রাজনীতিতে ব্যর্থতার দায়দায়িত্ব আমার, সফলতার ভাগ সবার



শাহজাহান মোল্লা, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে আরও সুসংগঠিত করার জন্য টিম গঠন করে সাংগঠনিক সফর করার নির্দেশনা দিয়েছেন দলের প্রধান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সেই নির্দেশনার আলোকে সাংগঠনিক সম্পাদকরা নিজেদের কর্মপরিকল্পনা সাজাতে ব্যস্ত। কিভাবে হবে নেতা নির্বাচন। এবারও কি সুবিধাভোগী দুধের মাছি দলে জায়গা পাবে? বার্তা২৪.কম.কম এর এমন সব প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তার বাসভবনে একান্ত আলাপ চারিতায় উঠে আসে নানান কথা। তিনি বলেছেন, ‘রাজনীতিতে চলার পথটা চ্যালেঞ্জের: ব্যর্থতার দায়দায়িত্ব আমার, সফলতার ভাগ সবার।’

বার্তা২৪.কম: আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সাংগঠনিক সফর করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার আলোকে আপনাদের ভাবনা কি?

এসএম কামাল হোসেন: আমাদের অনেকগুলো জেলা সম্মেলন হয়ে গেছে কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে। পরবর্তীতে সম্মেলনের মধ্য দিয়ে কার্যনির্বাহী কমিটি হওয়ার পর সাংগঠনিক প্রক্রিয়া শুরু করি। উপজেলা সম্মেলনের তারিখও নির্ধারণ করেছিলাম। কিন্তু করোনার কারণে সেভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম আমরা করিনি, কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। আমাদের কমিটি গঠন প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। সেই ক্ষেত্রে জননেত্রী শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনায় আমরা এখন একটি টিম গঠন করে ইতিমধ্যে তৃণমূল থেকে সম্মেলন করার মধ্য দিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমগুলো শুরু করার প্রক্রিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করছি।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন

আপনারা জানেন ৫টি সংসদীয় আসনে উপনির্বাচন হচ্ছে। নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় এবং মানুষ যাতে নৌকার পক্ষে ভোট দেয় সেই কারণে আমাদের সংগঠনকে গতিশীল করার জন্য আমরা নির্বাচনী এলাকায় সবাই কাজ করছি। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধি সভা করে, বর্ধিত সভা করে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তাছাড়া জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে যে জেলাগুলোর সম্মেলন হয়েছে সেই জেলাগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই জেলার মধ্যে অনেক জেলার কমিটিই কেন্দ্রীয় দফতরে জমা দিয়েছে। অর্থাৎ সাংগঠনিক কার্যক্রম আমাদের শুরু হয়ে গেছে।

বার্তা২৪.কম: কেন্দ্রে যে সকল কমিটি জমা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কিছু অভিযোগ শোনা যাচ্ছে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কিংবা এমপিরা তাদের কাছের পছন্দের লোককে নেতা বানানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে, আপনাদের সঙ্গে তারা যোগাযোগও করছেন? এব্যাপারে আপনারা কি ভাবছেন?

এস এম কামাল হোসেন: না, হ্যাঁ, কিছু পক্ষপাতিত্ব থাকতে পারে। সেই জন্য আমাদের কাছে কমিটি আসলে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখার চেষ্টা করছি। কারো সাথে কারো ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকতে পারে, সেই কারণে কমিটিতে থাকবে না এমন না। আমরা যেটাতে জোর দিয়েছি সেটা হচ্ছে- দুঃসময়ে যারা সংগঠনের জন্য কাজ করেছে, যারা ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বে ছিল, যুবলীগের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বে ছিল, যাদের নামে কোনো অভিযোগ নেই যাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা নাই, যাদের নামে মাদকের মামলা নাই, মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নাই, মানে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে এমন ধরনের লোক যেন দলীয় কোনো পর্যায়ে না থাকে, সাংগঠনিক কোনো পর্যায়ে না থাকে এব্যাপারে নেত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা সেই ভাবেই খেয়াল রাখছি। আমরা আশাকরি যাদের কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে তারা কোনো ভাবেই নেতা নির্বাচিত হবেন না।

বার্তা২৪.কম: দলে বিভিন্ন সময় অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে পড়ে এর দায় কার? এবার নেতৃত্ব বাছাই করার ক্ষেত্রে ত্যাগীদের কথা বলছেন অতীতেও এমন নির্দেশনা ছিল তারপরেও এধরনের নেতা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আসে কিভাবে?

