আক্রান্ত দেখে ওয়ার্ড ভেদে কঠোর লকডাউন

শাহজাহান মোল্লা, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার দিন দিন বেড়েই চলছে। এই উর্ধ্বমুখীতার মধ্যেই টানা ৬৬ দিন বন্ধ থাকার পর গত ৩১ মে থেকে আস্তে আস্তে শিথিল হয়েছে লকডাউন। এদিকে শিথিল করার পর পরই লাফিয়ে লাফিয়ে আক্রান্তের হার বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে ভাবতে হচ্ছে সরকারকে।

কিভাবে এই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে তা নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় পড়েছেন সরকারের নীতি নির্ধারকরা। এ নিয়ে গত ১ জুন করোনাভাইরাস প্রতিরোধ বিষয়ে করণীয় সংক্রান্ত সমন্বয় সভা হয়েছে। সেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশনের মেয়রগণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, মেয়র তাদের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

সেই বৈঠক শেষেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও মৃতের হার অনুযায়ী সারা দেশকে রেড, গ্রিন ও ইয়োলো জোনে ভাগ করা হবে।

সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও বিভাগকে নিজেদের কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সিটি করপোরেশনগুলো নিজেদের মধ্যে করণীয় চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে। কিভাবে আরো কঠোর হয়ে করোনাভাইরাস আক্রান্তের হার নিয়ন্ত্রণ করা যায়-এসব আলোচনা হচ্ছে।

ওই সভায় এটিও উল্লেখ করা হয় যে আগামী ২০ দিন কঠিন সময়। যেহেতু অধিকাংশ অফিস, গণপরিবহন চালু রয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই মানুষের চলাফেরা বেড়ে যাওয়ায় আক্রান্তের হার অনেক বেড়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার চিন্তাভাবনা থেকেই এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এরইমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে ২৫ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে অফিস করতে হবে। এক্ষেত্রে যাদের প্রয়োজন রয়েছে তারাই শুধু অফিস করবে। প্রয়োজনে বিরতি দিয়ে দিয়ে অফিস করাতে হবে।

তাছাড়া যাদের এই মুহূর্তে ঢাকায় কাজ নেই তাদের ঢাকায় আসতে নিরুৎসাহিত করা হবে। কাজ নেই, কর্মের সন্ধানে বা বেড়াতে আসা লোকদের ঢাকায় ফিরতে নিরুৎসাহিত করা হবে।

সভায় যোগ দেওয়ার পর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, “আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে আক্রান্ত, মৃত্যুর হার বিবেচনা করে তিনটি ভাগে ভাগ করা। যদি কোন ওয়ার্ডে আক্রান্তের হার বেশি থাকে বা কেউ করোনায় মৃত্যুবরণ করে তাহলে ওই ওয়ার্ড রেড জোন করা হবে। ওই ওয়ার্ড থেকে কেউ বেরও হতে পারবে না আবার কেউ সেখানে যেতেও পারবে না। ঠিক টোলারবাগে যেভাবে করা হয়েছিল।”

সমন্বয় সভার পর বুধবার (০৩ জুন) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে কাউন্সিলরদের এ ধরণের মেসেজ দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ঠিক এই মুহূর্তে ঢাকায় যাদের কাজ নেই তাদের আসার দরকার নেই। চাকরি খোঁজার জন্য বা বেড়ানোর জন্য এখন আসতে হবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কারো বিনা কারণে ঢাকায় আসা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার নিয়ে অন্যান্য শহরেও একই বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। কোন এলাকায় গত ১৪ দিনে ৪০ জনের বেশি করোনা পজিটিভ রোগী থাকলে সেটা রেড জোন, আর ২০ জন থাকলে সেটা ইয়েলো জোন।ওয়ার্ড অনুযায়ী আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা জানার পর আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সহায়তা নিয়ে কাউন্সিলরদের লকডাউন নিশ্চিত করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :