করোনাকালে আম নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাষিরা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
গাছে গাছে ঝুলছে কাঁচা-পাকা আম

গাছে গাছে ঝুলছে কাঁচা-পাকা আম

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রভাবে গোটা দেশ স্থবির হয়ে পড়েছে। এক জেলার সঙ্গে অন্য জেলার যোগাযোগ নেই বললেই চলে। তাই এবার মৌসুমি ফল আম নিয়ে মহা দুশ্চিন্তায় আম চাষিরা। অন্যান্য বছর মে মাসের মাঝামাঝি থেকে আম ভাঙতে শুরু করেন চাষিরা। এবার করোনার প্রভাবে নেই বাজার, নেই আড়তদার, নেই খুচরা খরিদ্দার। সব মিলিয়ে মহা দুশ্চিন্তায় আম চাষিরা।

এমনিতেই করোনার প্রভাবে আম নিয়ে বিপদে, তারমধ্যে ঘূর্ণিঝড় আম্পান আরেক দফা ক্ষতি করে গেছে। এখন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা অবস্থা আম চাষিদের। এবার আম ভাঙার সময় হয়ে আসলেও বাজার সচল না থাকায় গাছেই নষ্ট হচ্ছে অনেক আম।

আমের বাগান

আবার যারা কিছু কিছু আম ভাঙছেন সেগুলো ক্রেতার অভাবে বিক্রি করতে পারছেন না। করোনাকালে আম চাষি ও এর সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় এসব দুর্দশার কথা।

দেশে উৎপাদিত আমের সিংহভাগ আসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে। আর এই জেলার সব থেকে বেশি আম উৎপাদন হয় শিবগঞ্জ উপজেলায়। দেশের সব থেকে বড় আমের বাজার শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট বাজার। এখানে আমের পাইকারি বাজার বসে।

প্রতিবছর মে মাসের শেষ দিকে কাঁচা-পাকা আমে কানসাট বাজারে শোরগোল পড়ে যায়। এই মৌসুমে পর্যটকরাও গাছে ঝুলে থাকা আম দেখতে ভিড় করেন। কিন্তু করোনার কারণে এবার কোনোটিই নেই। পুরো চিত্র পাল্টে দিয়েছে করোনা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার একজন সফল উদ্যোক্তা তরুণ আম চাষি ইসমাইল খান শামীম। যিনি শিবগঞ্জ ম্যাংগো প্রডিউসার কো অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক ও অনলাইন ম্যাংগো ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন (অমট্যাবের) এর আহ্বায়ক।

 বাগানে আম পাড়ছেন শ্রমিকেরা

ইসমাইল খান শামীম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, আমাদের শিবগঞ্জ উপজেলার ৮০ ভাগ মানুষের জীবন-জীবিকা আম নির্ভরশীল। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এখানকার মানুষ আম চাষের সঙ্গে জড়িত। বলা চলে এখানকার অর্থনীতি আম কেন্দ্রিক। এবছর এমনিতেই আমের ফলন কম। যারা বাগান ঠিকমত পরিচর্যা করেছিল শুধু তাদের বাগানেই কিছু আম আছে।

কিন্তু সেই আম নিয়েও তো বিপদে পড়েছি। আমাদের বাজার বন্ধ রয়েছে। আবার যারা বাইরে থেকে আম কিনতে আসতো তারাও আসতে পারছে না গাড়ি না থাকায়। ঈদের পর পুরোপুরি আম ভাঙা শুরু হবে, এবার কি হবে খুব চিন্তায় আছি। আমরা দেশের বাইরে আম পাঠাতাম এবার ফ্লাইট না থাকায় সেটিও বন্ধ। তাই আম নিয়ে আমরা মহাবিপদে। তাছাড়া ঘূর্ণিঝড় আম্পান বাগানের প্রায় ২০ ভাগ আম নষ্ট করে দিয়েছে।

করোনাকালে আম নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাষিরা

শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম আমিনুজ্জামান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১৮ হাজার ৮৫৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। যেখান থেকে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে বলে আশা করছি। করোনার কারণে এবার আম বিপণনে সমস্যা হচ্ছে। তবে আমরা পরিবহন মালিক ও আম ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। যদি করোনা এভাবে থাকে তাহলে ঈদের পর আম পাঠোনোর জন্য ব্যবস্থা করবো।

কানসাট আম আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক টিপু বার্তা২৪.কম-কে বলেন, বর্তমানে আম নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি। এই সময়ে সাধারণত আড়তের আম কেনাবেচা নিয়ে ব্যস্ত থাকি। এবার একদম অচল। আম কিভাবে বাজারজাত করবো তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। আমরা এবার ব্যবসা করতে পারব কি না?

আপনার মতামত লিখুন :