ভেঙেছ দুয়ার, এসেছ জ্যোতির্ময়, তোমারি হউক জয়

ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
শতবর্ষের স্মরণের স্বর্ণালোকে বঙ্গবন্ধু/ছবি: সংগৃহীত

শতবর্ষের স্মরণের স্বর্ণালোকে বঙ্গবন্ধু/ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটি বাঙালির হৃদয়ের সবটুকু শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, সম্মান আর বিশ্ব নেতৃবৃন্দের মর্যাদাপূর্ণ অভিভাষণে সিক্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক জন্মশতবর্ষের আনুষ্ঠানিকতায় সূচিত হলো মুজিববর্ষ। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা জনকের স্মরণে আলোকোজ্জ্বল বর্ণিল আয়োজনে উদ্ভাসিত হলো।

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি, বাঙালি জাতীয়তাবাদের মোহন রূপকার, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় ছিল সমগ্র জাতি। অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ ও সারা বিশ্ব। মানুষের মুক্তি, স্বাধীনতা, অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অগ্রযাত্রার মহান অগ্রদূত বঙ্গবন্ধুকে শতবর্ষের স্বর্ণালী আভায় বরণের এই অপেক্ষার অবসানে শুরু হলো মুজিববর্ষ।

মুজিববর্ষ, জনকের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ স্তরে উত্তীর্ণ করার প্রত্যয়দীপ্ত অঙ্গীকারে উদ্বেলিত। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা, জননেত্রী-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলাকে বাস্তবে রূপদানের আশাবাদে শিহরিত, মুজিববর্ষের প্রেরণাময় পদযাত্রার মাধ্যমে যা আগামী বছর স্পর্শ করবে স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশের দেদীপ্যমান সুবর্ণ জয়ন্তীকে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে সমগ্র জাতির ঐতিহাসিক পথযাত্রায় সংযোজিত হয়েছে নতুন প্রাণাবেগ। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রসারিত সবুজ, শ্যামল বাংলাদেশ জেগে উঠেছে সৃষ্টির নবতর তরঙ্গে ও প্রতীতিতে। মুজিববর্ষের এই ঐতিহাসিক সূচনায় সংগ্রামশীল বাঙালি অর্জন করেছে উন্নততর বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঐক্যবদ্ধ প্রত্যয়।

এই মহালগ্নে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নির্মাতা, বাঙালি জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মহান জীবনাদর্শ মূর্ত হয়েছে প্রতিটি বাঙালির মধ্যে। দেশ ও জাতির জন্য সমগ্র জীবন উৎসর্গের যে অনুপম আদর্শ বঙ্গবন্ধু জাতিসত্তার প্রতিটি সদস্যের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন, তা আরও সম্প্রসারিত হয়েছে প্রজন্ম পরম্পরায়।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে মুজিব বর্ষের আনুষ্ঠানিক সূচনার সমান্তরালে সারা দেশ ও সমগ্র জাতি যেমনভাবে উৎসবমুখর হয়েছে, তেমনিভাবে মুজিবাদর্শেও সঞ্জীবিত হয়েছে। মানবকল্যাণের শত আয়োজনে উজ্জ্বলতর হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, মুজিববর্ষ।

বাংলাদেশের প্রতিটি স্থানে জনকের স্মরণে কল্যাণ কর্মের শত শত দৃষ্টান্ত দীপ্তিমান করেছে পুরো আয়োজনকে। গৃহহীনদের ঘর দেওয়া হয়েছে। বিতরণ করা হয়েছে হুইল চেয়ার। অসহায়, রোগী ও দুঃস্থ নর-নারী পেয়েছে বহুমুখী সাহায্য ও সহযোগিতা।

রক্তদান, বৃক্ষরোপণ, মশা নিধন, পরিবেশ রক্ষার মতো বহু মঙ্গল প্রচেষ্টায় মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছে বঙ্গবন্ধুর অনিঃশেষ প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে । শপথ নিয়েছে সবাই, মৌলবাদ, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে শান্তির বাংলাদেশ গড়ার, যেখানে সকল মানুষ, নারী, শিশু, সংখ্যালঘু নির্বিশেষে সকলেই সুখী ও মর্যাদাবান জীবনের অধিকারী হবে। মানুষ মুক্ত হবে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, শোষণ, বঞ্চনার নাগপাশ থেকে। আলোকিত ও উন্নত জীবনের বিভা ছড়িয়ে পড়বে সকলের মধ্যে, ঘরে ঘরে, সারা বাংলাদেশে।

বঙ্গবন্ধু সম্মোহনী নেতৃত্ব যেমন করে বাঙালিকে মুক্তির দিশা দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছে, তেমনি জন্মশতবর্ষের দ্যোতনায় তিনি উন্নতি-অগ্রগতি-আশাবাদের আলোকবর্তিকা হয়ে জ্বলজ্বল করছেন প্রতিটি বাঙালির চিত্তে, লাল-সবুজ বাংলাদেশের প্রকৃতি ও নিসর্গে।

শতবর্ষের স্মরণের স্বর্ণালোকে বঙ্গবন্ধু জয়ধ্বণিত হচ্ছেন বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতিসত্তার অন্তরের মর্মমূলে। কবিগুরুর অবিস্মরণীয় ভাষায় তিনি জনতার সম্মিলিত মহাকণ্ঠে পুনরুচ্চারিত হচ্ছেন সুরে, ছন্দে, স্বপ্নে, কর্মে, প্রেরণায়। বঙ্গবন্ধু নামে ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, 'ভেঙেছ দুয়ার, এসেছ জ্যোতির্ময়, তোমারি হউক জয়'।

আরও পড়ুন: জন্মশতবর্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু

আপনার মতামত লিখুন :