পানির দরে কেনাবেচা হচ্ছে কোরবানির পশুর চামড়া

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বগুড়া
কোরবানির পশুর চামড়া।

কোরবানির পশুর চামড়া।

  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়ায় কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে ধস নেমেছে। গত কয়েক বছর ধরে চামড়ার বাজার নিম্নমুখী হলেও এবার পানির দরে চামড়া কেনাবেচা হচ্ছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা (ফড়িয়া) মাঠে নামলেও তারা চামড়া কিনছেন অনেক হিসাব করে। ফলে অনেকের বাড়িতে চামড়া পড়ে থাকলেও কেউ কিনতে যাচ্ছেন না।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শনিবার (১ আগস্ট) বেলা ১১টার পর থেকে চামড়া কেনাবেচা শুরু হয়। জেলায় গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫৫০ টাকা পর্যন্ত। ছাগলের চামড়া ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত। আর ভেড়ার চামড়া দেয়া হচ্ছে ছাগলের চামড়ার সঙ্গে ফ্রি।

বন্যাকবলিত সারিয়াকান্দি উপজেলায় কোরবানির পশুর সংখ্যা কম হলেও সেখানে দুপুর পর্যন্ত কেউ চামড়া বিক্রি করতে পারছেন না। ২-১ জন চামড়া কিনতে গেলেও গরুর চামড়ার দাম বলছেন ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত।

এই উপজেলার জোরগাছা গ্রামের তাজুল ইসলাম জানান, বাড়ি থেকে পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে গ্রামের মসজিদে সবাই তা দিয়ে দিচ্ছেন।

শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর গ্রামের হুমায়ুন কবীর মামুন বার্তা২৪.কমকে জানান, ৭৬ হাজার টাকা দামের গরু কোরবানি দিয়ে তার চামড়া বিক্রি করেছেন ৫০০ টাকায়। গত বছর ৭২ হাজার টাকা দামের গরুর চামড়া বিক্রি করেছিলেন ৯০০ টাকায়।

একই ধরনের কথা জানান, বগুড়া সদরের ঘোলা গাড়ি গ্রামের আব্দুর মজিদও। তিনি জানান, তার গ্রামে গরুর দামের উপর নির্ভর করছে চামড়ার দাম। ১ লাখ টাকা দামের গরুর চামড়া ৫০০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছেন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। তিনি ৬৬ হাজার টাকা দামের গরুর চামড়া বিক্রি করেছেন ৪০০ টাকায়।

বগুড়া জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য রনি বার্তা২৪.কমকে জানান, ট্যানারি মালিকরা তাদেরকে বেকায়দায় ফেলেছেন। বছরের পর বছর টাকা আটকে রেখেছেন। ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে পাওনা ১৬ লাখ টাকার মধ্যে মাত্র দুই লাখ টাকা পেয়েছেন। এবার আবারো ট্যানারিতে বাকিতে চামড়া দিতে হবে। এ কারণে তারাও কম দামে চামড়া কিনছেন।

আপনার মতামত লিখুন :