়ে আসবে।

আমজাদ হোসেন নামের একজন উৎসক জনতা বলেন, আমাদের গ্রামে তো দূরের কথা, আশেপাশের কোনো গ্রামে কখনোই হেলিকপ্টার নামেনি। তাই হেলিকপ্টার দেখতে সকাল থেকে ওই ইটভাটা এলাকাজুড়ে শত শত উৎসুক মানুষ অপেক্ষা করেন। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটেছে দুপুরের দিকে। শুনেছি সন্ধ্যার আগে আবারো বউ নিয়ে এখানেই আসবে হেলিকপ্টার।

পুঠিয়া থানার ওসি মো. সোহরাওয়াদী হোসেন বলেন, একটি বিয়ের জন্য ওই গ্রামে হেলিকপ্টার ল্যান্ড করা হবে, এমন একটি আবেদন আমরা পেয়েছি। আর সে মোতাবেক আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।

;

বছরে মাহবুব তালুকদারের চিকিৎসায় ইসির খরচ ৪০ লাখ টাকা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
সিইসি কে এম নূরুল হুদা

সিইসি কে এম নূরুল হুদা

  • Font increase
  • Font Decrease

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারকে অসুস্থ উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, তিনি রোগাক্রান্ত ব্যক্তি। মাহবুব কখনও আইসিইউতে কখনও সিসিইউতে ছিলেন। এছাড়া তিনি সিঙ্গাপুর, ভারতে চিকিৎসা নিয়েছেন। এসব চিকিৎসার ব্যয় কমিশন থেকে করা হয়। এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা।

তিনি বলেন, মাহবুব তালুকদারের কথা আমি বরাবরই বলেছি। ইসিতে তিনি ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে ‌আরএফইডি টক আয়োজনে এসব কথা বলেন সিইসি।

ইসির একজন কমিশনার নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার, বিনা ভোটের নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা করেন- এই বিষয়ে সিইসির বক্তব্য জানতে চাইলে কে এম নুরুল হুদা বলেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলে ইসির কী করার আছে? এটা তো প্রার্থীদের সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। বিনা ভোটে নির্বাচিত কেন হলো- এটা দেখার কোনো এখতিয়ার কমিশনের নেই। নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারে কোনো এলিমেন্ট নেই।

মাহবুব তালুকদার বিষয়ে সিইসি কে এম নুরুল হুদা বলেন, কোনও নির্বাচন হলে, আমাদের কোনো অনুষ্ঠান হলে তার ৬/৭ দিন আগে থেকে উনি (মাহবুব তালুকদার) শব্দ বেছে বেছে বের করেন। আর ভাবতে থাকেন কোন শব্দটা কোন যায়গায় বসাবেন। যেটা মিডিয়ায় কাভারেজ হয়। এরকম উনি করেন। একথা আমি বার বার বলেছি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার গত পাঁচ বছরের রোডম্যাপে কী কী করেছেন এবং কী রেখে যাচ্ছেন সে সম্পর্কেও তুলে ধরেন অনুষ্ঠানে।

;

অনিয়মের দায়ে চিকিৎসক ও ক্লিনিক মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ফরিদপুর
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ফরিদপুরের সরকারী ও বেসরকারী কয়েকটি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে বিতর্কিত কিছু কর্মকান্ডের কারণে দেশজুড়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্য নগরী হিসাবে দক্ষিনাঞ্চলের জেলা ফরিদপুরকে ধরা হলেও সেই স্বাস্থ্য নগরীর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একেবারেই নাজুক।

স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারী না থাকা এবং এ দফতরের কতিপয় কর্মকর্তার দুর্নীতির কারণে হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা এসব প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কিন্তু রহস্যজনক কারণে অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলোতে অভিযান না চালানোর কারণেই একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলোতে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ফরিদপুরের নামকরা বেশ কয়েকটি হাসপাতালে রোগীর ভুল চিকিৎসা নিয়ে অভিযোগ থাকলেও সেগুলোকে নানাভাবে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না রেখে আয়া নার্স দিয়ে অপারেশনের মতো কাজ চালানোর প্রমান মিলছে। ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীরা দূর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর সমালোচনা শুরু হলে নড়েচড়ে বসে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ। এরই মধ্যে অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দুটি প্রাইভেট হাসপাতাল ও দুটি ডায়াগনষ্টিক সেন্টার।

ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মনিরা নামের এক রোগীর অপারেশন করা হয় ২০২০ সালে। সেই সময় চিকিৎসকের ভুলে মনিরার পেটে কাঁচি রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়েছিল।

দীর্ঘ দুই বছর পর বিষয়টি ধরা পরার পর গত ১০ ডিসেম্বর অপারেশনের মাধ্যমে মনিরার পেট থেকে বড় আকারের একটি সার্জারী কাঁচি বের করা হয়। এ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ১৫ জানুয়ারি শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকায় অবস্থিত আল মদিনা নামের হাসপাতালে আয়া দিয়ে সিজার করতে গিয়ে এক প্রসূতির নবজাতকের কপাল কেটে ফেলা হয়। সেই নবজাতকের কপালে ৯টি সেলাই করেন সেই আয়া নিজেই। এ নিয়ে হাসপাতাল কতৃপক্ষ রোগীর স্বজনদের নানা ভয়ভীতি দেখান বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য। পরে রোগীর স্বজনেরা জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনকে অবহিত করলে সেখানে ছুটে যান সিভিল সার্জন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সেখানে গিয়ে তারা ঘটনার সত্যতা পান এবং  হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। মামলা দেওয়া হয় হাসপাতালটির পরিচালকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এদের মধ্যে হাসপাতালের পরিচালক, আয়াসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ। বর্তমানে তারা জেলহাজতে রয়েছেন।

এ ঘটনার পর শহরের আরামবাগ নামের আরেকটি প্রাইভেট হাসপাতালের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এক নবজাতকের হাত ভেঙে ফেলার অভিযোগ ওঠে। নবজাতকের পিতা আরিফুল আলম সজল জানান, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর আরামবাগ হাসপাতালে তার স্ত্রীকে সিজারের জন্য নেওয়া হয়। সেই সময় চিকিৎসক শারমিন সুলতানা জুই নবজাতকের হাত ভেঙে ফেলে। বিষয়টি তারা তখন জানতে পারেননি। পরে শিশুটির হাতের অবস্থা খারাপ হলে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসককে দেখান এবং এক্সরে করলে হাত ভাঙার ঘটনাটি ধরা পড়ে। ঘটনাটি হাসপাতাল কতৃপক্ষকে জানালে তারা বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে ঘটনাটি চেপে যেতে বলেন। কিন্তু আরিফুল আলম সজল এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে হাসপাতালটিতে অভিযান চালায় স্বাস্থ্য বিভাগ। গত ১৯ জানুয়ারি আরামবাগ হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে ডিগ্রিধারী চিকিৎসক ও বৈধ কাগজপত্র না থাকায় হাসপাতালটি বন্ধ করে দেন সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমান। অভিযানকালে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানতে পারেন হাসপাতালের সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে শারমিন সুলতানা জুই ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক। কিন্তু তিনি কখনোই বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাকুরী করেননি। ভুয়া নাম ব্যবহার করে তিনি আরামবাগ হাসপাতালে প্রসূতিদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলেন। এই হাসপাতালটির বিরুদ্ধে এর আগে একাধিক অভিযোগ থাকায় ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান পরিচালনা করে। হাসপাতাল কতৃপক্ষ ভুল স্বীকার করায় সেই সময় মৌখিক ভাবে সতর্ক করা হয়। অভিযানের সময় দুটি হাসপাতালের সংশ্লিষ্টরা কৌশলে সরে পড়েন। পরপর বেশ কয়েকটি ঘটনায় বেশ সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ফরিদপুর জেলা সদর ছাড়াও ভাঙ্গায় একাধিক ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া বোয়ালমারী, মধুখালী, আলফাডাঙ্গা, চরভদ্রাসন উপজেলার বেশীরভাগ ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসাসহ বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদপুর জেলা সদরে সরকারী দুটি হাসপাতাল রয়েছে। তাছাড়া ৯টি উপজেলায় রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এছাড়া ডায়াবেটিক হাসপাতাল, হার্ট ফাউন্ডেশন, শিশু হাসপাতালসহ ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় দুই শতাধিক প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে। এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলোর বেশীর ভাগেরই নেই কোনো বৈধতা। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা এসব ক্লিনিক ও হাসপাতাল গুলোতে চিকিৎসা সেবার নেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও চিকিৎসক। বাড়ী ভাড়া নিয়ে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই চালানো হচ্ছে এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক। শহরের বেশ কয়েকজন নাগরিক অভিযোগ করে বলেন, জেলায় বড় দুটি সরকারী হাসপাতাল থাকলেও সেই হাসপাতালের চিকিৎসকেরা হাসপাতালে না থেকে বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে সময় দেন। আর ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। ফলে তেমন কোন চিকিৎসা সেবাই পাওয়া যায়না এই হাসপাতাল দুটিতে। আর দালালদের কারণে তেমন কেউ সরকারী হাসপাতালে যেতেই পারেন না। বিভিন্ন জেলা ও গ্রাম গঞ্জ থেকে রোগীরা এলে দালালেরা তাদের স্বজনদের ভুল বুঝিয়ে নিয়ে যান ক্লিনিক ও হাসপাতাল গুলোতে। স্বাস্থ্য বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তারা প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলো থেকে মাসোয়ারা নিয়ে থাকেন। ফলে বৈধ কাগজপত্র ও কোন নিয়ম নীতির ধারও ধারেন না হাসপাতাল ও ক্লিনিক মালিকেরা।

