ডিমলায় বন্যার্তরা চরম কষ্টে আছেন

মাহমুদ আল হাসান রাফিন, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নীলফামারী
উঁচু স্থানে আশ্রয়ের জন্য যাচ্ছে বন্যার্তরা।

উঁচু স্থানে আশ্রয়ের জন্য যাচ্ছে বন্যার্তরা।

  • Font increase
  • Font Decrease

তিস্তা নদীর ডালিয়া ব্যারাজের উজান ও ভাটিতে গত ৫ দিন ধরে পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে অন্তত সাড়ে ৬ হাজার পরিবার। হাঁটু থেকে কোমর পরিমাণ পানিতে বাড়ি-ঘর ডুবে থাকায় রান্না করার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাইতো খাবারের পাশাপাশি সেখানে রয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট।

এতে পরিবার পরিজন নিয়ে তাদের দিন কাটছে অনাহারে-অর্ধাহারে। অনেকের বাড়িতে সাপ বাসা বাঁধায় মৃত্যু আতঙ্কে রয়েছেন তারা।

মূলত গত শুক্রবার থেকে আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) পর্যন্ত ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে তিস্তা নদী তীরবর্তী নীলফামারীর ডিমলার ৬টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।

ছাতুমানা চর এলাকার বাসিন্দা আমিনুর রহমান তার পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন উত্তর সোনাখুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তিনি জানান, গত রোববার রাত আনুমানিক ৩টায় তার ঘরে কোমর পানি উঠেছে। এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণ পান নাই। বন্যার কারণে খুব কষ্টে আছেন তারা।

সবকিছু হারিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যার্তরা।

ভেন্ডাবাড়ী চরের ছেরাতন বেওয়া বন্যার কারণে বাড়ি-ঘর ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন মেয়ের জামাইয়ের বাড়িতে। তিনি বলেন, ‘বন্যার শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১০ কেজি চাল দিয়েছেন চেয়ারম্যান। এরপর আর কোনো খোঁজখবর নেন নাই। এখন একবেলা খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। দেনাও হয়েছি অনেক টাকা। খুব কষ্টে আছি।’

ডিমলা উপজেলার ৮ নং ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান জানান, ইউনিয়নের দুইটি মৌজার সব বাড়ি-ঘর কোমর পানিতে ডুবে রয়েছে। এছাড়া অনেকের বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বীজতলা নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের উঁচু ও নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হচ্ছে।

দ্রুত বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দিতে সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রাণী রায় জানান, পানিবন্দীদের জন্য সরকারিভাবে ১১০ মেট্রিক টন চাল, ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও নগদ ১ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন তিনি। যা ইতোমধ্যে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :