রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের আধুনিকায়নে উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত সরকারের

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দিচ্ছেনপ্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস

ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দিচ্ছেনপ্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি) পরিচালিত রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর আধুনিকায়ন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও সক্ষম করে গড়ে তুলতে উৎপাদন বন্ধ করে শ্রমিকদের এককালীন পাওনা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য বিজেএমসির ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার পাওনা পরিশোধ করবে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) গণভবনে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলসমূহ নিয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমেদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব  ড. আহমদ কায়কাউস প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। তিনি বলেন,

‘বর্তমানে দেশে যে পাট ও পাট জাত পণ্য উৎপাদিত হয় তার শতকরা ৯৫ শতাংশই বেসরকারি পাটকলে উৎপাদিত হয়। সরকারি খাতটি অত্যন্ত স্কুইজড (সংকুচিত) হয়ে গেছে। যা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছিল না। এগুলোকে আবার প্রতিযোগিতায় কীভাবে আনা যায় এবং কীভাবে শক্তিশালী করা যায়, সে বিবেচনায় এখন পাটকলগুলো বন্ধ করার ঘোষণা করা হয়েছে।’

এসব পাটকল বন্ধ থাকলে যে পরিমাণ ক্ষতি হয় চালু থাকলে তার চেয়ে বেশি পরিমাণ ক্ষতি হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব বলেন, ‘কাজেই এসব পাটকলের সঙ্গে জড়িত শ্রমিক ভাই-বোনদের জীবন-জীবিকার নিশ্চয়তার জন্য সরকার তাদেরকে ২০১৫ সালের জাতীয় মজুরি কাঠামো অনুযায়ী সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনাও দিয়েছেন, যে পাটকলগুলো বন্ধ আছে সেগুলো কীভাবে চালু করা যায় এবং সেগুলো যাতে বর্তমান ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে। এ সংক্রান্ত একটি কর্মপন্থা প্রস্তুত করে অতি দ্রুত তার নিকট নিয়ে আসার জন্যও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’

মুখ্য সচিব পাটকলগুলোর ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো গত ৪৮ বছরের মধ্যে শুধু চার বছর লাভের মুখ দেখেছে এবং ৪৪ বছর ধরে অব্যাহতভাবে মোট ১০ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। লোকসান হলে কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য সরকারের অর্থের উপর নির্ভর করতে হতো বলে প্রতি মাসেই শ্রমিক কর্মচারীদের এ সংক্রান্ত সমস্যা চলছিল। পাটকল শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের লক্ষ্যে আগামী তিন দিনের মধ্যে তাদের তালিকা প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’

ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘সিদ্ধান্তগুলো মধ্যে যাদের অনধিক ২ লাখ টাকা আছে, তাদের শতভাগ তাৎক্ষণিকভাবে দিয়ে দেওয়া হবে। যাদের দুই লাখের অধিক পাওনা আছে তাদের ৫০ শতাংশ এখনই দেওয়া হবে। বাকি ৫০ শতাংশও প্রধানমন্ত্রী এখনই দিতে চান তবে শ্রমিকদের কল্যাণের কথা চিন্তা করে ভিন্ন একটি পদ্ধতি অনুসরণ করার নির্দেশনা দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের কল্যাণের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন দুই লাখের অধিক যাদের পাওনা তাদের বাকি ৫০ শতাংশ তিন মাস মেয়াদী সঞ্চয়পত্র কিনে দেওয়া হবে। তাতে একজন শ্রমিক গড়ে ১১ শতাংশ হারে মুনাফা ধরে ১৯ হাজার ৩২০ টাকা থেকে ৭৪ হাজার ৫২০ টাকা পর্যন্ত প্রতিজন পেতে পারেন। প্রকৃত অর্থে একজন শ্রমিক এখন যেটা নগদে পেতে তার চাইতে বেশি পাবে মাসিক মুনাফা তিন মাস অন্তর হিসাব করলে। প্রধানমন্ত্রী নিম্ন আয়ের শ্রমিক ভাই-বোনদের জীবনের নিশ্চয়তার জন্য এই কাজটি করেছেন।’

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া জানান, অবসর ভোগীদের টাকা আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে যাবে।

সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মুখ্য সচিব আরও বলেন, ‘এখানে কাউকে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে না এবং পরবর্তীতে এ কারখানাগুলো পুনরায় চালু হলে নিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমান শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এবং বিজেএমসি’র চেয়ারম্যানও ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :