বিএনপির এমপিদের বাজেট প্রত্যাখ্যান

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

২০২০-২১ অর্থ বছরের বাজেট গত মঙ্গলবার সংসদে পাস হয়। এটা জনগণের বাজেট নয় উল্লেখ করে এই বাজেট প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা।

বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদের মূল গেটের সামনে বাজেট প্রতিক্রিয়া নিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তারা।

সূচনা বক্তব্যে বিএনপির সিনিয়র সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, গত একশো বছরে পৃথিবীতে এই দুর্যোগে মহামারি আমরা দেখিনি। গতবার আমরা দেখেছি বাজেট পাশ হয়েছে। এই বাজেট জনগণকে ফাঁকি দেয়ার জন্য এই বাজেট। আমরা যারা মূল বিরোধী দল বিএনপির সংসদ সদস্য আছি, আমরা যাতে সংসদে এই বাজেট নিয়ে কথা না বলতে পারি, সমালোচনা করতে না পারি সেজন্য মাত্র একদিনের জন্য সাধারণ বাজেট আলোচনা করা হয়। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন আলোচনাবিহীন বাজেট কখনো পাশ হয় নাই। আজকে এই মহান সংসদের সামনে দাঁড়িয়ে বলছি, আমরা জনগণের পক্ষে এই বাজেট প্রত্যাখ্যান করছি।

বিএনপির আরেক সাংসদ হারুনুর রশীদ বলেন, বিএনপির সাংসদদের মধ্যে আমাকে সংসদে খুব অল্প সময়ের জন্য বাজেট বক্তৃতায় কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। এই বাজেটের বক্তৃতায় এক পর্যায়ে স্পীকার আমার মাইক বন্ধ করে দিয়েছেন। আমরা বাজেট ঘোষণার আগে একটা প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে, এই বাজেট অধিবেশন ভার্চুয়াল করার জন্য কিন্তু সেটা করা হয়নি। আমাদের সাংসদদের এই বাজেট প্রতিক্রিয়া নিয়ে কথা বলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমরা শুধু এটুকু বলতে চাই, যারা মহাজোটের শরীক তারাই বিরোধী দলে অংশগ্রহণ করছে। তার ফলে জনগণের যে সংকট সেটি সত্যিকার অর্থে সংসদে প্রতিফলিত হচ্ছে না।

লিখিত বক্তব্যে বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, বাজেট অধিবেশন সংসদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন। এই অধিবেশনে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে বাজেটের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ জাতির স্বার্থেই খুব জরুরি। করোনাকালীন স্বাস্থঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে এবারের বাজেট অধিবেশন অতি সংক্ষিপ্ত করতে চেয়েছে সরকার। কিন্তু আমাদের পক্ষ থেকে এই অধিবেশন ডিজিটাল বা ভার্চুয়ালি করার প্রস্তাব দিলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। গত ১৫ই জুন অনির্ধারিতভাবে ২৩ জুন পর্যন্ত বর্তমান অধিবেশন মুলতবি করে মাত্র এক দিন (২৩ জুন) বাজেটের সাধারণ আলোচনা করা হয়েছে। এটা অকল্পনীয়। আমাদের বিশ্বাস করোনার মতো ভয়ঙ্কর একটা সংকটে যে যাচ্ছেতাই বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে, সেটার সমালোচনা এড়ানোর জন্যই অধিবেশন সংক্ষিপ্ত করে তড়িঘড়ি করে শেষ করতে চেয়েছে সরকার।

করোনাকালীন বাজেট হওয়ায় করোনার সঙ্গে খুব সরাসরি জড়িত কয়েকটি খাত নিয়ে বিএনপির এই সাংসদ বলেন, স্বাস্থ্যখাতের বেহাল অবস্থার কথা আমরা জানতাম, কিন্তু করোনা এটাকে যাচ্ছেতাই ভাবে প্রকাশ্য করেছে। স্বল্পমেয়াদে করোনা মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কর্মী নিয়োগের কোন রূপরেখা বাজেটে নেই। স্বাস্থ্যখাতে যে বরাদ্দ দিয়েছে এটা দিয়ে বর্তমান সংকট এবং ‘লকডাউন’ খুলে দেবার কারণে সামনের দিনগুলোতে যে ভয়ঙ্কর অবস্থা তৈরি হতে যাচ্ছে সেটা কোনোভাবেই মোকাবিলা করা যাবে না। করোনার কারণে দেশের দারিদ্রসীমার নীচে মানুষের সংখ্যা যখন দ্বিগুণের বেশি হয়ে গেছে তখন আগের বছরের বৃদ্ধির চাইতে মাত্র ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বৃদ্ধি কোনোভাবেই সংকট মোকাবিলা করতে পারবে না। এই তুচ্ছ বরাদ্দ দেশকে এক দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দেবে।

বিএনপির এই সাংসদ বলেন, এই বাজেট করোনার সময়ে বীভৎস স্বাস্থ্য সংকটে পড়া মানুষের নাভিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবার বাজেট, এই বাজেট করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া কোটি কোটি অনাহারী মানুষকে দুর্ভিক্ষের মধ্যে ঠেলে দেয়ার বাজেট, এই বাজেট কৃষিকে ধ্বংস করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে ফেলার বাজেট, এই বাজেট দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার না করে আরও গভীর মন্দায় ফেলে দেয়ার বাজেট, এই বাজেট দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে ফেলার বাজেট, এই বাজেট দেশের কর্মক্ষম বেকার মানুষকে এবং নতুন করে বেকার হওয়া মানুষকে বেকার রেখে দেয়ার বাজেট, সর্বোপরি এই বাজেট রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটকারীদের আরও সুযোগ বৃদ্ধির বাজেট। একটা অনির্বাচিত, জনগণের কাছে ন্যূনতম জবাবদিহিতাহীন, আমলাচালিত, ক্রোনি ক্যাপিটালিস্ট সরকারের কাছে এমন বাজেটই প্রত্যাশিত। এই বাজেট আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির দুই সাংসদ মোশররফ হোসেন, আমিনুল ইসলাম ও বিএনপি চেয়াপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য কবির খান উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :