বিদেশে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধের দাবি, মন্ত্রী বললেন আমরা চিন্তিত

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
সংসদ অধিবেশন (ইনসেটে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ), ছবি: সংগৃহীত

সংসদ অধিবেশন (ইনসেটে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ), ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় সংসদ ভবন থেকে:

সৌদি আরব, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে নারী শ্রমিকদের শারীরিক নির্যাতনের বিষয়ে সংসদে হৈ চৈ করেছেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা। তারা নারী শ্রমিক পাঠানো অবিলম্বে বন্ধের দাবি করেছেন। তবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন বিষয়টি নিয়ে আপনারা যতটা চিন্তিত, আমরা তার চেয়ে বেশি চিন্তিত।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু, কাজী ফিরোজ রশীদ ও সুলতান মনসুর আহমেদ। তারা প্রত্যেকই নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধের দাবি করেন।

সুলতান মনসুর আহমেদ প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশের মান মর্যাদা ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থে মহিলা শ্রমিক না পাঠিয়ে পুরুষ শ্রমিককে পাঠান আয় দ্বিগুণ হবে। তাহলে ভাল হবে, দেশের মানও বাঁচবে আমাদের মান-ইজ্জতও বাঁচবে। পারিবারিক পরিবেশ সুন্দর থাকবে, দেশের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকবে ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে। না হলে আমরা দাসত্বের বাংলাদেশে পরিণত হব।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, সবকিছু যেভাবে চিন্তা করা হয় সেভাবেই হয়। সৌদি, মালয়েশিয়া যেখানেই বলেন শ্রমবাজার অনুযায়ী ওনারা যেভাবে চায় ওই হিসাবেই তো পাঠাতে হবে। আর না হলে পাঠানোর দরকার নাই। আমরা চেষ্টা করব মহিলারা যেন সন্মানজনভাবে ওখানে চাকরি করতে পারেন, আর যদি একেবারেই না করতে পারে তাহলে দেখব, চিন্তা করব না পাঠাতে। কথাটা সবকিছু শ্রম বাজার যেখানে যত মানুষ পাঠাতে পারি এটা দেশের স্বার্থে সেই হিসাব সবাইকে করতে হবে।

নারী কর্মীদের ইজ্জত রক্ষার জন্য কোন রকম উদ্যোগ নিয়েছেন কি না- মুজিবুল হক চুন্নুর এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, গৃহকর্মীর ব্যাপারে আপনারা যত চিন্তিত, এর চেয়ে বেশি কিন্তু সরকার চিন্তিত। সেই ব্যাপারে অনেক পদক্ষেপ এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে। কয়েকদিন আগেই এখানে সৌদি আরবের চার্জ দি অ্যাফেয়ার্স-কে আমার অফিসে ডেকেছিলাম। বিষয়গুলো উত্থাপন করা হয়েছে। রিয়াদে আমাদের রাষ্ট্রদূতকে বলা হয়েছে ওখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে বিষয়গুলো উত্থাপনের জন্য। আগামী ২৬-২৭ নভেম্বর সৌদি আরবে যে যৌথ সভা হবে সেখানে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, ক্লেইম যে আছে, নির্যাতনের ক্লেইম যেটা আছে, কেন নির্যাতিত হয় এবং এখান থেকে যে সকল মহিলাদের পাঠাই কোনো ব্রিফিং না দিয়ে কোনো ট্রেনিং না দিয়ে, কিছু না দিয়ে  গৃহকর্মী বলে রিক্রুটিং এজেন্টরা পাঠিয়ে দেয়। আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি এরপর গৃহকর্মী যারা যাবে তাদের কমপক্ষে ১ মাসের ট্রেনিং দিতে হবে, যাতে ওখানে গিয়ে নির্যাতিত না হয়।

কাজী ফিরোজ রশীদ প্রশ্ন রেখে বলেন, আমাদের ঘরে মা বোন নাই, কেন কয়েকটা টাকার জন্য পাঠাব? মহিলাদের সৌদি আরব যাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। আমাদের দূতাবাস কোনো পদক্ষেপ নেয় নাই। মন্ত্রী কোনো খবর রাখেন না, দালালরা পাঠাইছেন উনি (মন্ত্রী) খালাস। এ তো বেচাকেনা হচ্ছে রীতিমত। মেয়েদের হাট বসে, কে কত দাম দিয়ে কিনে নিয়ে যাবেন। অবিলম্বে বন্ধ করবেন কি না। এই টাকার আমাদের প্রয়োজন নেই।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, মাঠের বক্তৃতা সুন্দরই শুনলাম। গত কয়েক মাসে ১৬০ ট্রাভেল এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিত করেছি। এরই মধ্যে তিন লাইসেন্স বাতিলও করেছি। যারা যারা অনিয়ম করেছে তাদের জরিমানাও করেছি। আমাদের সিদ্ধান্ত আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। যেসব এজেন্ট এখান থেকে নারীদের পাঠায় ওদের জন্য আইন করে দিচ্ছি। যারা পাঠাবে ওদের কাউন্টারপার্ট যারা ওখানে আছে তাদের সম্পূর্ণ বিস্তারিত আমাদের দিতে হবে, যাতে দরকার হলে ওদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারি।

আপনার মতামত লিখুন :