ঈদ নেই ভোলার জেলে পরিবারগুলোতে

মোকাম্মেল মিশু, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ভোলা
ভোলার জেলে পল্লীগুলোতে আনন্দের পরিবর্তে বিরাজ করছে হতাশা।

ভোলার জেলে পল্লীগুলোতে আনন্দের পরিবর্তে বিরাজ করছে হতাশা।

  • Font increase
  • Font Decrease

একদিকে করোনা পরিস্থিতির বিরূপ প্রভাব, অন্যদিকে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। তার উপরে গত মার্চ-এপ্রিল দুই মাস নদীতে মাছ ধরা বন্ধ ছিল। আর বর্তমানে নদীতে রয়েছে মাছের আকাল। এছাড়া মে মাসের ২০ তারিখ থেকে ৬৫ দিনের জন্য সাগরে মাছ ধরার উপরে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এসব কারণে গত ৩ মাসে হয়নি কোনো আয়, মেলেনি সরকারি সাহায্য। সব মিলিয়ে বিপর্যস্ত ভোলার জেলেদের জীবন-জীবিকা।

ফলে এবার জেলার ৫ লক্ষাধিক জেলের ঈদের আনন্দ নিরানন্দ হয়ে গেছে। জেলে পল্লীগুলোতে আনন্দের পরিবর্তে বিরাজ করছে হতাশা।

মৎস্য বিভাগের নিবন্ধন অনুযায়ী ভোলায় ১ লাখ ৩২ হাজার ২৬০ জন জেলে রয়েছে। নিবন্ধনের বাইরেও রয়েছে এর চেয়ে দ্বিগুণ জেলে। অর্থাৎ ২০ লাখ জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এ জেলার ৫ লাখই জেলে। যারা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। দেশে যে পরিমাণ ইলিশ উৎপাদিত হয় তার ৩ ভাগের ১ ভাগই সংগ্রহ করে ভোলার জেলেরা। তাদের সংগৃহীত ইলিশ ও অন্যান্য মাছের অর্থে অনেকটা সচল থাকে ভোলার অর্থনীতি।

 অর্থ কষ্টে রয়েছে ভোলার জেলেরা।

কিন্তু যারা এ অর্থনীতি টিকিয়ে রাখে, এখন তাদের দিনই কাটছে অর্থ কষ্টে। এমনকি অর্থাভাবে এবার জেলার ৭ উপজেলার ৫ লাখ জেলে ঈদ উদযাপন করতে পারছে না।

ভোলার বিভিন্ন জেলে পল্লী, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও মাছ ঘাটে গিয়ে জেলে, জেলে পরিবারের সদস্য ও জেলে সমিতির নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এবার ঈদের আনন্দ তাদের কাছে ফিকে হয়ে গেছে। ঈদে নতুন জামা কাপড়তো দূরের কথা একটু ভালো খাবারের আয়োজন করতে পারেনি তারা। আগের ধার-দেনা থাকায় মহাজনের কাছ থেকে তারা নিতে পারেনি অগ্রিম টাকা। নতুন করে কারো কাছ থেকে ধারও মেলেনি। 

ঈদে একটু ভালো খাবারের আয়োজন করতে পারেনি জেলেরা।

জেলেদের এই দুর্ভোগ, কষ্টের কথা স্বীকার করে ভোলা সদরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার জন্য মে মাসসহ গত ৪ মাস প্রত্যেক জেলেকে প্রণোদনা হিসেবে ৪০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। সাগরে মাছ না ধরার জন্য আগামী মাসেও জন প্রতি ৮৫ কেজি করে চাল দেয়া হবে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে জেলেদের পাশে দাঁড়াবার জন্য বিশেষ কোনো সুযোগ ছিল না তাদের। তবে শিগগিরই জেলেদের অভাব কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে শুধু জেলেরাই নয়, করোনা ও আম্পানের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভোলার বহু কৃষকও এবার ঈদ উদযাপন করতে পারছে না। এছাড়া জেলার নদীতীরবর্তী সাড়ে ৩শ কিলোমিটার বাঁধের পাড়ে বসবাস করা হতদরিদ্র মানুষরাও ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত।

আপনার মতামত লিখুন :