গণতন্ত্রের স্বার্থেই নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার দরকার: জিএম কাদের



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট , বার্তা২৪.কম, ঢাকা
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের। ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি বলেছেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের স্বার্থেই নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার দরকার। প্রচলিত নির্বাচন ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর নয়। তাই, ভোটের আনুপাতিক হারে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ছাত্র সমাজ আয়োজিত উপজেলা দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।

জিএম কাদের বলেন, সংস্কার হলে দেশের সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে সংসদে। বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থায় শুধু বড় দুই থেকে তিনটি দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়। সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মতই যদি সারাদেশের ভোটের আনুপাতিক হারে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় তাহলে গণমানুষের আশা-আকাংখার প্রতিফলন হবে। ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের জন্য এককেন্দ্রীক সরকার ব্যবস্থায় সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই ফেডারেল সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। তাই দেশে ৮টি প্রাদেশিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে ৮টি প্রাদেশিক সরকার গণমানুষের প্রত্যাশা নিখুঁতভাবে পূরণ করতে পারবে। এতে প্রশাসন, বিচার, স্বাস্থ্যসহ সকল সেবা নিশ্চিত হবে।

তিনি বলেন, গণমানুষের ভোটের রায় সবসময় মঙ্গলময়। সাধারণ মানুষ ভোট দিতে কখনো ভুল করেনা। ভোটের আনুপাতিক হারে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে ভোটে কালো টাকার খেলা বন্ধ হবে। নির্বাচনে খুনা-খুনি হবে না। গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে সংবিধান থেকে ৭০ ধারা তুলে দিতে হবে। ৭০ ধারার কারণে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দলীয় প্রধান সরকার প্রধান হন, এতে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কোন সংসদ সদস্য ভোট দিতে পারেন না। দলীয় প্রধান যা বলেন, তাই কার্যকর হয়। তাই ৭০ ধারায় একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়, যা স্বৈরতন্ত্রের পর্যায়ে পরে। এতে সংসদের কাছে সরকারের জবাবদিহিতা থাকে না। আর জবাবদিহিতা না থাকলে সুশাসন নিশ্চিত হয় না।

তিনি আরো বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ উপনিবেশিক প্রথা ভেঙে গণমানুষের কল্যাণে অনেক সংস্কার করেছেন। তিনি প্রকৃত গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। তাই গণমানুষের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অধীনে আমলাদের পরিচালিত করে ন্যায় বিচার ভিত্তিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অধীনে উপজেলা পরিষদে প্রথম শ্রেনীর কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছিলেন। পাশাপাশি নির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের অধীনে প্রশাসনকে কার্যকর করেছিলেন। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আমলাদের এসিআর লিখতেন, এতে গণমানুষের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হতো। ৯১ সালের নির্বাচনের পর একটি আদেশে তৎকালীন বিএনপি সরকার গণমানুষের প্রত্যাশার উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। কিন্তু পরবর্তী সরকার গণদাবি মেনে আবারো উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু এতে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ-এর স্বপ্নের উপজেলা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বর্তমান উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থায় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। এতে আমলাতন্ত্রের ওপর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ক্ষমতা নেই বললেই চলে।

এরশাদের স্বপ্নের উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবি জানিয়ে বলেন, উপজেলা ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বর্তমান উপজেলা ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষকে বোকা বানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে।

জাতীয় ছাত্র সমাজের সভাপতি ইব্রাহীম খান জুয়েল-এর সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল মামুন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, আলমগীর সিকদার লোটন, ভাইস-চেয়ারম্যান- নূরুল ইসলাম তালুকদার এমপি, উপদেষ্টা-প্রিন্সিপাল গোলাম মোস্তফা, যুগ্ম মহাসচিব- অ্যাড. আব্দুল হামিদ ভাসানী, ফখরুল আহসান শাহজাদা, মোঃ বেলাল হোসেন, একেএম আশরাফুজ্জামান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।