ঈদ এলেও আনন্দ ছুঁতে পারেনি হান্নানের বাড়িতে

জাহিদ হাসান, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, যশোর
রিকশা চালক হান্নান

রিকশা চালক হান্নান

  • Font increase
  • Font Decrease

হান্নান হোসেন (৫০)। পেশায় রিকশা চালক। ১০ বছর আগে সাতক্ষীরার কলারোয়া থেকে যশোর শহরে এসেছেন জীবিকার তাগিদে। শহরের রেলগেট বস্তিতে স্ত্রী আর ২ সন্তানকে নিয়েই তার বসবাস। হান্নান হোসেন রিকশা চালিয়ে আর স্ত্রী ফাতেমা বেগম মেসে রান্না করে সংসার চালান। পাড়া-প্রতিবেশীদের অনেকের বাড়িতেই আজ (২৫ মে) ঈদের আমেজ। ঈদের আনন্দে মত্ত বাড়ির শিশুরা। তখন ঈদের আনন্দ ছুঁতে পারেনি হান্নান হোসেনের বাড়িতে। করোনাভাইরাসের কারণে উপার্জন বন্ধ; অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই বাড়িটি লন্ডভন্ড হয়েছে। তার পরিবারে এখন ঈদের আয়োজন তো দূরের কথা, এখন ঠিকমতো দু বেলা খাবার জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব!

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে বার্তা২৪.কম-কে হান্নান বলেন, আমার কোনো জায়গা জমি নেই, রেল স্টেশনের পাশে একটু খালি জায়গায় টিন আর বাঁশ দিয়ে একটি বাড়ি করেছিলাম। দুই সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়ে সেখানেই বসবাস করতেছিলাম। করোনার কারণে প্রায় দুই মাস ধরে কাম কাজ বন্ধ। এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে আমার বাড়িটি লন্ডভন্ড হয়েছে। ঝড় গেছে ৪ দিন হলো এখনো বাড়িটি মেরামত করতে পারিনি টাকার অভাবে। এর মধ্যে ঈদ এলেও ছেলে-মেয়ের জন্য পোশাক কিনে দিতে পারি নাই। ভালো কোনো খাবারও রান্না হয় নাই। সরকারের কোনো সহযোগিতাও পাই না। গরিবের আবার কিসের ঈদ আনন্দ? পাশের বাড়ির শিশুরা ঈদের আনন্দ করতে পারলেও এবার আমার বাড়িতে ঈদের আনন্দ নেই। তাই মনের ভিতর ভালো লাগছিলো না; তাই রিকশা নিয়ে বের হয়েছি।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হান্নানের বাড়ি

করোনার প্রাদুর্ভাব রোধে যশোর পৌরসভা ও শহরে রিকশা চলাচল বন্ধ রয়েছে। রিকশা বন্ধ থাকায় হান্নান হোসেনের মতো অনেকেই পড়েছেন বিপাকে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অনেকেই অবৈধভাবে রিকশা চালালেও জরিমানা ও আটকের ভয়ে হান্নান হোসেন রিকশা নিয়ে বের হচ্ছেন না। রিকশা চালাতে না পারায় আয় রোজগার বন্ধ। অসহায় ও বেকার কর্মহীনদের এ পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে যে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে সেটা পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। হতাশা আর অভাবে পরিবারের মাঝে ঈদের আমেজ নেই। এখন তার চোখে মুখে হতাশার কালো ছায়া বিরাজ করছে। ঈদ আনন্দের পরির্বতে মলিন চেহারা ভেসে উঠছে তার পরিবার পরিজনের।

এ বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কমকর্তা মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি মেরামত করার জন্য ঢেউটিন এবং নগদ টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া জেলায় করোনার কারণে কর্মহীন অসহায় পরিবারদের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :