কোভিড-১৯ মহামারিতে খাদ্য চাহিদা মেটাতে সরকারের আরও উদ্যোগ প্রয়োজন

নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

‘কোভিড-১৯ মহামারিতে খাদ্য চাহিদা মেটাতে সরকারের আরও বেশি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি জনগণকেও হার্ড ইমিউন সিস্টেম তৈরি ও বিকাশে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।’ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির যৌথ সমীক্ষায় উঠে এসেছে।

সোমবার (১ জুন) বেলা ১২টায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুর-এর ঢাকাস্থ লিয়াজোঁ অফিসে ‘পুষ্টি ও সুষম খাদ্য’ সম্পর্কিত একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ড. ওয়াজেদ রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং ইন্সটিটিউট, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর ও ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটি, অস্ট্রেলিয়া কর্তৃক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

করোনাভাইরাস মহামারি সারাবিশ্বে ক্রমবর্ধমানভাবে ছড়িয়ে পড়ার ফলে এটি সাধারণ জনগণের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রোটিনজনিত অপুষ্টি এবং সুষম খাদ্যের ঘাটতিগুলো অনিবার্যভাবে মানবদেহে মারাত্মক রোগের সৃষ্টি এবং মৃত্যুর পরিমাণকে ধীরে ধীরে বাড়িয়ে তুলেছে। পরিমাণ, গুণমান এবং সুরক্ষার দিক থেকে সমগ্র জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক পুষ্টির চাহিদা বজায় রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য সরবরাহ প্রয়োজন। এ প্রতিষ্ঠান দুইটির এবারের গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল করোনাভাইরাস মহামারিজনিত সময়ে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে পুষ্টি এবং সুষমখাদ্যজনিত জ্ঞাননির্ভর বিভিন্ন স্তর অনুসন্ধান করা।

এ গবেষণাটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে একটি ক্রস-সেকশনাল সমীক্ষা পরিচালনা করে যা ড. ওয়াজেদ রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং ইন্সটিটিউট, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এবং স্কুল অব হেলথ সায়েন্সেস, ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়া দ্বারা পরিচালিত হয়। ২০২০ সালের এপ্রিল এবং মে মাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে লকডাউন চলাকালীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সংমিশ্রিত এবং স্বপ্রণোদিত অনলাইন জরিপ পরিচালনা করা হয় যেখানে ১১ হাজার ২৩২ জন উত্তরদাতা প্রশ্নপত্র যথাযথভাবে সম্পন্ন করেন।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায় যে, ১১ হাজার ২৩২ জন উত্তরদাতাদের মধ্যে পুরুষ (৫১ শতাংশ), মহিলা (৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ) এবং অন্যান্য (১ দশমিক ৩ শতাংশ)। এছাড়া ৩৫ দশমিক ৪ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ২৮ বছরের মধ্যে এবং ৬৬ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা বিভিন্ন ধরনের পূর্ণকালীন চাকুরিতে নিযুক্ত ছিলেন। সামগ্রিকভাবে দেখা যায় যে, উত্তরদাতাদের ৭৯ দশমিক ২ শতাংশ পরিবারের সাথে অবস্থান করছেন। ১১ হাজার ২২২ জন উত্তরদাতাদের মধ্যে ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ বলেছেন, তাদের করোনাভাইরাস সম্পর্কে ভাল জ্ঞান রয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে ৬৪ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা দাবি করেছেন, তারা করোনাভাইরাসকে কীভাবে প্রতিরোধ করবেন সে সম্পর্কে তাদের জ্ঞান খুবই সীমিত। যখন ভারসাম্যযুক্ত খাবারের জ্ঞান সম্পর্কিত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো তখন ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতাদের উত্তর ছিল ইতিবাচক। তবে সমীক্ষার সুষম ডায়েটের মূল উপাদানগুলো সম্পর্কিত জরিপ প্রশ্নটির ক্ষেত্রে উত্তরদাতাদের জ্ঞান ভিন্ন রকম ছিল। এ ফলাফলের ভিত্তিতে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, জনগণ সুষম খাবার কী তা জানেন। তবে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভাল সুষম ডায়েটের উপাদানগুলো কি কি তা জানার জন্য আরও উদ্যোগের প্রয়োজন। এছাড়াও, আমরা জানি লকডাউন/কোয়ারেন্টাইন চলাকালীন পুষ্টির বিষয়ক বিভিন্ন গাইডলাইন সরবরাহ করেছিলো, কিন্তু সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে ৮৩ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা এই নির্দেশিকা সম্পর্কে অবগত নন।

সুতরাং, এই ফলাফলের ভিত্তিতে আমরা বলতে পারি, নীতিনির্ধারকদের এই মহামারি চলাকালীন জনগণের মধ্যে পুষ্টি সম্পর্কিত জ্ঞান কীভাবে বৃদ্ধি করা যায় সে বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। উত্তরদাতাদের মধ্যে, যথাক্রমে ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ৮১ দশমিক ১ শতাংশ স্বীকার করেন, একটি সুষম ডায়েট এবং পরিপূরক খাবার গ্রহণ স্বাস্থ্যকর এবং হার্ড ইমিউন সিস্টেমের বিকাশ ঘটাবে যা কোভিড-১৯ এর মতো দীর্ঘস্থায়ী সংক্রামক রোগের ঝুঁকি হ্রাস করবে। সমীক্ষায় আরও দেখা গিয়েছে ৫১ দশমিক ১ শতাংশ উত্তরদাতা এই কোভিড-১৯ মহামারিতে জাতীয় সংকটে খাদ্য চাহিদা মেটাতে সরকারকে পরিপূরক খাদ্য সরবরাহের প্রতি নজর দিতে সুপারিশ করেছেন।

এই গবেষণা থেকে, পরিশেষে এটা বলা যায় যে জনগণের মধ্যে সুষম খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপূরক খাবারের ক্ষেত্রে জ্ঞানের স্তরে বিভিন্ন মানদণ্ড পরিলক্ষিত হয়। তবে সরকার এবং অন্যান্য সংস্থা কর্তৃক আরও বেশি উদ্যোগ নিতে হবে যাতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পর্কে জনগণকে জানানো ও সচেতন করা যায় এবং যার ভিত্তিতে হার্ড ইমিউন সিস্টেম তৈরি ও বিকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ বর্তমান কোভিড-১৯ মহামারির মতো সংকটের বিরুদ্ধে লড়তে পারে।

এ গবেষণাটির চিফ ইনভেস্টিগেটর ছিলেন বেরোবি’র ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও এবং কো-ইনভেস্টিগেটর ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার এন্ড টেকনোলজি’র সহযোগী অধ্যাপক. ড. তানভীর আবির এবং ড. কিংস্লে এগো (সিনিয়র লেকচারার, স্কুল অব হেলথ সায়েন্স, ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়া)। রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, দেওয়ান মুহাম্মদ নূর-এ ইয়াজদানি, সহকারী অধ্যাপক, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার এন্ড টেকনোলজি ও মোহাম্মদ হাবিবুরর হমান, এমফিল, রিসার্চ ফেলো, ড.ওয়াজেদ রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।

আপনার মতামত লিখুন :