‘সরকারের দোষ-ত্রুটি খুঁজে বের করা বিএনপির মজ্জাগত স্বভাব’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারের সব কিছুতে দোষ-ত্রুটি খুঁজে বের করা বিএনপির মজ্জাগত স্বভাবে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার (৪ মে) বিকেলে তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সেতুমন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন।

গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলা বিএনপির মুখে শোভা পায় না উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ক্ষমতায় থাকতে তারা ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের কলঙ্কিত অধ্যায়ও এদেশে সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা পূর্ণিমার আলো ঝলঝল রাতেও অমাবশ্যার অন্ধকার দেখতে পায়।।

নির্বাচন ব্যবস্থাকে দলীয়করণ করার রেকর্ডে বিএনপি চ্যাম্পিয়ন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তারা এক কোটি সোয়া লাখ ভুয়া ভোটার দিয়ে আজিজ মার্কা প্রহসনের নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছিল। যার কারণে দেশে এক এগারোর মতো অবস্থা তৈরি হয়েছিল।

মাগুরা ও ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনের সেই জালিয়াতির কথা দেশের মানুষ এখনো ভুলে যায়নি বলেও স্মরণ করিয়ে দেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, বিএনপির আমলে সকাল ১০টার মধ্যেই ভোট প্রদান শেষ করে দেওয়া হয়েছিলো, তখন চট্টগ্রামের একটি কেন্দ্রে ভোট গণনার আগেই চূড়ান্ত ফলাফল রেডিও, টিভিতে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।কাজেই বিএনপির মুখে নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থার বুলি ‘ভূতের মুখে রাম রাম ধ্বনির মতো’।

অসহায় কর্মহীন, খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সাড়ে ছত্রিশ লাখ পরিবারকে নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ বা দলীয় নেতাকর্মীদের আত্মীয় স্বজন দেখে নয়, বরং নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া পরিবারের তালিকা করে এবং যাচাই বাছাই এর মাধ্যমে এসব সাহায্য দেওয়া হচ্ছে। মুখ দেখে দেওয়ার কোন সুযোগ নেই।

নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা এবার যেন কোনভাবেই বেহাতে না যায় সে ব্যাপারেও ইতিমধ্যে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

ওবায়দুল কাদের হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা বিতরণে কেউ কোন অপকর্ম ও অনিয়ম করলে তাকে কঠোর শাস্তি পেতে হবে।

গণমাধ্যম নাকি সরকার নিজের মত করে নিয়েছে, - বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের প্রশ্ন রেখে বলেন, গণমাধ্যমের ওপর সরকারের যদি নিয়ন্ত্রণই থাকবে তাহলে প্রতিদিন তারা সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার আর মিথ্যাচার করে কেমন করে? এমনকি বিএনপির কোন নেতা কর্মীকেও গ্রেফতার করা হয়নি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনে করেন আন্দোলন ও নির্বাচনে ব্যর্থ বিএনপি এখনও টিকে আছে স্বাধীন গণমাধ্যম আছে বলেই।

করোনা মহামারিতে শেখ হাসিনা সরকার দিনরাত করোনাপীড়িত মানুষের চিকিৎসা, সংক্রমণ রোধ এবং অসহায় মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান অব্যাহত রেখে কর্মহীনদের সুরক্ষায় আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। অথচ বিএনপি শুধু তাদের কথাই বলে যাচ্ছে।

সরকারের কোন উদ্যোগ বিএনপির চোখে পড়ে না। এই সংকটকালে জনগণের জীবন ও জীবিকার মাঝে ভারসাম্য তৈরিতে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা না করে তারা তোতা পাখির মতো শেখানো বুলি অবিরাম আওড়িয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। বিএনপির অনবরত মিথ্যাচার এখন তাদের একমাত্র অস্ত্র।