চুরি করা দেখে ফেলায় আইনজীবীকে গলাকেটে হত্যা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
নিহত আইনজীবী ও ঘাতক/ছবি: বার্তা২৪.কম

নিহত আইনজীবী ও ঘাতক/ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রংপুরে চুরি করা দেখে ফেলায় আসাদুল হক (৬০) নামে এক সিনিয়র আইনজীবীকে ছুরিকাঘাত ও গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় রতন মিয়া নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৫ জুন) বেলা পৌনে দুইটার দিকে রংপুর নগরীর ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ধর্মদাস বারো আউলিয়া গ্রামে ওই আইনজীবীর বাড়িতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। নিহত আসাদুল হক রংপুর জজ কোর্টের প্রাক্তন সহকারি পাবলিক প্রসিকিউটর ও সিনিয়র আইনজীবী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি নিতে অজুর করার সময় রতন মিয়া ও তার সঙ্গীকে বাড়িতে চুরি করতে দেখে ফেলেন আইনজীবী আসাদুল হক। একারণে ওই যুবকরা আইনজীবীকে বাড়িতে একা পেয়ে তার পেটে ছুরিকাঘাত করে পরে গলাকেটে হত্যা করে। বাড়ির দেওয়াল টপকে পালানোর সময় স্থানীয় কয়েকজন মুসল্লি রতনকে হাতেনাতে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পরে পুলিশে খবর দেন।

আটক রতন মিয়া (২২) একই গ্রামের মৃত জাফর আলী ড্রাইভারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন মাদকসেবন, চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত বলে জানান স্থানীয়রা। এরআগে ওই আইনজীবীর বাড়িতে দুই-তিনবার চুরির ঘটনায় গ্রাম্য সালিশ বৈঠকে রতনকে সতর্ক করা হয়েছিল।

চুরি করা দেখে ফেলায় আইনজীবীকে গলাকেটে হত্যা, নিহতের বাড়ি/ছবি: বার্তা২৪.কম

নিহতের স্ত্রী সাবেরা রহমান শেফালী বলেন, করোনার কারণে আমি গ্রামের বাড়ি মিঠাপুকুরে ছিলাম। সেখান থেকে খবর পেয়ে এসে দেখি আসাদুলকে শহরের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা জবাই করে হত্যা করেছে। এর আগেও রতন মিয়া একাধিকবার চুরি করেছেন। কিন্তু গ্রাম্য বিচারে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এবার তার চুরি করা দেখে ফেলায় তিনি আমার স্বামীকে খুন করেছেন। আমি এই হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।

এদিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক যুবক হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে রংপুর মেট্রোপলিটন তাজহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ রোকোনুজ্জামান।

তিনি জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া চুরি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত রতনের অপর সহযোগীকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। 

এদিকে ওই ঘটনার খবর পেয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) শহীদুল্লাহ্ কাওছার, রংপুর বার সমিতির সভাপতি ও জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হক প্রামানিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ সময় পিপি আব্দুল মালেক এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, আমরা মর্মাহত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়। আগামী রোববার (৭ জুন) বার সমিতির সভা করে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :