বিচ্ছিন্ন চরে পৌঁছায়নি ত্রাণ, করোনা কী জানেন না চরবাসী

জুয়েল রানা, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুড়িগ্রাম
করোনায় রোজগারও বন্ধ হয়ে গেছে/ছবি:  বার্তা২৪.কম

করোনায় রোজগারও বন্ধ হয়ে গেছে/ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনা বিস্তার রোধে গোটা দেশ লকডাউন। সবাইকে দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরার পরামর্শ দিচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মানুষকে ঘরে রাখতে সকরারি ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে দুস্থ ও অসহায় মানুষকে।

তবে কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের চিত্র একেবারেই আলাদা। সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন তারা। করোনাভাইরাস নিয়ে কোনো সচেতনতামূলক কার্যক্রম না থাকায় বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বেশিরভাগ মানুষ। হাটবাজারেও ঘুরছেন জটলা পাকিয়ে।

সেনাবাহিনী ও পুলিশ প্রশাসনের নজরদারির কারণে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলছেন শহরের মানুষ। কিন্তু উল্টো চিত্র দেখা গেছে চরাঞ্চলের এসব মানুষের ক্ষেত্রে। এখানকার অধিকাংশ মানুষ এখনও জানেন না করোনাভাইরাস ও সামাজিক দূরত্ব কী?

অধিকাংশ মানুষ এখনও জানেন না করোনাভাইরাস ও সামাজিক দূরত্ব কী

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চরে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। সেই নৌকায় গাদাগাদি করে চলছে নদী পারাপার। মাঝের ব্রহ্মপুত্র নদ আলাদা করে ফেলেছে শহর আর চরের মানুষগুলোকে। চরের হাটবাজার সবকিছু খোলা থাকায় ঘরের চেয়ে মানুষের বাইরে ঘোরাঘুরি বেশি। যেন ভিন্ন জগতের মানুষ এরা। এর মধ্যে ঝুনকার চর, পোড়ার চর, জাহাজের আলগা, দই খাওয়ায় চর, মশালের চরসহ বেশিরভাগ চরাঞ্চলে দেখা গেছে এমন চিত্র।

যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌকা

যাত্রাপুর ইউনিয়নের ঝুনকার চর গ্রামের মানিক মিয়া বার্তা২৪.কমকে বলেন, এখানকার অধিকাংশ মানুষ অসচ্ছল। আমাদের এই চরে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার সরকারি বা বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা আসে নাই। আমরা কয়েকজন যুবক মিলে এই চরে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি। তাছাড়াও বিত্তবান মানুষের কাছ থেকে চাউল কালেকশন করে নিয়ে দরিদ্র মানুষকে দিয়েছি। এখানকার মানুষ ঠিক মতো খেতে না পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। জরুরি ভিত্তিতে এই চরে সরকারি বা বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা প্রদানের দাবি জানাচ্ছি। না হলে না খেয়ে মারা যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। বিচ্ছিন্ন এলাকা, তাই হয়তো এখানে কোনো প্রশাসনের লোকজন আসেন না। এজন্য অনেক কিছু অজানা থেকে যায়।

এ ইউনিয়নের দেবাড়িখোলা চরের সুলতান মাহমুদ বার্তা২৪.কমকে জানান, আমাদের চরেও এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণ সহায়তা আসে নাই। এখানকার মানুষ ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে কাজ করতো। করোনার কারণে তারা এখন বাড়িতে অবস্থান করছে। কাজ না থাকায় নিদারুণ কষ্টে দিন অতিবাহিত করছে। এদেরকে দেখার মতো কেউ নাই।

যাত্রাপুর ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোঃ আইয়ুব আলী সরকার বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমার ইউনিয়নে ৬ হাজার পরিবার। এখন পর্যন্ত ২ হাজার ১শ পরিবারকে ১০ কেজির করে চাউল দিতে পেরেছি। যে পরিবারগুলো পায় নাই আগামীতে তাদেরকে দেয়া হবে।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) তিনি বার্তা২৪.কমকে জানান, সব অঞ্চলেই ত্রাণ সহায়তা পাঠানো হয়েছে। আমাদের ডিমান্ড ৭০ হাজার এখন পর্যন্ত ৪০ হাজার কাভার করতে পেরেছি। এখনো ৩০ হাজার বাকি আছে। যারা এখনও ত্রাণ সহায়তা পায়নি আমাদেরকে জানালে আমরা ব্যবস্থা নিবো।

আপনার মতামত লিখুন :