বগুড়ায় ভরাট হওয়া খালের ওপর বিএডিসির ব্রিজ নির্মাণ!

গনেশ দাস,স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,বার্তা ২৪.কম,বগুড়া
বগুড়ায় ভরাট হওয়া খালের ওপর বিএডিসির ব্রিজ নির্মাণ!

বগুড়ায় ভরাট হওয়া খালের ওপর বিএডিসির ব্রিজ নির্মাণ!

  • Font increase
  • Font Decrease

 

ভরাট হয়ে যাওয়া মানস খালের ওপর সাড়ে ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা ব্রিজ জনগণের কোন কাজে আসছে না। দুই বছর আগে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এর সেচ বিভাগ সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের রৌহদহ গ্রামে এই ব্রিজটি নির্মাণ করে।

বিএডিসি কর্তৃপক্ষ বলছেন, রাজনৈতিক সুপারিশে ওই ব্রিজটি টেন্ডারের মাধ্যমে করতে হয়েছে। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় তা জনগণের কোন কাজে আসছে না।

বিএডিসি সুত্রে জানা গেছে, বৃহত্তর বগুড়া-দিনাজপুর জেলার ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের  আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে সারিয়াকান্দি উপজেলায় চারটি মাঝারি আকারের হাইড্রলিক স্ট্রাকচার (ব্রিজ) নির্মাণ করা হয়।  সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের কড়িতলা বাজারের অদুরে রৌহদহ নামক স্থানে একটি, ছাইহাটায় সুখদহ শাখা খালে একটি, সীমাকোলা খালের উপর একটি এবং হাট শেরপুরে মরা বাঙালি খালের ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি ব্রিজের নির্মাণ ব্যয় সাড়ে ১৪ লাখ টাকা করে প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়।

খালের এপার থেকে ওপারে যাতায়াত বিশেষ করে কৃষিপণ্য ও কৃষকের ফসল পারাপারে সুবিধার্থে বিএডিসি ব্রিজগুলো নির্মাণ করে। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় এই ব্রিজগুলো কোন কাজেই আসছে না। তিনটি ব্রিজ খালের ওপর নির্মাণ করা হলেও কামালপুর ইউনিয়নে রৌহদহ এলাকায় যেখানে ব্রিজটি করা হয়েছে সেখানে মানস খালের কোন অস্তিত্ব নেই।

স্থানীয়রা জানান, রৌহদহ গ্রাম ঘেঁষে বছর পাঁচেক আগে যমুনা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। আর তখন থেকেই মানস খালের পুর্ব দিকের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মানস খাল মানচিত্রে থাকলে বাস্তবে রৌহদহ গ্রামে নেই। খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেখানে এখন বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ হয়। আর বর্ষাকালে পানিতে টইটম্বুর হওয়ায় চলাচলের জন্য নৌকা ছাড়া আর কোন পথ থাকে না। এ কারণে ব্রিজটি বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে জনগণের কোন কাজে আসছে না।

কামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান হেদায়তুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, নির্মাণের পর থেকেই ব্রিজটি পরিত্যক্ত রয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্রিজের দুই পার্শ্বে রাস্তা করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু গত জানুয়ারি মাসে তিনি মারা যাওয়ার পর সেখানে রাস্তা নির্মাণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

রৌহদহ গ্রামে নির্মাণ করা ব্রিজটি কোন কাজে আসছে না উল্লেখ করে বিএডিসি বগুড়ার সেচ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বার্তা২৪.কমকে বলেন, রাজনৈতিক সুপারিশে সেখানে ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। দুই পার্শ্বে রাস্তা নির্মাণ না করলে স্থানীয় জনগণ ব্রিজটি ব্যবহার করতে পারবেন না।

আপনার মতামত লিখুন :