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক পান্না বালা বলেন, জেলাজুড়ে যেসব প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলো রয়েছে তার বেশীর ভাগেরই কোন বৈধতা নেই। সব হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলোতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নাম লিখে রাখা হয়। যাতে রোগী ও তাদের স্বজনেরা প্রলুব্ধ হয়। আর এসব হাসপাতালে নেই কোন চিকিৎসা সরঞ্জাম। আয়া ও নার্স দিয়েই পরিচালিত হয় বেশীর ভাগ হাসপাতাল। এগুলো বন্ধ করতে হবে। নইলে ভুল চিকিৎসায় অকালে ঝড়ে যাবে মানুষের প্রান। নারী নেত্রী শিপ্রা গোস্বামী বলেন, হাসপাতাল গুলোতে চিকিৎসা সেবা নেই বললেই চলে। সেখানে বিভিন্ন সাইনবোর্ড গুলোতে দেখা যায় অনেক চিকিৎসকের নাম। প্রায় প্রতিটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোতে একই চিকিৎসকের নাম ব্যবহার করে থাকে। একজন চিকিৎসক একই সময়ে কয়টি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেবার জন্য থাকতে পারেন তা আমাদের বোধগম্য নয়।

বুধবার (২৬ জানুয়ারি) ফরিদপুরে এক গৃহবধূকে প্রাইভেট ক্লিনিকে ভাগিয়ে নিয়ে এপেন্ডিক্স অপারেশনের সময় মলদ্বারের নাড়ি কেটে ফেলার ঘটনায় শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের পাশে অবস্থিত পিয়ারলেস হাসপাতালের দুই পরিচালককে সাত দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।রাত ৮টার দিকে ফরিদপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম ইমরাজিন টুনুর নেতৃত্বে পরিচালিত আদালত এ কারাদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- পিয়ারলেস হাসপাতালের পরিচালক মিঠুন চন্দ্র সরকার ও আসাদুজ্জামান আসাদ।

সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমান বলেন, ফরিদপুরে যেসব প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের বৈধ কাগজপত্র এবং নিয়ম নীতির বাইরে রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এ বিষয়ে আমরা অভিযান শুরু করে দিয়েছি। এরই মধ্যে দুটি প্রাইভেট হাসপাতাল ও দুটি ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলোর বিরুদ্ধে এবার জিহাদে নেমেছি।

 

;