কুষ্টিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে মাদ্রাজি ওলকচু

এস এম জামাল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
উপজেলায় ১০ হেক্টর জমিতে ওল চাষ হয়েছে/ছবি: বার্তা২৪.কম

উপজেলায় ১০ হেক্টর জমিতে ওল চাষ হয়েছে/ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

গত কয়েকবছর ধরে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন উপজেলায় দেশি ওলের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে মাদ্রাজি ওলকচু। পতিত ও বেলে দোঁ-আশ মাটিতে এই মাদ্রাজি ওলকচুর চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। ফলে, প্রতিবছর এই মাদ্রাজি ওলকচু চাষিদের কাছে এখন খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাজারে চাহিদার পাশাপাশি এর দামও ভাল।

মাদ্রাজি জাতের এই ওলকচু চাষে বিঘাপ্রতি ৩০-৪০ হাজার টাকা খরচ করে লক্ষাধিক টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। অতি নরম ও সুস্বাদু হওয়ায় ক্রেতারাও ঝুঁকছেন মাদ্রাজি এই ওলের প্রতি। তাই দিন দিন বাড়ছে এর কদর। এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় প্রতিটি গাছ থেকে ৮-২০ কেজি পর্যন্ত ওলের ফলন পেতে পারে বলে জানিয়েছেন কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মিরপুর উপজেলার মালিহাদ ইউনিয়নের আবুরী গ্রামের মাঠপাড়া এলাকায় দুই বিঘা মাদ্রাজি ওলকচু চাষ করেছেন কৃষকের নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শে এর আগের বছরও এক বিঘা জমিতে এই ওল রোপন করেছিলাম। লাভও বেশি পেয়েছিলাম। তাই এবার দুই বিঘা জমিতে এই ওল রোপন করেছি। আর কয়েকমাস পরেই এই ওল উত্তোলন করা হবে।

মাদ্রাজি ওলকচু চাষি আব্দুল আলিম 

আরেক কৃষক আব্দুল আলিম জানান, একবিঘা জমিতে ওলচাষ করতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে। ফলন ভালো হলে সেখান থেকে ১৪০ থেকে ১৫০ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। বিক্রি করে এক লাখ টাকার উপরে লাভ পাওয়া সম্ভব।

উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী ফিরোজ আল মামুন বার্তা২৪.কমকে বলেন, বেশি লাভের ফলে ওলচাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছে কৃষকরা। মিরপুর জেলায় ওলচাষ এখন অর্থকরী ফসলে রূপ নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ওল চাষের পাশাপাশি ওলের বীজও উৎপাদন করেও আরও বেশি লাভের মুখ চোখে দেখছেন কৃষকরা। এর বীজ বিক্রি করলে লাভ হয়। এক হাজার টাকা মণ ওলের বীজ বিক্রি হয়। ফলে এটি বর্তমানে এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। আগামীতে এ ফসলের চাষটি আরও বাড়বে বলেও যোগ করেন তারা।

মিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রমেশ চন্দ্র ঘোষ বার্তা২৪.কমকে বলেন, এই ওল চাষ সম্প্রসারণে আমরা কৃষকদের উৎসাহিত ও উদ্বুদ্ধকরণের চেষ্টা করছি ও নানাভাবে পরামর্শ দিচ্ছি। মাদ্রাজি ওল চাষে লাভ বেশি হওয়ায় উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে এই ওল চাষ। এ বছর উপজেলায় ১০ হেক্টর জমিতে ওল চাষ হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :