সীমিত পরিসরে বাজেট অধিবেশন, থাকবে বিধিনিষেধ

শাহজাহান মোল্লা, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
জাতীয় সংসদ ভবন

জাতীয় সংসদ ভবন

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সবকিছু ওলটপালট করে দিয়েছে। বদলে দিয়েছে আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক গতিধারা।

দেশে করোনার সংক্রমণ অব্যাহতভাবে বেড়ে চললেও আগামী ১০ জুন শুরু হবে বাজেট অধিবেশন। এবারের অধিবেশনে থাকছে না কোন আড়ম্বর। অনেক বিধি-নিষেধ মেনে শুরু হবে অধিবেশন।

সাধারণত প্রতি অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনকে ঘিরে এক ধরনের উৎসব বিরাজ করে সংসদ সচিবালয় বা সংসদ এলাকায়। এবার আর সেই উৎসবের আমেজ থাকছে না।

যেহেতু সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। তাই সবকিছুই সীমিত আকারে হতে যাচ্ছে।

আগামী ১০ জুন বিকেল ৫টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে বাজেট আলোচনা শেষে পাস হতে যাচ্ছে।

আগামী ১০ জুন সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর সদ্য প্রয়াত সংসদ সদস্যের ওপর আনীত শোক প্রস্তাবের আলোচনা শেষ করেই দিনের কার্যসূচি মুলতুবি হতে পারে। এরপর ১১ জুন সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে নতুন অর্থবছরের অর্থাৎ ২০২০-২০২১ এর বাজেট অনুমোদন দেওয়া হবে।

অন্যান্য বাজেট অধিবেশনের মতো এবারও মন্ত্রিসভায় বাজেট অনুমোদন হওয়ার পর সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে বসেই রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ খসড়া বাজেটের অনুমোদন দেবেন। এরপর অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন।

এবারের বাজেট অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীসহ ১০ জন মন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন, এরকম একটি বিজ্ঞপ্তি এরই মধ্যে জারি হয়েছে। এছাড়া একজন প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। অন্যান্য বাজেট অধিবেশনে মন্ত্রিসভার পূর্ণ সদস্যরাই উপস্থিত থাকতেন।

এবার সংসদ সচিবালয়ে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আসতে হচ্ছে না। মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকের জন্য নির্ধারিত মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ ১০ জন সচিব/সিনিয়র সচিব উপস্থিত থাকবেন।

প্রতি অর্থবছরে বাজেট উপস্থাপনের দিন বিশিষ্ট ব্যক্তি, কূটনৈতিক প্রতিনিধি, গণমাধ্যমের সম্পাদকরা আমন্ত্রণ পেয়ে থাকেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার অতিথি নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

বাজেট বইয়ের সেটও ছোট হচ্ছে। শুধু অত্যাবশকীয় ৬টি বই এবারের বাজেট ব্যাগে থাকবে। তবে কয়েক বছরের ধারাবাহিকতা ভেঙে এবার পাটের ব্যাগ আর থাকছে না।

করোনা পরিস্থিতির কারণে বাজেট অধিবেশনে সবকিছুই সীমিত আকারে হবে। শুধু কোরাম পূর্ণ করার তাগিদে নির্দিষ্ট কিছু সংসদ সদস্যকে উপস্থিত থাকতে বলা হচ্ছে। সংসদ সদস্যদের সঙ্গে থাকা স্টাফদের প্রবেশে অনুমতি থাকছে না।

সংসদ সদস্যদের বসার স্থান নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে হবে। সংসদের ভেতরে প্রবেশ গেটেই থাকবে থার্মাল স্ক্যানার। প্রত্যেকের তাপমাত্রা মেপে ভেতরে প্রবেশের অনুমোতি মিলবে।

এবার আর বাজেটের ওপর দীর্ঘ আলোচনা হবে না। নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে আগামী ৩০ জুন বাজেট পাস হবে। তবে এবার টানা বাজেট অধিবেশন চলছে না। প্রথম দুই দিন অর্থাৎ ১০, ১১ জুন চলার পর ১২ ও ১৩ জুন সাপ্তাহিক ছুটি। এরপর ১৪ ও ১৫ জুন চলবে আবার বিরতি। এভাবে বিরতি দিয়ে মোট ৭ কার্যদিবস চলতে পারে অধিবেশন।

সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এখন পর্যন্ত যতদূর জানি মোট ৭ কার্যদিবস বাজেট সেশন চলবে। তবে বাজেট পাস হবে ৩০ জুন।

অধিবেশন কতদিন চলবে, কীভাবে চলবে সব চূড়ান্ত হবে ১০ জুন অধিবেশন শুরু আগে কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে। স্পিকারের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অংশ নেবেন।

বাজেট অধিবেশন প্রসঙ্গে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বার্তা২৪.কমকে বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার টানা সেশন চলবে না, গ্যাপ দিয়ে দিয়ে সেশন চলবে। সেশনে সকল সংসদ সদস্য থাকবেন না। কোরাম যাতে পূর্ণ হয় সেদিকে খেয়াল রেখে সিলেকক্টিভ কিছু সংসদ সদস্য থাকবেন।

আগামী ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংসদে তার দ্বিতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন। আর এটি হবে দেশের ইতিহাসের ৪৯তম বাজেট।

আপনার মতামত লিখুন :