মানুষ হয়েও মানুষ না, তাই অভিযোগও নেই!



জাহিদুর রহমান স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
স্থানের অভাবে গায়ে গা লেপটে শুয়ে আছেন তারা, ছবি: বার্তা২৪.কম

স্থানের অভাবে গায়ে গা লেপটে শুয়ে আছেন তারা, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নানা বয়সী মানুষ। এদের মধ্যে একজন কিশোরীকেও দেখা গেল। ছিন্নমূল মানুষগুলো শুয়ে আছেন গাদাগাদি করে। আরও অনেকে ছিলেন। সাত সকালে ঘুম ভাঙা ওই মানুষগুলো যে যার মতো ছুটেছেন প্রাতঃকৃত্যের জন্য নিরাপদ জায়গার সন্ধানে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে সাভার বাজার বাস স্ট্যান্ডের পূর্ব দিকে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে যাত্রী ছাউনিতে এমন চিত্র দেখা যায়। চাল চুলোহীন এই মানুষগুলোর রাত্রিকালীন ঠিকানা এই যাত্রী ছাউনি।

মহামারি নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে যখন শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই, তখন ছিন্নমূল এই মানুষগুলোকেই দেখা গেল স্থানের অভাবে গায়ে গা লাগিয়ে শুয়ে আছেন।

সকাল হতেই মানুষগুলো বেরিয়ে পড়েন পেটের দায়ে। যখন যে কাজ পান তাই করেন। কেউ ভিক্ষুক, কেউবা ভবঘুরে। এক কাপড়ে থাকা ভাসমান এই মানুষগুলোর অনেকেই অনাহারী।

যাত্রী ছাউনির নিচে এভাবেই শুয়ে আছেন তারা

রুস্তম আলী নামে একজন জানান, গত মঙ্গলবার সকালে একটা মাত্র রুটি খেয়েছেন। এরপর আর কোনো খাবার পাননি। কাজ নেই তাই পেটে খাবারও নেই।

এই যে সরকার এত এত ত্রাণ দিচ্ছেন। আপনারা পাচ্ছেন না? তিনি বলেন, ‘না বাবা। আমাগো ত্রাণ দিব কিডা। আমাগো তো কুনু ঠিকানায় নাই।’

তার এই কথা শুনে এগিয়ে আসেন শরিফুল নামে আরেক যুবক। কিশোরীকে দেখিয়ে বলেন, ‘গেছিলাম মাইনষের দ্বারে দ্বারে। একজন কইলো ভোটার কার্ড আছে? আরেকজন জিগাইলো, কোন ওয়ার্ডে থাকি? কার বাইতে থাকি? কইলাম আমাকের বাড়িঘর নাই। বিশ্বাস করে নাই। কিছু দ্যায়ও নাই।’

কুরবান আলী নামের ছিন্নমূল আরেকজন মানুষ বলেন, ‘আমাগো তো কেউ চাইল দিলেও রানবার পারুম না। মাইনষের মতো তো আর ঘর-সংসার নাই। রাইতের বেলা এই জায়গায় একটু ঘুমাই তারপর দিনে কে কই থাকে, না থাকে কেউ খবর নেয় না।’

ভাসমান তাদের জীবন

দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় অফিস-আদালত বন্ধ রেখে ঘরে থাকার মেয়াদ ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। সন্ধ্যা ৬টার পর বাইরে বের হতেও জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু দফায় দফায় বাড়ানো ছুটির কারণে ঘরহীন এই মানুষগুলো কারও নজরে আসেননি। এমনকি তারা কেন বাইরে এমন প্রশ্নও কেউ করেননি।

নজরুল ইসলাম নামে একজন মানবাধিকার কর্মী বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তো দেখি ত্রাণের ছড়াছড়ি! অথচ এই মানুষগুলোর দিকে কেউ ঘুরেও তাকায়নি। তাহলে এরা কি মানুষ না? রাষ্ট্রের কি কোনো দায়িত্ব নেই এদের প্রতি?’

এমন প্রশ্ন তুলে অবিলম্বে প্রশাসনকে ছিন্নমূল এই মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।