তলিয়ে গেছে সবজি খেত, নীরবে কাঁদছে হালিমা

সাহিদুর রহমান, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, জামালপুর
ফসলের খেতের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন হালিমা/ছবি: বার্তা২৪.কম

ফসলের খেতের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন হালিমা/ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

জামালপুরের বকশীগঞ্জে টানা ৯ দিনের বন্যায় সাড়ে ৫ বিঘা জমির সবজির খেত তলিয়ে গেছে। বাড়ির সামনে থেকে ফসলের খেতের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। ঋণ করে সবজি চাষ করেছিলেন হালিমা বেগম। কিন্তু আকস্মিক বন্যায় সব তলিয়ে গেছে। এখন খেতের দিকে তাকিয়ে নীরবে কান্না করছেন এই কৃষাণী। তার বাড়ি উপজেলার মেররুচর ইউনিয়নের পূর্ব কলকিহারা গ্রামে।

গত বছর অর্থনীতিতে অবদান রাখার জন্য পেয়েছেন জয়িতা পুরস্কার। বরাবরের মতো তিনি একজন সফল চাষি। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে এবারও বাড়ির পাশে সাড়ে ৫ বিঘা জমিতে শসা, করলা, বেগুন, পটল ও ঢেঁড়স চাষ করেছিলেন। মোটামুটি ১০ দিন পরেই সবজি গুলো বিক্রি করা যেত। তার আগেই উজান থেকে পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বর্ষণের কারণে উপজেলার মেরুরচর, সাধুরপাড়া, বগারচর ও নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে ৩৬ হাজার মানুষ।

দ্রুত গতিতে বন্যার পানি বৃদ্ধির ফলে রাতারাতি হালিমা বেগমের সবজি খেত পানির নিচে তলিয়ে যায়। টানা ৯ দিন ধরে তার সবজি খেত পানির নিচে রয়েছে। এ কারণে সবজির গাছগুলো পচতে শুরু করেছে। ঋণ করে সবজি চাষ করে সেই ফসল ঘরে তুলতে না পারায় হতাশায় পর্যদুস্ত হয়ে পড়েছেন হালিমা বেগম।

তিনি তার ডুবে যাওয়া ফসলের খেত বার বার দেখতে যান আর নীরবে কান্না করেন। ফসল হারিয়ে অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করছেন হালিমা বেগম ও তার পরিবার।

রোববার (৫ জুলাই) কৃষাণী হালিমা বেগমের সাথে কথা তিনি জানান, আমার একমাত্র আয়ের পথ ছিল এটি। এবারের বন্যায় আমার অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। সামনের দিন গুলোতে আমি ঘুরে দাঁড়াতে উপজেলা কৃষি বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সরকারিভাবে কৃষি প্রণোদনা পেলে তিনি আবারও সবজি চাষ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জামালপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, বন্যার পানিতে জেলার ৫টি উপজেলার ৬ হাজার ৪০৭ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৫৯৩ হেক্টর জমির পাট, ১৭৭ দশমিক ৫ হেক্টর জমির আউশ ধান, ৪৭৮ দশমিক ৫ হেক্টর জমির সবজি, ১২৩ হেক্টর জমির আমন ধানের বীজতলা, ১১ হেক্টর জমির মরিচ, ১৪ হেক্টর জমির ‍তিল, ২ হেক্টর জমির বাদাম, ৫ হেক্টর জমির ভুট্টা, ৩ হেক্টর জমির কলা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।

আপনার মতামত লিখুন :