জুয়ার যথোপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিতে আইন আসছে

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা, জাতীয় সংসদ ভবন থেকে
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

ঘুষ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জুয়াসহ সব সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

তিনি বলেন, আমাদের ১৮৬৭ সালের বঙ্গীয় আইনে জুয়া নিষিদ্ধ ছিল। সেই আইনটাকে যুগোপযোগী করতে হবে। সেটার জন্য কাজ শুরু করেছি। সেজন্য আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। যেহেতু সংবিধানে জুয়া নিষিদ্ধ রয়েছে। শাস্তির বিধানকে আমরা যথোপযুক্ত করব।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) রাতে বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব কার্যপ্রণালী বিধির (১৩৭) বিধি অনুযায়ী বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

প্রস্তাবে বলা হয়—দেশে ঘুষ, সন্ত্রাস, ক্যাসিনো (জুয়া) ও মাদকসহ সকল সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রাখা হোক।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রস্তাবের বিষয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের অবস্থান বর্ণনা করেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুরোধের পরে প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হয়।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, অবশ্যই ঘুষ, সন্ত্রাস, ক্যাসিনো জুয়া, মাদকসহ সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান সারাবছর অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলাম। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের নির্দেশনা দিয়েছিলাম। সন্ত্রাস-জঙ্গি ঠিক সেভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে এ দেশের সর্বস্তরের জনগণ আমাদের সাহায্য করেছিল। সবাই এগিয়ে আসার পরে আমাদের চৌকস নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে এটা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী মাদক সম্পর্কে নির্দেশনা দিয়েছেন। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা কাজ করছি। মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনটাকে যুগোপযোগী করেছি।

তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে একটা ডেডিকেটেড কোর্ট দিয়েছেন। সেই কোর্টের মাধ্যমে মাদক মামলাগুলো যেন শিগগিরিই নিষ্পত্তি করতে পারি সেজন্য আমরা কাজ করছি। শুধু তাই না বিশ্বের অন্যান্য দেশে মাদকের বিরুদ্ধে যে শাস্তির বিধান রয়েছে আমরাও সেই শাস্তির বিধান রেখেছি। আমরা বসে নেই। মাদক আমরা তৈরি করি না। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে মাদক আসছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত-মিয়ানমারের পরিচালকদের মধ্যে ৬টি বৈঠক হয়েছে। সবশেষ ৬ষ্ঠ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি গত ১০-১১ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। ইয়াবা পাচার রোধে মিয়ানমারের সাথে এ পর্যন্ত তিনটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। চতুর্থ বৈঠকের জন্য আলোচনা চলছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে ২০১৮ সালে একটি অ্যাকশন প্লান তৈরি করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সরবরাহ রোধে বর্ডারে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের মাস্টার মাইন্ড, অস্ত্রদাতা, অর্থদাতা প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণার্থী সন্ত্রাসীদের আশ্রয়দাতা চিহ্নিত করে সারাদেশে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সিটিটিসির নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করা হয়েছে। এরইমধ্যে ৮টি জঙ্গি সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছি। সিটিটিসি কর্তৃক ১৯টি হাই রিক্স (উচ্চ ঝুঁকি) পরিচালনা করে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাস্টার মাইন্ডদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। জঙ্গি দমন করতে পারব।

আসাদুজ্জামান খান কামাল আরও বলেন, সর্বস্তরে দুর্নীতি ছড়িয়ে গেছে বলা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কিন্তু কাউকে ছাড় দিচ্ছেন না। শুধু এই জায়গায় না সব জায়গায় কাউকে ছাড় দিচ্ছেন না। যে অন্যায় করছেন, যে আইন বহির্ভূত কাজ করছেন তাকেই আইনের মুখোমুখি করার নির্দেশনা দিচ্ছেন। আমরা কাউকেই ছাড় দিচ্ছি না।

ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনো-বাণিজ্য প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হাউজি ক্লাবভিত্তিক, সেখানে কিছুটা হাউজি এবং আরো কয়েকটা আমাদের অনুমতি ছিল। কিন্তু যেগুলো করেছে সেগুলো অন্যায়। অনুমতির আওতায় ছিল না। এজন্য তাদের আটক করা হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। যে পর্যন্ত এটা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারব ততক্ষণ পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমরা যথার্থভাবেই বিশ্বাস করি মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আমাদের যুব সমাজ, নতুন প্রজন্মকে হারিয়ে ফেলব।

আপনার মতামত লিখুন :