বন্যায় গাইবান্ধায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি

তোফায়েল হোসেন জাকির, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, গাইবান্ধা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

গাইবান্ধার জেলার দ্বিতীয় দফার বন্যায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফলছড়ি উপজেলার ২৬ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের দেড় লাখ মানুষ।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৩টায় গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি ৪৩ ও তিস্তা নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া করতোয়া নদীর পানি ৫৬ সেন্টিমিটার বিপদসীমার নিচে রয়েছে।

জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ আগে গাইবান্ধার ৪টি উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়ে। যদিও পরে তা ধীর ধীরে কমে বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়। কিন্তু গত ৫ দিনের অবিরাম বর্ষণে ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফের নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্যার কারণে নদ-নদীর অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, জমি ও রাস্তাঘাট। আর পানির চাপে হুমকির মুখে পড়েছে বেশ কিছু বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।

এমন পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষগুলো বিভিন্ন বাঁধ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। এসব মানুষের মধ্যে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে গবাদি পশু-পাখি নিয়েও বিপাকে পড়েছেন।

গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফলছড়ি উপজেলার ২৬ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের এক লাখ ৪৬ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ ২২ হাজার ৩২০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব মানুষের জন্য এ পর্যন্ত ৩২০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১৫ লাখ টাকা, শিশু খাদ্য ৪ লাখ, গো খাদ্য ২ লাখ ও ১৮ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা একেএম ইদ্রিস আলী বার্তা২৪.কমকে জানান, বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ চলমান রয়েছে।

গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান বার্তা২৪.কমকে জানান, পানির চাপে বাঁধগুলো যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন বার্তা২৪.কমকে জানান, এরই মধ্যে নদী ভাঙন ও পানিবন্দি এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। পানিবন্দিদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :