মমেকের পিসিআর ল্যাবে রেকর্ড সংখ্যক নমুনা পরীক্ষা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর বাইরে একদিনে সর্বাধিক সংখ্যক ১ হাজার ২২২টি করোনার নমুনা পরীক্ষা করে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের (মমেক) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের আরটি (রিয়েল টাইম) পিসিআর ল্যাব।

রোববার (২৮ জুন) মমেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. চিত্তরঞ্জন দেবনাথ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মমেকের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের টিম অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশে রেকর্ড পরিমাণ নমুনার পরীক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন। মমেকে দুটি ল্যাবে স্থাপিত ৩টি আরটি পিসিআর মেশিনে শনিবার (২৭ জুন) ১২টি স্লটে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২২২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। যা সকাল ৯টা থেকে শুরু রাত ১২টা পর্যন্ত এই পরীক্ষার কাজ চলে।

তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত মোট ৩১ হাজার ৫৪৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়, এতে ৩ হাজার ১৩৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে । যা মোট নমুনার ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ করোনা পজিটিভ হয়েছে।

কেন্দ্রীয় বি.এম.এ করোনা মনিটরিং সেল ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রতিনিধি, জেলা বিএমএ সভাপতি প্রফেসর ডা. মতিউর রহমান ভূঁইয়া জানান, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের টিম নিরবচ্ছিন্ন কর্মতৎপরতার মাধ্যমে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। যা দুর্যোগকালীন সময়ে দেশ জাতির কাছে সেই সব করোনা যোদ্ধারা স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় পরিষদের ময়মনসিংহ বিভাগীয় করোনা মনিটরিং সেলের সমন্বয়ক ও বি.এম.এ ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. এইচ. এ. গোলন্দাজ তারা বলেন, মাত্র ৩টি মেশিন দিয়ে এতো সংখ্যক করোনার নমুনা পরীক্ষা বাংলাদেশের আর কোথাও হয়নি। মমেক অধ্যক্ষ ডা. চিত্তরঞ্জন দেবনাথের নেতৃত্বে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের টিম দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। করোনার নমুনা পরীক্ষায় পিসিআর ল্যাবের সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য ৫ জন সিনিয়র চৌকস অধ্যাপককে দায়িত্ব দিয়ে আরো প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন মমেক অধ্যক্ষ। একটি নতুন পিসিআর মেশিন বরাদ্দ এবং ময়মনসিংহে দেশের সর্বাধিক সংখ্যক করোনা পরীক্ষার উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টির জন্য তিনি ময়মনসিংহবাসীর পক্ষ থেকে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মহাসচিব ডা. এম এ আজিজের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

স্বাচিপ মহাসচিব অধ্যক্ষ ডা. এম. এ আজিজ বলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের (মমেক) আরটি পিসিআর ল্যাব এখন সারা বাংলাদেশে লিড দিচ্ছে। চমৎকার সমন্বয় ও আন্তরিক পরিবেশে নিরবচ্ছিন্ন সেবাদানের ফলে দেশসেরা করোনা পরীক্ষা কেন্দ্র এখন ময়মনসিংহ।

ময়মনসিংহ জেলায় নতুন করে আরও ৪৩ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা সিভিল সার্জন এবিএম মসিউল আলম জানিয়েছেন, শনিবার ময়মনসিংহ জেলার ৭০৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪৩ জনের। যেখানে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন ও সদরের ৩৩ জন, ত্রিশালে ৪ জন, গফরগাঁও ও ফুলবাড়ীয়ায় দুই জন করে এবং ভালুকা ও ঈশ্বরগঞ্জে একজন করে রয়েছেন।

এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত ১ হাজার ৬৫৬ জন, সুস্থ হয়েছেন ৬৬৮ জন এবং ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

‘দেশে ধ্বংসযজ্ঞে জড়িত বিএনপি-জামায়াত স্বাধীনতা বিরোধী চক্র’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশের শান্তি শৃঙ্খলা, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জালমাল বিনষ্টে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে বিএনপি-জামায়াত ও স্বাধীনতা বিরোধী চক্র।

স্বাধীনতা বিরোধীচক্রের দেশবিরোধী এসব কর্মকাণ্ডের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি (সুপ্রিম কোর্ট বার)।

সুপ্রিম কোর্ট বার মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সুপ্রিম কোর্ট বার। সংবাদ সম্মেলনে বার সম্পাদক শাহ মঞ্জুরুল হক দেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধ্বংসযজ্ঞের বিষয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন।

সম্পাদক বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বার কার্যকরী কমিটির এক জরুরি সভা গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যগণ স্বাধীনতা বিরোধী চক্র মৌলবাদী শক্তি সারাদেশে যে অরাজকতা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তার নিন্দা জ্ঞাপনের সিদ্ধান্ত নেয়।

শাহ মঞ্জুরুল হক বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা, রাষ্ট্রীয় সম্পদ জানমাল বিনষ্টে বিএনপি জামায়াত ও স্বাধীনতা বিরোধীচক্র সারাদেশে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এতে মেট্রোরেল, সেতু ভবন, ডাটা সেন্টার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও অসংখ্য রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করা হয়।

তিনি বলেন, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তারা দেশ ও জনগণের জানমালের ক্ষতি করে বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে তৎপর। দেশের জনগণ এই চক্রান্ত ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ।

সুপ্রিম কোর্ট বার সম্পাদক আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বার দেশের জনগণের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রীয় সম্পদ, আইনশৃঙ্খলা ও জনজীবন রক্ষায় বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, এই ধ্বংসযজ্ঞ ও সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও সাজা নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক সিনিয়র এডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রমজান আলী শিকদার, সহ-সভাপতি ড. দেওয়ান মো. আবু ওবাঈদ হোসেন সেতু, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ নূরুল হুদা আনছারী, সিনিয়র সহ-সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির, সহ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির পল্লব, সদস্য রাশেদুল হক খোকন উপস্থিত ছিলেন।

;

চুয়াডাঙ্গায় সাপের কামড়ে দুই কিশোরের মৃত্যু



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল/ছবি: বার্তা২৪.কম

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল/ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় বৃদ্ধি পেয়েছে সাপের প্রকোপ। গত এক রাতে সাপের কামড়ে মৃত্যু হয়েছে দুই কিশোরের।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সকালে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় তারা।

নিহতরা হলো- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ গ্রামের জয়দেব পালের ছেলে দেবাশীষ পাল (১৩) ও একই উপজেলার ভুলটিয়া গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে বাকপ্রতিবন্ধী রাজন হোসেন (১৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডিঙ্গেদহের দেবাশীষ পাল বুধবার রাতে তাদের শোবার ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। রাত আড়াইটার দিকে একটি বিষধর সাপ তার হাতে কামড় দেয়। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাকে ওঁঝা ও পরে সদর হাসপাতালে নেয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

অপরদিকে, একই রাতে সদর উপজেলার ভুলটিয়া গ্রামে বাকপ্রতিবন্ধী রাজন হোসেন (১৫) ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। রাত ৩টার দিকে একটি বিষধর সাপ তার নাকে কামড় দেয়। তাকেও প্রথমে ওঁঝার কাছে নিয়ে ঝাড়ফুঁক করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাজমুস সাকিব বলেন, সাপের কামড়ে দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সাপে কামড়ানোর পর অনেক দেরিতে তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা।

;

গণতন্ত্রে রাজনৈতিক সহিংসতার কোন স্থান নেই: শেখ তাপস



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস

  • Font increase
  • Font Decrease

গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নাশকতা ও সহিংসতার কোন স্থান নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ৩টায় সেগুনবাগিচা সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্রে ‘স্বাধীনতা বিরোধী দুষ্কৃতিকারীদের সাম্প্রতিক তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ সহায়তা’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ ফজলে নূর তাপস এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি, বিএনপি-জামায়াত চক্র ধ্বংসলীলা চালিয়ে, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য সৃষ্টি করে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উৎখাত করার অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্র করেছে। যার ফলে দেশের সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। তারা দেশের সম্পদ নষ্ট করেছে। তাদেরকে ঢাকাবাসী ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাচ্ছি। তারা গণতান্ত্রিক ধারা ভুলুণ্ঠিত করে সন্ত্রাসের পথ বেঁছে নিয়েছে। তাদেরকে গণতন্ত্রের ধারায় ফিরে আসার আহবান জানাই। গণতন্ত্রে রাজনৈতিক সহিংসতার কোন স্থান নেই। গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে না এলে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার জন্য তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকারকে অনুরোধ জানাই।

নাশকতার ধারা অব্যাহত রাখলে ভবিষ্যতে সহিংসতাকারী ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্টকারীদেরকে নির্মূল করা হবে বলে ঢাদসিক মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস হুঁশিয়ার দেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য আ.ফ.ম. বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসীরা রক্তের হোলি খেলায় মেতে উঠেছে। যে কারণে আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে কারফিউ জারি করা হয়েছে। যার ফলে মেহনতী মানুষ, দিনমজুর, সাধারণ মানুষের কষ্ট হচ্ছে। তাই, সাধারণ মানুষের কষ্ট নিবারণ করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

