লিবিয়ায় ২৬ নাগরিককে হত্যার বিচার চেয়েছে বাংলাদেশ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন

  • Font increase
  • Font Decrease

লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তদন্ত করে দোষীদের বিচার ও শাস্তি দাবি করেছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার (২৯ মে) এক ভিডিও বার্তায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, লিবিয়া সরকারের কাছে অভিযুক্তদের বিচার করে শাস্তি দাবি করেছে বাংলাদেশ মিশন।

মর্মান্তিক এ ঘটনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী গভীর শোক প্রকাশ করেন ও আহতদের সুচিকিৎসার নিশ্চিত করতে দূতাবাসকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, লিবিয়া সরকারের কাছে নিহত ও আহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে বাংলাদেশ। যারা বেঁচে গেছেন তাদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীদের পরিচয় জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশের পাচারকারীর তথ্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে যেন তাদের আইনের আওতায় আনা যায়।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিজদাহতে ২৬ বাংলাদেশিকে লিবিয়ান মিলিশিয়া বাহিনী গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গেছেন ১১ বাংলাদেশি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এদের মধ্যে ১১ জন বাংলাদেশি জীবিত রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫ জন আহত ও তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের শরীর থেকে গুলি বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পুরো ঘটনার তদন্তসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার, দোষীদের যথাযথ শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।

এর প্রেক্ষিতে, লিবিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিজদাহের সুরক্ষা বিভাগকে অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং তাদের বিচারের আওতায় আনার জন্য সমস্ত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে।

উল্লেখ্য যে, মিজদাহ শহরে এখন যুদ্ধাবস্হা বিরাজমান এবং এ অঞ্চলটি এখন দুটি শক্তিশালী পক্ষের যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে। কিছুদিন আগে ত্রিপোলি ভিত্তিক এবং ইউএন সমর্থিত জিএনএ সরকার এই অঞ্চলটি দখল করে নিলেও জেনারেল হাফতারের নেতৃত্বাধীন পূর্ব ভিত্তিক সরকারি বাহিনী দু’দিন আগেও শহরটিতে বোমাবর্ষণ করেছে।

ত্রিপোলি ভিত্তিক সরকারের এ অঞ্চলের ওপর নিয়ন্ত্রণ ছিল অত্যন্ত ক্ষীণ। বর্তমানে এমনকি ত্রিপোলি শহরেও বিরোধীপক্ষ মাঝে মাঝে বোমাবর্ষণ করে থাকে। দু’টি শক্তিশালী পক্ষ যুদ্ধরত থাকায় জীবনযাত্রা স্বাভাবিক নয়। এ কারণে অধিকাংশ দেশ তাদের দূতাবাস তিউনিসিয়াতে স্থানান্তর করলেও বাংলাদেশসহ মাত্র তিনটি দেশ তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

আপনার মতামত লিখুন :