এস এম কামাল হোসেন: আমরা অনেকেই অতীত ইতিহাস জানি। জেলার প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি অনেক সময় আমাদের কারোর ওপর ভর করে দলে ঢুকে যায়। এগুলো আমরা খুব কড়াকড়িভাবে নজর রাখছি। যাতে এ ধরনের লোক দলে না ঢুকে যায়। হ্যাঁ একটা লোক সরাসরি আওয়ামী লীগ করে না কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক তার গ্রহণযোগ্যতা আছে। তার এলাকায় সুনাম আছে এই ধরনের লোককে দলের পদে আসতে বাধা দেব না। কিন্তু সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের ক্ষেত্রে আমরা সিরিয়াস। এই ক্ষেত্রে অতীতে যারা ত্যাগী লোক, যাদের দলে গ্রহণযোগ্যতা আছে দুঃসময়ে যারা আওয়ামী লীগ করেছে তাদেরকে নেতা নির্বাচিত করা হবে। বিভিন্ন পদে অনেক সময় হয়তো আমরা মনে করি যে একটা লোক জেলার কোনো পদে ছিল না কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক সামাজিকভাবে তার গ্রহণযোগ্যতা আছে। ওই লোকটা দলের কোনো পর্যায়ে কোনো পদে আসলে আমরা বাধা দেব না। আমরা তো যে লোকটার জনপ্রিয়তা আছে যে লোকটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে ওই লোকটাকেই তো দলে জায়গা করে দিতে হবে।

বার্তা২৪.কম: কেন্দ্রে যে সকল জেলার তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে। সেখানে যদি কারো ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় দলে বিতর্কিত কেউ ঢুকে যায় সেক্ষেত্রে কি করবেন?

এসএম কামাল হোসেন: যদি ধরনের কোনো লোক ঢুকে যায় আমাদের কাছে অভিযোগ আসে অবশ্যই, এটা তো অনুমোদন দেবে কার্যনির্বাহী কমিটি, কমিটি জমা দিলেই তো পাস হবে না। প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এটা অনুমোদন দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে সেই অভিযোগগুলো তুলে ধরব। সেই ক্ষেত্রে কার্যনির্বাহী কমিটি মনে করলে তারা বাদ যাবে। জমা দেওয়া মনেই কমিটি ফাইনাল হবে তেমনটা না। যত সময় পর্যন্ত এটা পাস না হবে।  

বার্তা২৪.কম.কম: আপনি তো সাংগঠনিক নেতা হিসাবে উপ নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করছেন? এটা আপনার জন্য চ্যালেঞ্জ কি না?

এসএম কামাল হোসেন: আমি সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার পর, আমি যে বিভাগের দায়িত্বে সেই বিভাগের তিন আসনে উপনির্বাচন হচ্ছে। ইতিমধ্যে দু’টির তারিখ ঘোষণা হয়েছে। একটি আসনে ২৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন। আমরা শুরুতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে বৈঠক করেছি। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে বৈঠক করেছি, দুটি পথসভা করেছি। আমরা মনে করি দল ঐক্যবদ্ধ, আমাদের প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা আছে এবং আমাদের নেত্রীর জনপ্রিয়তা আছে এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে মানুষের আস্থা আছে, আর যেহেতু আসনগুলো নৌকার ছিল আশাকরি নৌকাই আবার জয়ী হবে। আমি নিজে সেখানে স্বশরীরে উপস্থিত থেকেই দলকে সুসংগঠিত করার জন্য দলের প্রতিটি নেতাকর্মী যাতে নির্বাচনের পক্ষে কাজ করে কোনো বিভেদ না থাকে সেই চেষ্টা করছি।

বার্তা২৪.কম: আপনার ওপর প্রথম উপনির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এটাকে চ্যালেঞ্জ মনে করছেন কি না?

এস এম কামাল হোসেন: রাজনীতিতে চলার পথই তো চ্যালেঞ্জ। প্রতিটি পদক্ষেপেই আমাদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। আমরা মনে করি প্রতিটি জিনিসই আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। এটা একটা যুদ্ধ। এই যুদ্ধের ময়দানে ব্যর্থতার দায়দায়িত্ব আমার আর সফলতার ভাগ সবার। যদি কোথাও কোনো নির্বাচনে কোনো রকম কিছু হয় তার দায়দায়িত্ব অধিকাংশ আমাকেই বহন করতে হবে। সেটা তো আমার জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। সফলতা হলে আমরা মনে করি সফলতা দলের। সফলতা সকল নেতা-কর্মীদের। আমার বিশ্বাস যে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ, নেত্রী যেভাবে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন আমরা সেভাবে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করেছি আশাকরি আমরা এখানে জয়লাভ করব। জয়লাভ করাটা আমার জন্য চ্যালেঞ্জ।

বার্তা২৪.কম: দীর্ঘক্ষণ সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

এসএম কামাল হোসেন: আপনার মাধ্যমে বার্তা২৪.কম.কম এর সকলকে ধন্যবাদ।