সকল অশুভ শক্তিকে ঐকবদ্ধভাবে মোকাবিলার ঘোষণা দিয়ে বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, সন্ত্রাসী বাহিনীকে প্রতিহত করতে গিয়ে আমাদের অনেক নেতা-কর্মী আহত হয়ে আইসিউতে আছে। তারা ট্রেনিং দিয়ে প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে ঢাকায় জড়ো করেছে। কিন্তু আমরা পরাজিত হইনি। আমরা সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করেছি। অচিরেই এদের খুঁজে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। সকল অশুভ শক্তিকে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মোকাবিলা করব, প্রতিহত করব।

২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। খাদ্য সামগ্রীতে ৫ কেজি চাল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার তেল ও ১ কেজি লবণ রয়েছে।

;

বিআরটিএ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে গ্রাহক



স্টাফ করেস্পন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি- বিআরটিএ

ছবি: সংগৃহীত, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি- বিআরটিএ

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় হামলা, ভাঙচুর, সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুরের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এ থেকে নিস্তার পায়নি রাজধানীর বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি-ও (বিআরটিএ)।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) এখানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন নাশকতাকারীরা। ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রতিষ্ঠানটি। এতে করে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবাগ্রহণকারীরা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে অবস্থিত বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-১ সার্কেল অফিসের সামনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রাহকদের ভিড়। মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন সেবা, ফিটনেস সেবা, লাইসেন্স বায়োমেট্রিক, ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত সেবা, মালিকানা বদলিসহ, ইঞ্জিন পরিবর্তন, ট্যাক্স টোকেন ইত্যাদি নেওয়ার জন্য গ্রাহকদের প্রচণ্ড ভিড়। কিন্তু অফিসের বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের কারণে সংরক্ষিত সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বন্ধ রয়েছে সব ধরনের সেবা প্রদান। এতে গ্রাহকেরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

ক্ষতিগ্রস্ত ঢাকার বিআরটিএ'র কার্যালয়, ছবি- সংগৃহীত


ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য বায়োমেট্রিক করাতে সাভার থেকে এসেছেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। বায়োমেট্রিকের শেষ তারিখ ২৫ জুলাই। কিন্তু সব ধরনের সেবা বন্ধ থাকায় বায়োমেট্রিক করাতে পারেননি তিনি।

রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকা থেকে সাদ্দাম হোসেন এসেছেন প্রাইভেটকার চালনার লাইসেন্স করাতে। বিআরটিএ থেকে তাকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত সময়সীমা দিয়েছে। কিন্তু দফায় দফায় সময় বাড়ানোর অভিযোগ করে সাদ্দাম হোসেন বলেন, আগুন লেগেছে আজ ১ সপ্তাহ। কিন্তু তারা আমাকে প্রায় বছরখানেক ধরে ঘোরাচ্ছে। সার্ভারে সমস্যা থাকলে ম্যানুয়ালি কোনো কাগজ দিক আমাদের! তাহলে সার্জেন্ট আটকালে আমরা তো সেটাও দেখাতে পারি। কিন্তু এখন তো কোনোকিছুই করতে পারছি না!

নারায়ণগঞ্জ থেকে সোহেল এসেছেন তার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করাতে। কিন্তু অনেক সময় ধরে দাঁড়িয়েও কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে পারেননি তিনি।

ডাটা সার্ভার নষ্ট বলে ব্যানার টানিয়ে তারা আর কিছু জানায় না বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ২০২১ থেকে এখন পর্যন্ত হাঁটছি। শুধু তারিখ বাড়ানোর সিল দেয় আর অপেক্ষা করতে বলে ‘সিলের পর সিল’ মারতেই থাকে। ৪ বছর ধরে ঘুরছি। আমরা গরিব মানুষ। সার্জেন্ট তো এসব দেখে না। কেস দিলেই ভোগান্তি!

এসব অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিতে বিআরটিএ’এর উপপরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হামলাকারীদের নাশকতায় আমাদের হেড অফিসের ডেটাসেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সে কারণে আমাদের অনলাইন সংক্রান্ত সব সেবা বন্ধ আছে। আমরা ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছি। তারা আলোচনা করছেন। যতদ্রুত সম্ভব, সার্ভার ঠিক করার প্রক্রিয়া চলছে। যাদের ১৬ জুলাই পর্যন্ত তারিখ দেওয়া আছে, তাদের ক্ষেত্রে ২ মাস সময় বৃদ্ধি করার ব্যবস্থা করা হবে।

;