লিবিয়ায় স্বপ্নের সমাধি যশোরের রাকিবের

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, যশোর
রাকিবুল ইসলাম রাকিব, ছবি: সংগৃহীত

রাকিবুল ইসলাম রাকিব, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

লিবিয়ায় মানব পাচারকারীদের হাতে ২৬ বাংলাদেশি নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে যশোরের ছেলে রাকিবুল ইসলাম রাকিব (১৮) নামেও এক যুবক রয়েছে। নিহত রাকিবুল যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের খাটবাড়িয়া গ্রামের ইসরাফিল হোসেন ওরফে জনকির ছেলে। রাকিব চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি লিবিয়ায় পাড়ি জমান।

সম্পত্তি ও জমানো টাকা খরচ করে তাকে বিদেশ পাঠানো হয়েছিল। এখন সন্তান ও সম্পত্তি দুই-ই হারিয়ে রাকিবের পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা। তার পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

শুক্রবার (২৯ মে) রাতে লিবিয়ায় মানব পাচারকারীদের হাতে নিহত রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নিহতের ঘটনার সত্যতা বার্তা২৪.কমকে নিশ্চিত করেছেন তার চাচাতো ভাই ফিরোজ হোসেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাকিবুল যশোর সরকারি সিটি কলেজে অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল। রাকিবুলের চাচাতো ভাই লিবিয়া প্রবাসী। ওই ভাই লিবিয়ায় থাকা এক বাংলাদেশি দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাকিবুলকে লিবিয়ায় নিয়ে যান। চার মাস আগে সাড়ে চার লাখ টাকা খরচ করে রাকিবুলকে লিবিয়ায় পাঠান পরিবারের লোকজন।

চার ভাইবোনের মধ্যে রাকিবুল সবার ছোট। তার মৃত্যুর খবরে মা-বাবা, ভাই-বোন শোকে পাথর হয়ে গেছেন।

চাচাতো ভাই ফিরোজ হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, দালালের মাধ্যমে রাকিবুল পাড়ি দেন লিবিয়ায়। কিন্তু দালালচক্র লিবিয়ার একটি শহরে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন শুরু করে। পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুঠোফোনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরিবারের লোকজন টাকা দিতে রাজিও হন। এরই মধ্যে খবর এলো দালাল চক্র রাকিবুলকে গুলি করে হত্যা করেছে।

লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় মিজদা শহরে বৃহস্পতিবার ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ অভিবাসীকে খুন করা হয়। তাদেরই একজন এই রাকিবুল। ভালো কাজের জন্য দালালের মাধ্যমে তাকে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। কিন্তু শুরু থেকেই দালালেরা তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে থাকে। পরে তাকে আটকে রেখে ১৭ মে মুঠোফোনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ওই টাকা দুবাই থেকে তারা নিতে চায়। ভাইয়ের মুক্তির জন্য ওই টাকা দিতে রাজিও হয়েছিলেন তারা। ১ জুন পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে সময় নিয়েছিলেন। কিন্তু এর মধ্যে কী হয়ে গেল কিছুই বুঝতে পারছেন না। তার চাচাতো ভাই রাতে লিবিয়া থেকে ফোন করে জানিয়েছেন, ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, তার মধ্যে রাকিবুলও রয়েছেন। আমরা এখন কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না। লাশ কবে দেশে আসবে, তাও জানি না।

শংকরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিছারউদ্দীন বার্তা২৪.কমকে বলেন, লিবিয়ায় মানব পাচারকারীদের হাতে ২৬ বাংলাদেশি নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে আমার শংকরপুর ইউনিয়নের খাটবাড়িয়া গ্রামের রাকিবুল নামে এক যুবক রয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক। আমরা আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত লাশ গ্রামে আনতে চাই।

আপনার মতামত লিখুন :