জামালপুরে আবারও বাড়ছে বন্যার পানি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, জামালপুর
জামালপুরে আবারও বাড়ছে বন্যার পানি

জামালপুরে আবারও বাড়ছে বন্যার পানি

  • Font increase
  • Font Decrease

জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির ফের অবনতি হয়েছে। গত চার দিন বন্যার পানি কমলেও ঈদের দিন (১ আগস্ট) থেকে আবারও বাড়তে শুরু করেছে যমুনা নদীর পানি। গত ২৪ ঘণ্টায় বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ১২ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পানি পরিমাপক (গেজ রিডার) আবদুল মান্নান বার্তা২৪.কম-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আবারও পানি বৃদ্ধির ফলে ভেসে উঠা ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটসহ নতুন নতুন এলাকা আবারও পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন পানিবন্দী থাকায় দুর্গত এলাকার মানুষ খাবারের সংকটসহ নানা সমস্যা মোকাবিলা করছেন। দুর্গত এলাকায় ছিলো না কোনো ঈদ আনন্দ। টানা দেড় মাসের বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ চরম কষ্টে আছেন।

রাস্তাঘাট ও মানুষের বাড়িঘরে বন্যার পানি

জানা গেছে, জেলায় একে একে তিন দফার বন্যায় প্রায় ১০ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছিল। কয়েক দিন ধরে ঘরবাড়ি থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করে। অনেকের ঘরবাড়ি থেকে পানি নেমে গেলেও নিম্নাঞ্চলের ঘরে ঘরে এখনো পানি আছে। এর মধ্যেই আবার পানি বাড়তে শুরু করেছে। এতে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন বানভাসিরা। বহু মানুষ এখনো বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, সড়কের পাশে ও সেতুর ওপর আশ্রয় নিয়ে আছেন। এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য সংকট।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা নায়েব আলী বার্তা২৪.কমকে বলেন, জেলায় নতুন করে নগদ ৮ লাখ টাকা ও ২ শ মেট্রিক টন চাল, ৪ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ করা হয়েছে। এ নিয়ে বন্যায় দুর্গতদের মাঝে ১২৮৪ মেট্রিক টন চাল, ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ১১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে ।

মানুষের বাড়ির উঠানে ও ঘরে পানি প্রবেশ করেছে

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, গতকাল থেকে আবারও যমুনা নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। পানি বৃদ্ধির ফলে আশঙ্কা করা যাচ্ছে এবার বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে।

জামালপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক বার্তা২৪.কম-কে বলেন, বন্যার্তদের মাঝে পর্যাপ্ত ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে । ত্রাণ পাওয়ার যোগ্য ব্যাক্তি কেউ বাদ পড়বে না । জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিদিন দুর্গতদের ৪ হাজার পিস তৈরি করা রুটি সাথে গুড় দিয়ে যাচ্ছি। এছাড়াও আশ্রয় কেন্দ্রে রান্না করা খিচুড়ি বিতরণ করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :