গণপরিবহনের ওপর নজর রাখবে পুলিশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে অর্ধেক আসন খালি রাখাসহ ১১ শর্তে আগামী সোমবার (১ জুন) থেকে নগর পরিবহন ও দূরপাল্লার বাস চলাচল করবে।

সী‌মিত প‌রিস‌রে গণপ‌রিবহন চলাচলের সময় করোনা থেকে সুরক্ষায় ও আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর থাকবে। যেন কোনোভাবেই কেউ স্বাস্থ্যবিধি এড়িয়ে না চলতে পারে।

পুলিশ সদর দফতর বলছে, করোনাকালীন পুলিশের দায়িত্ব কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছিল। ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ও ক্রাইম ম্যানেজমেন্টের ওই অর্থে কাজ করার সুযোগ ছিল না। তবে গণপরিবহন খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের এই দুই বিভাগ আবারও কাজ শুরু করবে। এই ক্ষেত্রে নতুন কিছু দায়িত্ব ও দিকনির্দেশনাসহ ঢেলে সাজানো হবে বিভাগগুলোকে। লক্ষ্য থাকবে জনগণ ও পরিবহনে চলাফেরা করা মানুষের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলানো।

এদিকে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন পরিচালনার শর্ত নির্ধারণে শুক্রবার (২৯ মে) বনানীতে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রধান কার্যালয়ে সভা হয়। এতে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় ১১টি শর্ত নির্ধারণ করা হলেও সেগুলো মেনে বাস চালানো আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বাস মালিক ও চালকরাই মনে করছেন, বিশেষ করে ঢাকা শহরের অভ্যন্তরীণ রুটের বাসে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা অসম্ভব। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক পরিবহন নেতারা বলেছেন, মাস্ক পরা ছাড়া আর একটি শর্তও বাস্তবে মানা সম্ভব হবে না।

তবে পুলিশ বলছে, শর্তের বাইরে খেয়ালখুশি মতো রাস্তায় চলতে পারবে না কোনো গণপরিবহন। এক্ষেত্রে পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো তৎপর থাকবে এবং তাদের ওপরে কড়া দৃষ্টি রাখবে।

কোনোভাবেই যেন অবহেলা জনিত কারণে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে না পড়ে। সে বিষয়ের প্রতি নজর রাখবে পুলিশ।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি সোহেল রানা বার্তা২৪.কম-কে বলেন, এটা সত্য যে গণপরিবহন চালু হওয়ার পর সাধারণ মানুষ ও গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথ মেনে চালানো অনেক চ্যালেঞ্জিং হয়ে যাবে। তবুও পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। সরকার কর্তৃক যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা যেন সবাই মেনে চলে। তবে সর্বোপরি জনসাধারণের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।

শ্যামলী এন আর পরিবহনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাকেশ ঘোষ বার্তা২৪.কম-কে বলেন, আগামী ১ জুন থেকে আমরা দূরপাল্লার বাস চালাবো। তার জন্য এরই মধ্যে বাসগুলোকে প্রস্তুত করা হয়েছে। একইসাথে বাসের ড্রাইভার, হেলপার এবং সুপারভাইজার সকলের সুরক্ষার জন্য মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ সকল সামগ্রী সরবরাহ করা হবে । স্বাস্থ্যবিধি মেনে গাড়িতে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে আমরা গন্তব্যে বাস ছাড়বো।

করোনার বিস্তার রোধে গত ২৫ মার্চ থেকে বাস, লঞ্চ, ট্রেনসহ সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। আগামী সোমবার থেকে আবার গণপরিবহন চালু হচ্ছে। তবে সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, সীমিত আকারে এ কার্যক্রম চলবে।

বিআরটিএর এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বাস টার্মিনালে ভিড় করা যাবে না, তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে লাইন ধরে টিকিট কাটতে হবে, বাসে ওঠার আগে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা ও হাত ধুতে হবে, বাসে স্যানিটাইজার রাখতে হবে, দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়া যাবে না, ৫০ ভাগ আসন ফাঁকা রাখতে হবে, চালক-শ্রমিক ও যাত্রীকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে, যাত্রার আগে ও পরে বাস জীবাণুমুক্ত করতে হবে, চালক-শ্রমিককে একটানা ডিউটি দেওয়া যাবে না, মহাসড়কে বিরতি দেওয়া যাবে না এবং মালপত্র জীবাণুমুক্ত করতে হবে এমন শর্তেই গাড়ি চলবে।

আপনার মতামত লিখুন :