বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ বিশ্বে ‘উদাহরণ’: নসরুল হামিদ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
সংসদ অধিবেশন

সংসদ অধিবেশন

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় সংসদ ভবন থেকে:

বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, 'আমরা বিদ্যুতের সমস্যা যে ভাবে সমাধান করেছি, বিশ্বের কোনো দেশে এমন কোন উদাহরণ হয় নাই। ২০০৯ সালে সারা দেশে ৪৭ শতাংশ বিদ্যুৎ ছিল বর্তমানে ৯৪ শতাংশ। আগামী জুনের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুতায়ন করব।'

সোমবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, 'ঢাকাতে কোনো ভোল্টেজ ফ্ল্যাকসেশন হয় না, সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। গ্রামে হতে পারে বেশ কিছু জায়গায়। যেখানে এখনো নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে পারি নাই। আমি বলি না শতভাগ নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতায়ন হয়ে গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় নিরিবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে ৫০ বছর লেগেছে, আমাদের হয়তো ৫০ বছর লাগবে না।'

তিনি আরো বলেন, 'বিদ্যুতের মাস্টার প্লান করেছি ২০১০ সালে। আমরা গ্যাস ম্যানেজমেন্ট মাস্টার প্লান করেছি। গ্যাসের অগ্রাধিকার কোথায় সেই অগ্রাধিকার অনুযায়ী গ্যাস দেব। এখানে অনেক সংসদ সদস্য ঢাকাতে থাকেন। ঢাকার কোনো ভল্টেজ ফ্ল্যাকসেশন হয় না, সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। গ্রামে হতে পারে বেশ কিছু জায়গা। যেখানে এখনো নিরিবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে পারি নাই। কিন্তু ঢাকা শহরে সকলেই স্বীকার করবেন ভোল্টেজ ফ্ল্যাকসেশন হয় না। সংসদে ঢুকার সময় আমার হাতে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ রয়ে গেছে। ওনার (হারুনুর রশীদ) যদি বিদ্যুতের সমস্যা হয় আমাকে বলতে পারেন। ওনার বাসায় (হারুনের) ‍যদি বিদ্যুতের ভোল্টেজের সমস্যা হয় নিশ্চয় ওনার বাসার নিজস্ব কোনো সমস্যা হচ্ছে, যার কারণে ভোল্টেজ ফ্ল্যাকসেশন হচ্ছে, ওনার বাসার সমস্যা সরকারের উপরে চাপায় দিতে চাচ্ছেন।'

জাতীয় পার্টির দলীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'ঘটনাটি সত্য ঢাকা শহরের আশেপাশে এবং ঢাকা শহরের মধ্যে গত ৫০ বছরের পুরনো পাইপ লাইনগুলো বিদ্যমান। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়েও এই লাইনগুলো যে পরিবর্তন এবং পরিবর্ধন করা উচিত ছিল তা করা হয় নাই। বর্তমানে সরকার একটা বৃহৎ পরিকল্পনা নিয়েছে। এরই মধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা নিয়েছি। ১২০০ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। যেটার মাধ্যমে ঢাকা শহরের সমস্ত গ্যাস লাইন উঠিয়ে নতুন পাইপ লাইন করা হবে। স্কাটার সিস্টেম বসানো হবে, অটোমেশন করা হচ্ছে যাতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আগামীতে যেন নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ করা যায় সেটার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সেটার টেন্ডারও দেওয়া হবে।'

বিএনপি দলীয় সংরক্ষিত সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আমাদের কোম্পানিগুলো কি কাজ করবে? এটা কি গ্যাস ড্রিলিং করবে নাকি ম্যানেজ করবে? বাপেক্স শুধু বিনিয়োগ করবে এ ধরণের কোনো পলিসি বিগত দিনে করা হয় নাই। বাপেক্স তিনটা কাজই করে সে ম্যানেজও করে বিদেশী কন্ট্রাকটরকে নিয়োগও করে, নিজে যখন ড্রিলিং করে তখন আমাদের গ্যাসের প্রাপ্তি ১০-১৫ টাকা। একটা ড্রিলিং যদি করি, এটার খরচ পড়ে ১৬ মিলিয়ন ২০ মিলিয়ন পর্যন্ত।'

তিনি আরো বলেন, '৪-৫ বছর আগে পূর্বাচলে গ্যাস পাওয়া গেছে। আমরা দেখলাম এই গ্যাস উত্তোলনে যে পরিমাণ খরচ হবে তাতে ১০ বছরের যে গ্যাস বিক্রি করব তা দিয়ে জীবনেও খরচ উঠবে না। যে কারণে বন্ধ করে দিয়েছি। তাছাড়া যদি ১০টি ড্রিলিং করি সেটাতে দেখা গেছে ২টিতে গ্যাস পাওয়া গেছে, বাকীগুলোতে পেলামনা।'

প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর সর্বপ্রথম বাপেক্সে ড্রিলিং মেশিন আনা হয়। আমাদের নতুন ড্রিলিং, মেশিন পুরনো ড্রিলিং মেশিন দিয়ে কাজ চলছে। বড় সমস্যা ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ার বাংলাদেশে নাই। বিজ্ঞাপন দিয়ে দেখেছি এ ধরণের ইঞ্জিনিয়ার তৈরি হচ্ছে না। বঙ্গবন্ধুর সময়ে যে কয়েকজন ইঞ্জিনিয়ার রাশিয়াতে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসছিলেন তাদের দিয়েই চলছে বাপেক্স।'

তিনি বলেন, 'আমাদের গ্যাস ফিল্ড বিদেশের গ্যাস ফিল্ডের মত অত বড় গ্যাস ফিল্ড না। আমাদের গ্যাস ফিল্ডগুলো পকেট গ্যাস ফিল্ড।'

বিএনপি দলীয় অপর সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের অন্য এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, '২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতায় আসে তখন গ্যাসের প্রাপ্তি ছিল অনসর ৯০০ এমএমসিএফ। পরবর্তীতে হাজার এমএমসিএফ। ৯০০ থেকে চাহিদা বাড়া শুরু করে। এখন গ্যাস উত্তোলন করছি প্রায় ২৭০০ এমএমসিএফ গ্যাস। ২৬টি ক্ষেত্র কুপ খনন করেছি। ৪৫ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি কুপ খনন করা হয়েছে। গ্যাসের চাহিদা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের যে চাহিদা সেই অনুপাতে গ্যাস উৎপাদন প্রাকৃতিকভাবে পাচ্ছি না। করতেও পারছি না। গ্যাসটা পেতে হবে তারপর সঞ্চালন করতে হবে। তাই গ্যাসের চাহিদার গ্যাপ পূরণ করার জন্য এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। ওটাও প্রাকৃতিক গ্যাস ১৬০ ডিগ্রি মাইনাসে লিকুয়িড করে নিয়ে আসা হয় তারপর গ্যাসিফিকেশন করে গ্যাসের সাথে মিলানো হয়। এরপরও আরো চাহিদা বাড়ছে। দেশে ৮টি অর্থনৈতিক অঞ্চল যখন চালু হবে তখন চাহিদা দাঁড়াবে ৬ হাজার এমএমসিএফ গ্যাস। এখন আমদানিসহ দিতে পারছি ৩২০০ এমএমসিএফ গ্যাস। যদি আমদানি না করতাম তাহলে শিল্প বিল্পব হত না।'

বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ বন্ধের কারণ ব্যাখা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'বাসাবাড়িতে যে পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করি সেই পরিমাণ গ্যাস যদি শিল্পে ব্যবহার করি তাহলে ২০০ লোকের কর্মসংস্থান হয়। তাহলে অগ্রাধিকারটা কোথায়? বাসাবাড়ির গ্যাসের অল্টারনেটিভ পেয়েছি, এলপিজি গ্যাস।'

আপনার মতামত লিখুন :