'ইতিহাস বিকৃত করে অপরাজনীতিতে নেমেছে সরকার'



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
পুরনো ছবি

পুরনো ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

ক্ষমতায় টিকে থাকতে সরকার ইতিহাস বিকৃত করে অপরাজনীতিতে নেমেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন। ১৫ আগস্টের ঘটনার সাথে জিয়াউর রহমানকে জড়িত করে সরকার প্রধানের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠাকারী ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা শহীদ জিয়াউর রহমান বীরউত্তমকে বিতর্কিত করার হীন উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা অপপ্রচারের একটি সংগঠিত ঘৃণ্য অপতৎপরতা জাতি গভীর ক্ষোভের সাথে লক্ষ্য করছে। ১৫ আগস্ট সরকার প্রধান কর্তৃক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকাকে বিকৃত করার মাধ্যমে সে অপচেষ্টা নতুনভাবে শুরু করা হলো। এখন আর বর্তমান সরকারের কোনো রাজনীতি নেই। তারা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য অপরাজনীতিতে নেমেছে। আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তমকে নিয়ে এহেন ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচারের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।

একই সঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা যে গণতান্ত্রিক চেতনা, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যুদ্ধ করেছিলাম, গত এক দশকের অধিককাল ধরে বর্তমান সরকার সেই চেতনাকে হিমাগারে পাঠিয়েছে। সেই চেতনাকে বিনষ্ট করে দিয়ে তারা একটি ফ্যাসিবাদী সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। ক্ষমতাসীনরা এই মিথ্যাচার করে ইতিহাস বিকৃত করার প্রক্রিয়ায় জিয়াউর রহমানকে খাটো করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। শহীদ জিয়াউর রহমানকে নিয়ে এহেন মিথ্যাচার ও তার চরিত্র হননের অপপ্রয়াসে আপামর জনগণ দারুণভাবে ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। শহীদ জিয়া ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কোটি কোটি ভক্ত ও অনুরক্তরা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংগঠিত এই ষড়যন্ত্রকে শুধু ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যানই করছে না। নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির মাধ্যমে এই ষড়যন্ত্রকে ভেঙে চুরমার করে দেয়ার দৃপ্ত শপথ ঘোষণা করছে।

১৫ আগস্টের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, জিয়াউর রহমানকে ১৫ আগস্ট হত্যা মামলার সাথে সম্পৃক্ত করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের কারা হত্যা করেছে সেটা শেখ হাসিনার দায়ের করা মামলায় ইতিমধ্যে আদালতে নির্ধারিত হয়ে গেছে এবং এই হত্যার জন্য কোথাও জিয়াউর রহমানকে দোষারোপ করার মতো কিছুই পাওয়া যায়নি। ওই মামলায় জিয়াউর রহমান কিংবা তার ঘনিষ্ঠ কাউকে আসামিও করা হয়নি। কিন্তু তাতে আওয়ামী লীগের মন ভরছে না। এখন তারা জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পৃক্ত করার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর তার মরদেহের উপর দিয়ে খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে যে মন্ত্রীসভা হয়েছিলো তারা সকলেই আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বলে দালিলিক প্রমাণ তুলে ধরেন ফখরুল।

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন নসু ও চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।