এমপি বাদলের নামে সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহীত

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
সংসদ অধিবেশনে এমপি বাদলের নামে সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহীত

সংসদ অধিবেশনে এমপি বাদলের নামে সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্য সংসদ সদস্যের আলোচনা শেষে জাসদ নেতা মঈন উদ্দীন খান বাদলের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে সংসদ।

বৃহস্পতিবার (০৭ নভেম্বর) বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে তার মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা অংশ নেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ, আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আমীর হোসেন হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক মন্ত্রী ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর, সাবেক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, সাবেক প্রধান হুইপ আসম ফিরোজ, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙা।

পরে স্পিকার সংসদে শোক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণের প্রস্তাব দিলে তা গৃহীত হয়। পরে প্রয়াতদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন শেষে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য বি এইচ হারুন।

চলমান সংসদের কোন সদস্য মৃত্যু হলে রেওয়াজ অনুযায়ী স্পিকার অধিবেশনের অবশিষ্ট কার্যক্রম স্থগিত রেখে সংসদ অধিবেশন আগামী সোমবার বিকেল সোয়া চারটা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিয়তির কি নির্মম পরিহাস, আজ (বৃহস্পতিবার) সকালেই মঈনউদ্দীন খান বাদল চলে গেলেন। তার লাশ নিয়ে আসার জন্য ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমাদের দুর্ভাগ্য যে তাঁর সেই বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর আর শুনতে পাব না।

বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদ বলেন, অত্যন্ত বিনয়ী, বিচক্ষণ ও অনলবর্ষী বক্তা মঈন উদ্দীন খান বাদলের মৃত্যুতে আমরা মর্মাহত, গভীরভাবে শোকাহত। সোয়াত জাহাজ থেকে পাক হানাদাররা অস্ত্র খালাস করছিল, তখন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা বাদল আক্রমণ চালিয়ে সেই অস্ত্র লুটে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে দিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন। সংসদেও তাঁর সপ্রতিভ ক্ষুরধার বক্তব্য ও শব্দচয়নও ছিল চমৎকার। দেশের প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো সংসদে জোরালোভাবে তুলে ধরতেন। তাঁর মৃত্যুতে যে শূন্যতা হলো, তা কোনদিন পূরণ হবে না।

আমীর হোসেন আমু বলেন, স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মঈন উদ্দীন খান বাদল অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা রেখে গেছেন। অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা বাদল সংসদের ভেতর ও বাইরে একজন বলিষ্ঠ সুবক্তা ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে রাজনীতির জন্য বিরাট একটা ক্ষতি হলে গেল।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, একদিন আমাদের সবাইকে চলে যেতে হবে। ছাত্রজীবনে, স্কুল ও কলেজ জীবনেও ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন মঈন উদ্দীন খান বাদল। পরে জাসদে যোগ দিলেও অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ঘোরবিরোধী ছিলেন। তাঁর বক্তৃতায় আলাদা বিশিষ্টতা ছিল। মুক্তিযুদ্ধে মুজিববাহিনীর সদস্য হিসেবে অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা রেখেছেন। কিন্তু এতো তাড়াতাড়ি তিনি চলে যাবেন ভাবতেও পারি না।

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মঈন উদ্দীন খান বাদল একজন সুবক্তা, প্রখর চিন্তাবিদ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ছিলেন। বিএনপি-জামায়াত জোটের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ১৪ দল গঠনে অন্যতম ভূমিকা পালন করে গেছেন প্রয়াত এই নেতা। অসুস্থ অবস্থাতেও সংসদে প্রাণবন্ত বক্তব্য দিয়েছেন। দেশপ্রেমিক এই রাজনীতিবিদের চলে যাওয়া দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, বাংলাদেশ পরবর্তীকালে সামরিক শাসনসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর সাহস ও বিচক্ষণতা সত্যিই প্রশংসনীয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদারদের আতঙ্কের নাম ছিল মঈন উদ্দীন খান বাদল।

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, মঈন উদ্দীন খান বাদল আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ছিলেন। ষাটের দশকে পূর্ব বাংলা ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন। চট্টগ্রামে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ ভূমিকা রেখে গেছেন। জাসদের জন্মলগ্ন থেকেই জড়িত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জেনারেল জিয়া ও এরশাদের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে সাহসী ভূমিকা রাখেন। সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী গণতান্ত্রিক প্রতিটি আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর বীর এই মুক্তিযোদ্ধার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, বৃটিশ ও কানাডিয়ান পার্লামেন্টে সংরক্ষিত হিসাব কমিটির প্রতিনিধি হিসেবে ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। মঈন উদ্দীন খান বাদল অত্যন্ত দেশপ্রেমিক ও দেশের উন্নয়নে সবসময় কাজ করতেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে দেশের প্রথম সারির একজন রাজনীতিবিদকে হারালাম।

সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ-কমান্ডোরা একসঙ্গে চারটি সমুদ্রবন্দরে অসংখ্য পাকবাহিনীর জাহাজ ডুবিয়ে দেয়। প্রয়াত মঈন উদ্দীন খান বাদল এই ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। অত্যন্ত সুবক্তা, প্রাজ্ঞ ও ইতিহাসের ওপর সুনিপুণ দখল ছিল এই বীর মুক্তিযোদ্ধার।

জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ছাত্রজীবন থেকে মঈন উদ্দীন খান বাদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে পরবর্তী প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর স্ত্রীও দুরারোগ্য ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত।

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙা বলেন, একজন অত্যন্ত সুবক্তা, গুনি, বিচক্ষণ ও মহান মুক্তিযোদ্ধাকে আমরা হারালাম। অত্যন্ত পড়াশুনা করে সংসদে বক্তব্য রাখতেন। তাঁর অভাব সত্যিই আমাদের ব্যথিত করেছে। সাবেক চিফ হুইপ আসম ফিরোজ বলেন, অত্যন্ত সুবক্তা ও বিচক্ষণ নেতা ছিলেন মঈন উদ্দীন খান বাদল। শুধু সংসদেই নয়, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সেমিনারে তাঁর বক্তব্য দেশকে অনেক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন নেতা ছিলেন তিনি। মানুষ হিসেবেও অত্যন্ত চমৎকার ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :