যশোরে ঋণের কিস্তি আদায়ে এনজিওদের চাপ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, যশোর
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

‘জুনে কিস্তি নিলে লাইসেন্স বাতিল’- এমনই কড়াকড়ি হুঁশিয়ারি দিয়েছে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)। এমন কড়া সতর্কতার পরও যশোরে ক্ষুদ্র ঋণ আদায়ে এনজিও তৎপর রয়েছে। ফোনের মাধ্যমে ছাড়াও বাড়িতে এসে ঋণের কিস্তির তাগাদা দিচ্ছে এনজিও কর্মীরা। তাৎক্ষণিক দিতে অপারগতা জানালে পরের সপ্তাহ থেকে পরিশোধের জন্য বলা হচ্ছে। ঋণ গ্রহীতারা বলছেন, জোর জবরদস্তি না করলেও কিস্তির জন্য তাদের এক ধরনের চাপের ভেতর রাখছে বিভিন্ন এনজিও। অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সঙ্গে এনজিও কর্মীদের দুর্ব্যবহারেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, চলতি জুন মাসেও ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি না আদায়ের ব্যাপারে বিধিনিষেধ জারি করেছে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)। জুনে এনজিও ঋণের জন্য চাপ দিলে লাইসেন্স বাতিলের কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। কিন্তু এসব হুঁশিয়ারির তোয়াক্কা না করে ঋণ আদায়ে মাঠে নেমে পড়েছে অনেক এনজিও। যশোরের বিভিন্ন এলাকায় এনজিও কর্মীদের ঋণ আদায়ের এমন অপতৎপরতা নিয়ে মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ রয়েছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে করোনার এই দুর্দিনে এনজিওর ঋণ আদায়ের এমন তৎপরতা নিয়ে সমালোচনা চলছে। তারপরও এসবের কিছুই জানেন না যশোরের জেলা প্রশাসন।

তবে প্রশাসনের তরফ থেকে বলা হয়েছে, চাপ দিয়ে ঋণ আদায়ের বিষয়ে কোনো অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। মোবাইল ফোনে জেলার প্রশাসনিক প্রধান ডিসি মোহাম্মদ শফিউল আরিফের কাছে জানতে চাইলে তিনি বার্তা২৪.কম-কে বলেন, এখন পর্যন্ত এই ব্যাপারে কেউ কোনো অভিযোগ জানাননি। এরকম অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থ নেওয়া হবে।

ক্ষুদ্র ঋণের গ্রাহকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে অচলাবস্থার মধ্যে সব ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ ছিল। ফলে সঞ্চিত অর্থ থেকে দিনযাপন করার এক পর্যায়ে সেটিও শেষ হয়ে গেছে। তখন বাধ্য হয়ে তাদের অনেকে ব্যবসার মূলধন থেকে দিনাতিপাত করেছেন। এদিকে সবে অচলাবস্থা শিথিলের পর জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তারপরও ব্যবসার চাকা এখনও পরিপূর্ণরূপে সচল হয়নি। তাদের দাবি, পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় ব্যবসার অবস্থা ভালো না। আবার অনেকে এখনও নতুন করে ব্যবসা চালুও করতে পারেনি। তাই এমন পরিস্থিতিতে তাদের পক্ষে এখনই ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা সম্ভব না।

বুধবার (৩ জুন) যশোর শহরের রায়পাড়ায় ঋণের কিস্তি আদায়ে আসেন শক্তি ফাউন্ডেশনের কর্মীরা। এদিন গ্রাহকরা কিস্তি দিতে অপারগতা জানালে পরের সপ্তাহ থেকে পরিশোধের জন্য জোর তাগিদ দেওয়া হয়। শক্তি ফাউন্ডেশন থেকে ঋণ নিয়েছিলেন হেলেনা পারভীন নামে এক নারী। তিনি জানান, করোনার মধ্যে সব কিছু বন্ধ থাকায় সবারই এখন অর্থনেতিক অবস্থা খারাপ। এরপর আম্পানে বাড়িঘরের ক্ষতি হয়েছে। সেসব মেরামত করতে গিয়ে হাত শূন্য। সবে অচলাবস্থা কাটতে শুরু করেছে। ব্যবসাও ঠিকমতো চালু হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে পরের সপ্তাহ থেকে বাধ্যতামূলক কিস্তি দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

শক্তি ফাউন্ডেশন যশোর শহরের মাইকপট্টি ৬৪ নম্বর শাখার ব্যবস্থাপক সাধন কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, ঋণের কিস্তির জন্য তাদের প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের কোনো তাগাদা দেওয়া কিংবা কোনা ধরনের চাপ দেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে শহর এলাকার বাইরেও অনেক জায়গায় এনজিওর ঋণ আদায়ের তৎপরতার খবর পাওয়া গেছে। সদরের মনোহরপুর এলাকায় আদ-দ্বীন, হাশিমপুরে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন, চুড়ামনকাটিতে বন্ধু কল্যাণ ফাউন্ডেশন নামক এনজিও গ্রাহকদের ঋণের কিস্তির জন্য চাপ দিচ্ছে। এমনকি বন্ধু কল্যাণ ফাউন্ডেশন নামের এনজিওটি ঋণের কিস্তি আদায় এরই মধ্যে শুরু করে দিয়েছে।

সদরের এনায়েতপুর থেকে হাসি খাতুন জানান, তাকে ফোন করে আদ-দ্বীন এনজিও ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া বাঁচতে শেখার হুদারাজাপুর শাখা থেকেও ওই এলাকার গ্রাহকদের ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য ফোন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি গ্রামীণ ব্যাংকের যশোর, খাজুরা ও বাঘারপাড়া শাখা অফিস থেকেও ঋণের কিস্তির জন্য গ্রাহকদের ফোন করে তাগাদা দেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

আপনার মতামত লিখুন :