ব্রিজের সামনে পুকুর কেটে বাঁধ, জলাবদ্ধতার কবলে গ্রামবাসী

উপজেলা করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)
ব্রিজের সামনে পুকুর কেটে বাঁধ দেওয়া হয়েছে/ছবি: বার্তা২৪.কম

ব্রিজের সামনে পুকুর কেটে বাঁধ দেওয়া হয়েছে/ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ময়নসিংহের গৌরীপুরে ডৌহাখলা ইউনিয়নের মামদিপুর গ্রামে ব্রিজের পানি প্রবাহের পথে পুকুর কেটে বাঁধ দেয়ায় জলবদ্ধতার কবলে পড়েছে গ্রামবাসী। বাঁধের জন্য পানি স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, পুকুর ও বীজতলা। প্লাবিত হয়েছে গ্রামের অনেক বাসিন্দার ঘরবাড়িও।

শনিবার (১১ জুলাই) ঘটনাস্থলে আসেন ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শহীদুল হক সরকার। এসময় ক্ষতিগ্রস্তরা বাঁধ অপসারণ ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামের বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম পুকুর কেটে ব্রিজের সামনে বাঁধ দিয়েছে। এতে করে ব্রিজের দুপাশে স্বাভাবিক পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অচিরেই বাঁধ উচ্ছেদ করে পানি চলাচল স্বাভাবিক না করলে বর্ষার বৃষ্টিতে আশেপাশের এলাকা প্লাবিত হবে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে কৃষক, মাছচাষিসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা গেছে, ডৌহাখলা ইউনিয়নের মামদিপুর গ্রামে সরকারি ব্রিজের সামনে জমি রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুল ইসলামের। সম্প্রতি তিনি ওই জমিতে পুকুর কেটে বাঁধ নির্মাণ করলে ব্রিজের পানি চলাচলে স্বাভাবিক প্রবাহ বাঁধাগ্রস্থ হয়। ফলে বর্ষার বৃষ্টিতে পানি আটকে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ব্রিজের সামনে বাঁধ দেয়ায় বর্ষার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে গ্রামবাসী। পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান, আব্দুল কাদির, আলাল উদ্দিন, দুলাল উদ্দিন, মোঃ রফিকুল ইসলামের বাড়িতে পানি উঠেছে। পানিতে ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।

মাছচাষি আব্দুল মান্নান বলেন, অপরিকল্পিত ভাবে পুকুর কাটায় পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষার বৃষ্টির পানি বেড়ে যাওয়ায় ৭টি পুকুরের ৫ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। এছাড়াও পানিতে তলিয়ে গেছে মাছ চাষি মো. রফিকুল ইসলামের ২টি পুকুর, আব্দুল কাদিরের ২টি পুকুর ও দুলাল মিয়ার ১টি পুকুর।

গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বার, শামীম মিয়া ও দুলাল চৌকিদার জানান পানির নিচে বীজতলা ডুবে আছে। বীজতলার চারা পঁচে গেছে।

এ বিষয়ে আসাদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ব্রিজের নিচে পানি চলাচল জন্য জায়গা রেখে পুকুর খনন করা হয়েছে। এতোদিন আমার পুরো জমির ওপর দিয়ে পানি যেত, এখন পুকুর করার পাশাপাশি সবার স্বার্থে পানি চলাচলের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।

ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুল হক সরকার বলেন, অসময়ে পুকুর খনন করায় গ্রামবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যিনি পুকুর করেছেন তিনিও ক্ষতিগ্রস্ত। তারপরেও জনস্বার্থে পানি চলাচল স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা করেছি। এখন পানি বের হোক, এরপর ক্ষতিপূরণের দাবি নিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেজুতি ধর বলেন, পুকুর কেটে ব্রিজে বাঁধ দেয়ার অভিযোগ পেয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করে খোঁজ খবর নিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :