কৃষকের দুর্দিনে পাশে দাঁড়িয়েছে জাতীয় ছাত্র সমাজ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
কৃষকের ক্ষেত থেকে সবজি উত্তোলন করছেন জাতীয় ছাত্র সমাজের নেতাকর্মীরা

কৃষকের ক্ষেত থেকে সবজি উত্তোলন করছেন জাতীয় ছাত্র সমাজের নেতাকর্মীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

উত্তরাঞ্চলের সবজি ভাণ্ডারখ্যাত এলাকা হিসেবে পরিচিত রংপুর। এখান সবজি স্থানীয় বাজার চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হতো। কিন্তু মহামারি করোনার প্রভাবে বাইরের পাইকাররা এখন রংপুরে আসছেন না। এতে উৎপাদিত সবজি বিক্রি করতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।

লোকসানের মুখে পড়া কৃষকদের অনেকের শাক-সবজি ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে। আর কেউ কেউ হতাশার অংক কষে পানির দরে বিক্রি করছেন। চাষিদের এমন দুর্দিনে পাশে দাঁড়িয়েছে জাতীয় ছাত্র সমাজ। প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে সবজি কিনে, তা বিনামূল্যে বিতরণ করেছে জাতীয় পার্টির অঙ্গ সহযোগী এই ছাত্র সংগঠনটি।

গেল এক সপ্তাহে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার রাণীপুকুর, সদর উপজেলার পালিচড়া ও নগরীর নজিরেরহাট ও নজির দীঘর এলাকার প্রায় অর্ধশত কৃষকের ক্ষেত থেকে সবজি কিনে নিয়েছেন জাতীয় ছাত্র সমাজের নেতা-কর্মীরা। ন্যায্যমূল্যে ক্রয় করা পটল, কাঁচা মরিচ, টমেটো, বরবটি, কাঁকরোল, করলা, বেগুনসহ বিভিন্ন শাকসবজি কর্মহীন অসহায়, দুস্থদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে।

নগরীর ৩৩নং ওয়ার্ডের নজির দীঘর এলাকা সবজি চাষি আরিফুল বলেন, করোনার কারণে শাক সবজির দাম নাই। এখন ক্ষেত থেকে সবজি তোলা ও বাজারে নিয়ে যাওয়া মানে লোকসানের বোঝা ঘাড়ে নেয়া।

করোনার প্রভাবে পাইকাররা রংপুরে না আসায় বিক্রি কমেছে সবজির

জাতীয় ছাত্র সমাজের কাছে সবজি বিক্রি করতে পেরে খুশি নজিরেরহাট এলাকার কৃষক মকবুল জানান, অনেকের সবজি তো ক্ষেতে নষ্ট হয়েছে। তারও জমিতে কিছু সবজি পচে গেছে। এর মধ্যে ঢাকা থেকে আসা ছাত্র সমাজের নেতারা তার ক্ষেতের সবজি কিনে নিয়েছেন।

সরাসরি সবজি ক্ষেতে এসে সবজি উত্তোলন ও পরিবহন করার পাশাপাশি ন্যায্যমূল্য পরিশোধ করেছেন বলেও তিনি জানান।

এ ব্যাপারে জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’-এ স্লোগানকে বুকে ধারণ করে আমরা কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে সবজি সংগ্রহ করছি। দলের নেতাকর্মীরা মিলে ক্ষেত থেকে সবজি উত্তোলন করে এনে তা বিভিন্ন এলাকার অসহায়, কর্মহীন শ্রমজীবীদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে।’

কৃষকরা বলছেন, পরিবহন ও বিপণন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় মাঠভরা সবজি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। ক্ষেতেই সবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ক্রেতা মিলছে না। যদিও বাজারে কিছু বিক্রি হচ্ছে তবে তা পানির দামে। এমন পরিস্থিতিতে তাদের পাশে দু-একটি সংগঠন ছাড়া তেমন কেউ দাঁড়ায়নি।

রংপুর অঞ্চলে ধান, পাটসহ অন্যান্য অর্থকরী ও খাদ্যশস্য উৎপাদনের চেয়ে অধিক পরিমাণে শাক-সবজি উৎপাদন হয়ে থাকে। চলতি মৌসুমে শুধু রংপুর কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলাতে ৩৮ হাজার ৭৩৬ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে। যা এই মৌসুমের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ২৯ হেক্টর বেশি। এ বছর সবচেয়ে বেশি সবজির আবাদ হয়েছে রংপুরে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে ক্ষেতের ফসল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেক কৃষক।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘করোনার কারণে ক্রেতাসহ পরিবহন সংকটে দাম কিছুটা কম। তবে লকডাউনের আওতার বাইরে কৃষিপণ্য পরিবহন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে তাদের পণ্য বিক্রি ও ফসল চাষাবাদে পরামর্শ দিচ্ছেন।’

আপনার মতামত লিখুন :