করোনা ঝুঁকির কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে বরিশাল নগরী

জহির রায়হান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বরিশাল
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ছয় জেলার বিভাগীয় শহর বরিশাল মহানগরী। গোটা দক্ষিণাঞ্চলের সাথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরাসরি যোগাযোগের জন্য সড়ক, বিমান ও নৌপথে যাতায়াতের সব ধরণের ব্যবস্থা রয়েছে এই নগরীতে। রয়েছে দুইটি বৃহৎ বাস টার্মিনাল, একটি নদীবন্দর এবং নগরীর একটু বাইরে দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র বিমানবন্দর। এসব সড়ক, নৌ ও বিমান পথে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কয়েক হাজার যাত্রী যাতায়াত করে।

এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন বিভাগীয় প্রশাসনিক দফতর, শপিংমল, হকার্স মার্কেটসহ বিভিন্ন ব্রান্ডের দোকান, ডাক্তার চেম্বার, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং জেলা জজ আদালত। প্রতিদিন বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ কেনাকাটা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও মামলা পরিচালনা এবং চিকিৎসা নিতে আসেন এই নগরীতে। আর এতে বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের ঝুঁকি। ইতিমধ্যে বেড়ে চলছে আক্রান্তের সংখ্যাও।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত ৩১ মে দিন থেকে বরিশাল নগরীর উপর দিয়ে লঞ্চ টার্মিনালে কয়েক হাজার যাত্রীর সমাগম হয়েছে। ছিলো না সামাজিক দূরত্বের বালাই। স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই লঞ্চের ডেকে বসে ঢাকাসহ বিভিন্ন নৌ পথে চলাচল করছে যাত্রীরা।

স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই লঞ্চের ডেকে বসে বিভিন্ন নৌ পথে চলাচল করছে যাত্রীরা

এর আগে লকডাউনের মধ্যেও বিভিন্ন যানবাহনে করে বরিশালে নগরীর উপর দিয়ে যাতায়াত করেছে যাত্রীরা এবং নগরীতে বেচাকেনা করছে ক্রেতা-বিক্রেতারা। নগরীর কেন্দ্রীয় নথুল্লাবাদ ও রুপাতলী বাস টার্মিনালে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে কিছুটা সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে যাতায়াত করলেও মোটরসাইকেল, অটো ইজিবাইক, মাহেন্দ্রা, সিএনজিতে মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি। এছাড়াও শপিংমল, হকার্স মার্কেট, চকবাজার, সদর রোড, গীর্জামহল্লা, ফজলুল হক অ্যাভিনিউসহ বিভিন্ন দোকানে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল জেলায় গেল ১২ এপ্রিল থেকে শুরু করে ৪ জুন পর্যন্ত ৫৩২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এর মধ্যে শুধু বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় ৪১৬ জন রয়েছেন। বাকি ১১৬ জন জেলার ১০ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে কিছুটা সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে যাতায়াত করছে কয়েকটি পরিবহন

গত চারদিনে (১-৪ জুন) বরিশাল জেলায় ২১৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। যার চারভাগের তিনভাগই নগরীতে। জেলায় মোট আক্রান্তের মধ্যে চার জনের মৃত্যু হলেও করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৫৫ জন। এছাড়াও মোট আক্রান্তের মধ্যে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে চিকিৎসক, সেবিকা,পরিবার ও পরিকল্পনা পরিদর্শক, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এবং স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য সেবায় জড়িতসহ ৭২ জন এবং নগর পুলিশের ( বিএমপি) ৮২ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।

বরিশালের সিভিল সার্জন ডাক্তার মো. মনোয়ার হোসেন বার্তা২৪.কমকে জানান, করোনার বিস্তার রোধে নিজেদের সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মানার বিকল্প নেই।

বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বার্তা২৪.কমকে জানান, বরিশাল নগরী বিভাগীয় শহর হওয়ায় এখানে কেনাকাটা, চিকিৎসা সেবা, দাপ্তরিক কাজসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের চাপ সব সময়ই বেশি থাকে।

প্রশাসনের নির্দেশে জনসাধারণ যদি করোনার বিস্তার রোধে নিজে এবং পরিবারসহ সবাইকে নিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জীবন-ব্যবস্থা পরিচালনা করে তাহলেই করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা-ব্যক্ত করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :