মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে সংগ্রাম করতে হবে: জিএম কাদের



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
জিএম কাদের এমপি

জিএম কাদের এমপি

  • Font increase
  • Font Decrease

সুবর্ণজয়ন্তী মূল্যায়ন করলে দেখা যায়, স্বাধীনতার স্বপ্ন এখনও পূরণ হয়নি, স্বাধীনতার পূর্বে পশ্চিম পাকিস্তানিরা আমাদের স্বার্থে বৈষম্য সৃষ্টি করেছিলো। তখন স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা সংগ্রাম সৃষ্টি হয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের এমপি।

শনিবার (২৭ মার্চ) জাপার বনানী কার্যালয়ে এক যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে গাজীপুরের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মো. জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে অর্ধশত নেতা-কর্মী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের হাতে ফুল দিয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন।

তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে আমরা স্বাধীন হয়েছি কিন্তু বৈষ্যম্য থেকে আমরা মুক্তি পাইনি। ১৯৯১ সালের পর থেকে সংবিধান সংশোধন করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে স্বৈরতন্ত্র কায়েম করেছে। দলীয়করণের মাধ্যমে দেশের চাকরি, ব্যবসা এবং আইনের শাসনে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। বৈষম্যের কারণে অওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয়করণের মাধ্যমে দখলবাজী, টেন্ডারবাজী, চাঁদাবাজী করে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছে। তারা হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে। তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে আবারো সংগ্রাম করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকে সংবিধান সংশোধন করে এমন সরকার ব্যবস্থা সৃষ্টি করা হয়েছে যাকে সংসদীয় গণতন্ত্র বলা যায় না। কারণ, দেশের নির্বাহী বিভাগ ও আইন সভা এবং বিচার বিভাগের ৯৫ ভাগই সরকার প্রধানের হাতে। তার ইচ্ছা-অনিচ্ছার বাইরে কোন কিছু সম্ভব নয়। একারণে দেশে আইনের শাসন নেই, সমাজে সুশাসন নেই। দেশের মানুষের নিরাপত্তা নেই। সড়কে নিরাপত্তা নেই, বাস-ট্রেনে নিরাপত্তা নেই, ব্যবসা-বাণিজ্যেও নিরাপত্তা নেই। চাঁদা ছাড়া কেউ ব্যবসা করতে পারে না। এখন করোনায় প্রতিদিন যত লোক মারা যায়, তার চেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় সড়ক দুর্ঘটনায়। পরিবহন সেক্টর সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই, মনে হচ্ছে পরিবহন সেক্টরই সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

তিনি বলেন, সংসদীয় সরকার পদ্ধতির নামের ভেজাল গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই করতে হবে। আমরা প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবো। দেশের মানুষ মুক্তি চায়, দেশের মানুষ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। দেশের মানুষ আর আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শাসন দেখতে চায় না।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, রাস্তায় বিজিবি নামিয়ে সরকার প্রমাণ করেছে, দেশে আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণ নেই। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেতে দেশের মানুষ জাতীয় পার্টির দিকে তাকিয়ে আছে। তাই প্রতিদিনই বিশিষ্টজনরা দলে দলে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিচ্ছেন।

অন্যদের মধ্য বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুস সাত্তার মিয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য মো. আবুল হোসেন, ফারিন হাসান, মিথিলা রোয়াজা। উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মনিরুল ইসলাম মিলন, দফতর সম্পাদক-২ এম এ রাজ্জাক খান, কেন্দ্রীয় সদস্য মোতাহার হোসেন প্রমুখ।