সরকার বাড়িয়েছে ৬০শতাংশ, হেলপার-চালক নিচ্ছে আরো বেশি

সাদিয়া কানিজ লিজা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
নগরীর রাস্তায় আবার সীমিত আকারে চলতে শুরু করেছে বাস, ছবি: বার্তা২৪.কম

নগরীর রাস্তায় আবার সীমিত আকারে চলতে শুরু করেছে বাস, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে প্রায় দুই মাস বন্ধ ছিল পরিবহন সেবা। রাস্তায় ঘুরেনি কোনো বাসের চাকা। সাধারণ ছুটি উঠিয়ে নেয়ায় নগরীর রাস্তায় আবার সীমিত আকারে চলতে শুরু করেছে বাস। সরকার বাস ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর নির্দেশও দিয়েছে। মেনে নিয়েছেন যাত্রীরাও। কিন্তু যাত্রীদের অভিযোগ, অনেক বাসেই নেয়া হচ্ছে ৬০ শতাংশের অধিক ভাড়া। আবার বাড়তি ভাড়া নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করছেন চালক-হেলপাররা।

এদিকে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি দেখা গিয়েছে বাসগুলোতে। চালক ও হেলপাররা তো মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করছেনই, যাত্রী উঠানোর আগে তাদের হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার স্প্রে করতেও দেখা গেছে।

বুধবার (৩ জুন) সাইন্সল্যাব, ফার্মগেট, ধানমন্ডি, আসাদগেট, পল্টন ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা বাসের চালক ও হেলপারদের স্বাস্থ্যবিধি মানার বারবার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। তারা জানিয়েছেন, গত দুই দিনের তুলনায় নগরীর রাস্তায় বাসের সংখ্যা বেড়েছে। বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে এখনো কেউ তেমন কোনো অভিযোগ করেনি।

যাত্রী উঠানোর আগে তাদের হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার স্প্রে করতেও দেখা গেছে

অফিসগামী ওরিয়ন গ্রুপের কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, করোনাভাইরাসের আগে থেকেই বাসের ভাড়া যা হবার কথা তার চেয়ে বেশি নেয় তারা। নতুন করে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধিতে তা আরো বেড়ে গেছে। সরকার যা বাড়িয়েছে তাই যদি আমরা দেই তাও কলেজ গেট থেকে ফার্মগেট এর ভাড়া ১৫ টাকা হওয়ার কথা, সেখানে তারা নিচ্ছে ২০ টাকা।

ফার্মগেট মোড়ে স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য মাইকিং করছিলেন জাহের মিয়া নামে এক ট্রাফিক পুলিশ। তিনি বলেন, গত দুই দিনের তুলনায় আজকে রাস্তায় বাস বেশি। সাথে কিছুটা বেড়েছে যাত্রীদের চাপ। তবে আমরা প্রতিনিয়তই চেষ্টা করছি তারা যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাসে যাত্রী উঠান।

যাত্রীরা আশংকা করছেন, এমনিতেই ভাড়া বেশি আদায় করা হচ্ছে। যদি এই ভাড়া করোনাকালীন সময়ের পরে না কমানো হয়, তবে বাড়তি ভাড়া জনসাধারণের মরার উপর খাড়ার ঘায়ের মতো হবে। এদিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।

রাস্তায় বেড়েছে গণপরিবহনের চাপ

রুহুল আমিন নামের এক অফিসগামী যাত্রী বলেন, যেহেতু স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুইজনের সিটে একজন বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেহেতু ৬০ শতাংশ বাড়তি ভাড়া এই করোনাকালীন সময়ে দিতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু ভবিষ্যতে যদি ভাড়া বাড়তিই থাকে, তাহলে আমাদের জন্য কিছুটা সমস্যা হবে। তাই আমরা চাই, পরে যেন ভাড়া আগের মতো করা হয়।

বিআরটিসি বাসের হেলপার জহুরুল ইসলাম বলেন, শুরুতে ৬০ শতাংশ বাড়তি ভাড়ার কথা বললে যাত্রীরা কিছুটা ঝামেলা করেছে। তাদেরকে বোঝানোই যাচ্ছে না। ৫ টাকার কোনো ভাড়া নেই। বিজয়সরনী থেকে বাংলামোটর আগে ১০ টাকা নেয়া হতো, সেখানে এখন ২০ টাকা নিচ্ছি।

স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য মাইকিং করছিলেন ট্রাফিক পুলিশ

অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে শ্যামলী এলাকায় দায়িত্বরত টিএসআই আতাবুল হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, 'বাড়তি ভাড়া নিয়ে এখনো কোনো ঝামেলা আমাদের চোখে পড়েনি। এ বিষয়ে এখনো কেউ অভিযোগও করেনি। অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিব'।

এর আগে ৩১ মে বাসের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চলাকালীন শর্ত সাপেক্ষে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাস চলাচল করতে পারবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :