কুমিল্লা-৫ উপনির্বাচন: টাকার বিনিময়ে প্রার্থীতা প্রত্যাহার, জাপা নেতা বহিষ্কার



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুমিল্লা
মো. জসিম উদ্দিন

মো. জসিম উদ্দিন

  • Font increase
  • Font Decrease

দলকে না জানিয়ে গোপনে কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের উপ-নির্বাচনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতা মো. জসিম উদ্দিনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জসিম উদ্দিন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির (জাপা) আহ্বায়কের পদে ছিলেন।

মঙ্গলবার (২২ জুন) দুপুরে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক ওবায়দুল কবীর মোহন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সোমবার জাপা চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি গঠনতন্ত্রের ২০/১ (১) ক ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জসিমকে বহিষ্কার করেন। একইসঙ্গে দলটির কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই উপনির্বাচনে প্রার্থী জসিম উদ্দিন টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয়ে আত্মগোপনে আছেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন কাউকে না জানিয়ে। এজন্য তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় পার্টির সংসদীয় বোর্ড প্রার্থী মনোনয়নের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে যেকোনো পরিস্থিতিতে নির্বাচনের শেষ দিন পর্যন্ত মাঠে থাকার প্রতিশ্রুতিতে জসিম উদ্দিনকে কুমিল্লা-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্তকে অমান্য করেছেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, আগামী ২৪ জুন মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য থাকলেও চারদিন আগেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান জাপা প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন। ২০ জুন বিকেলে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এসে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসানের কাছে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের আবেদনটি জমা দেন তিনি। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম খাঁন। এ আসন থেকে মাত্র দুজনই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

এদিকে, বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জসিম উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, কুমিল্লা–৫ আসনের আওয়ামী লীগের দলীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু গত ১৪ এপ্রিল রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপর গত ২২ এপ্রিল এই আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়। ২ জুন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, এই আসনে ভোট গ্রহণের নির্ধারিত তারিখ ছিলো ২৮ জুলাই।