মহাসড়ক ছুঁয়েছে তিস্তার পানি, ঘুম নেই তীরবর্তী মানুষের

নিয়াজ আহমেদ সিপন, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, লালমনিরহাট
সড়কের পানি রোধে জিও ব্যাগ ফেলেছে পাউবো

সড়কের পানি রোধে জিও ব্যাগ ফেলেছে পাউবো

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে নতুন করে যুক্ত হয়েছে তিস্তার পানি বৃদ্ধি। সেই পানিতে ডুবে যাচ্ছে ঘরবাড়িসহ ফসলি জমি। এ যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। নদীর পানি বেড়ে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক ছুঁয়েছে। এতে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন সড়কে আশ্রয় নেয়া তিস্তা পাড়ের হাজারও মানুষ।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৯৫ সেন্টিমিটার। যা বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে পানি বৃদ্ধি হওয়ার কারণে হাতীবান্ধা-বড়খাতার তালেব মোড়ের বাইপাস সড়কের ওপর দিয়ে পানি চলাচল করছে। যেকোনো মুহূর্তে বাইপাস সড়কটি ভেঙে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন তীরবর্তী মানুষরা।

তাদের অভিযোগ, বিকেলে অব্যাহত পানি বৃদ্ধি হলেও নামমাত্র কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রতিবারের মতো এবারও পাউবোর পক্ষ থেকে ফেলা হচ্ছে জিও ব্যাগ। তবে তা খুব একটা কাজে আসছে না।

তিস্তার পানিতে ডুবে গেছে লালমনিরহাটে কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, আদিতমারী উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম। মাথা গোঁজার আশ্রয় হারিয়ে উঁচু বাঁধে মানবেতর দিন কাটছে হাজারও মানুষের। বিকেলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি হওয়ার কারণে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন তিস্তা পাড়ের মানুষরা।

 নদীর পানি বেড়ে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক ছুঁয়েছে

স্থানীয়রা জানান, গত ২৪ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার তিস্তা ও ধরলার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা ক্রমে কমে গিয়ে বন্যার উন্নতি ঘটে। এ নিয়ে চতুর্থবার তিস্তার পানি বৃদ্ধি হয়ে ফের নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে। ফলে জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, তুষভান্ডারের আমিনগঞ্জ, কাকিনা, পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, সিংগিমারী, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, পলাশী, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুণ্ডা, ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের প্রায় ২৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি প্রবাহ বিকেল থেকে বেড়েছে। ব্যারাজ রক্ষার্থে সবগুলো জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। জেল পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে মনে হচ্ছে না কখন পানি কমে যাবে। তবে তিস্তা তীরবর্তী মানুষদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন :