১৫ দিন ছুটি বাড়ানোর পরামর্শ নাগরিক প্ল্যাটফর্মের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আলোচনায় বক্তারা

নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আলোচনায় বক্তারা

  • Font increase
  • Font Decrease

সাধারণ ছুটি পুরোপুরি শিথিল করায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা জানিয়ে আরও ১৫ দিন লকডাউনের সময় বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের বক্তারা। একইসঙ্গে জোন ভিত্তিক লকডাউন খুলে দিয়ে ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যেতে পারে। এছাড়া হাসপাতালগুলোতে রেড, গ্রিন ও ইয়েলো জোন করার ব্যবস্থা করা জরুরি বলেও মনে করছেন তারা।

সোমবার (১ জুন) বেলা ১১টায় 'সাধারণ ছুটি পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি' শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনায় বক্তারা এসব পরামর্শ দেন।

আলোচনায় নাগরিক প্লাটফর্মের বক্তারা বলেন, বর্তমানে সমন্বয়হীনতার অনেক অভাব। তাই বৈশ্বিক এই মহামারির সময় সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এছাড়া ট্রান্সমিশন ব্রেক করার জন্য শতভাগ মানুষকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। সেজন্য সরকারিভাবে মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার ফ্রি করে দেওয়া উচিত। সচেতনতা বাড়াতে বেসরকারি সংস্থাসহ কমিউনিটি এনগেজ করতে হবে।

মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়ও জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

বক্তারা আরও বলেন, প্রজ্ঞাপন জারি হবার পরও দেশের সব হাসপাতালে কোভিড-১৯ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। সেদিকে নজরদারি বাড়াতে হবে এবং হাইপ্রো অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতে হবে সবখানে। এছাড়া কমিউনিটি হেলথ সেন্টারগুলোকে সচল রাখা, টেস্টিং ক্যাপাসিটি ১০-২০ হাজার করা, মাস্ক ব্যবহার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে।

নারীদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার পরামর্শ দিয়ে বক্তারা বলেন, গর্ভবতী মায়েদের টেস্টের আওতায় আনতে হবে। করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়ার পর হোম ডেলিভারির সংখ্যা বেড়ে গেছে। এতে মায়েদের মৃত্যু হার বাড়ছে। এর ফলে পরবর্তীতে ফিস্টুলা রোগে ভুগবেন তারা। সেদিকে নজরদারি বাড়াতে হবে। এছাড়া নারী গার্মেন্টস কর্মী এবং গ্রামের নারীদের ইমিউনিটি সিস্টেম অনেক কম। এদিকে মাত্র ৩৫ শতাংশ নারী মাস্ক ব্যবহার করছে। সেখানে পুরুষের সংখ্যা ৭০ শতাংশ। তাই নারীদের বেশি বেশি মাস্ক ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে হবে। শ্বাস নিতে সুবিধা হয় এমন মাস্ক ব্যবহারেরও পরামর্শ দেন তারা।

ভ্যাকসিন হাতে পেলে তা ব্যবহারের প্রস্তুতি গ্রহণ, রিচার্জ করে হাই ইমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট করা, গ্রামে গ্রামে করোনা কমিটি তৈরি, শিশু স্বাস্থ্য ঝুঁকি, সচেতনতা বৃদ্ধি, সাইন্টিফিক অ্যাডভাইজরি গ্রুপ তৈরির দিকেও আলোকপাত করেন তারা।

ওয়াটারএইড দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ড. খায়রুল ইসলামের সঞ্চালনায় সংলাপে এসডিজি প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) ফেলো, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ডাক্তার রওশন আরা বেগম, ভ্যাকসিনোলজিস্ট ডাক্তার ফেরদৌসী কাদরী, ডাক্তার আবু জামিল, ডাক্তার লেনিন, ডাক্তার দিবালোক সিংহ, ব্র্যাকের স্বাস্থ্য কর্মসূচির পরিচালক ডাক্তার মোর্শেদা চৌধুরী, ডেভলপমেন্ট রেজোন্যান্স লিমিটেডের চিফ এক্সিকিউটিভ নাজমি সাবিনা, সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্ত, যুব প্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি, ব্যক্তিখাতের উদ্যোক্তা, সমাজকর্মী, পেশাজীবীসহ অনেকেই যুক্ত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :