বিএনপি একটা বহমান বিশাল স্রোতস্বিনী নদী: ফখরুল



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপি একটা বহমান বিশাল স্রোতস্বিনী নদী। এখানে কখনো কখনো খড়কুটো এসে পড়ে, আবার তা চলে যায়। তাতে করে বিএনপির কোনো ক্ষতি হয়নি, ক্ষতি হয় না।

রোববার (৪ জুলাই) দুপুরে ভার্চুয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগী এ মন্তব্য করেন।

‘বিএনপি থেকে অনেকে তলে তলে আওয়ামী লীগে যোগাযোগ করছে’- আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এরকম বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এগুলো তাদের দিবাস্বপ্নের মতো। বিএনপিকে তার জন্মের পর থেকে বিশেষ করে এর প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর থেকে বার বার চেষ্টা করা হয়েছে এই দলটিকে নিশ্চিহ্ন করবার, ভেঙে ফেলবার, জনগণকে এই দল থেকে বিচ্ছিন্ন করবার। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে প্রায় তিন বছর কারাগারে আটক রেখে এবং আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে নির্বাসিত রেখে, আমাদের ৩৫ লাখ নেতা-কর্মীকে মিথ্যা মামলা ও গায়েবি মামলা দিয়ে বার বার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা বিএনপিকে ভেঙে ফেলতে পারেনি।

ফখরুল বলেন, বিএনপি এদেশের জনগণের দল, মূলত এটি জনগণের রাজনীতি করে। আমি সবসময় বলি, ইটস এ প্ল্যাটফরম অব পিপলস। এখানে যারা এসেছে তারা মনে করে যে, বিএনপির যে রাজনীতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের যে রাজনীতি, যে দর্শন, সেই দর্শনকে সঙ্গে করে এই দলটি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যায় সামনের দিকে এবং সত্যিকার অর্থেই একটা মুক্ত রাষ্ট্র নির্মাণ করে।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে গতকাল সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, গতকাল সংসদে সংসদ নেতা হিসেবে শেখ হাসিনার বক্তব্য অনভিপ্রেত এবং রাজনৈতিক শালীনতা বিবর্জিত। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটা রুচিহীন ও কল্পকাহিনী ছাড়া আর কিছুই নয়। সংসদ নেতা তার মনগড়া কল্পকাহিনীর মধ্য দিয়ে একজন মহান মুক্তিযোদ্ধা, গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রী এবং জনগণের আস্থাভাজন প্রিয় নেতাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে চেয়েছেন। এই ধরনের বক্তব্য সংসদ নেতার কাছ থেকে জাতি আশা করে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, ক্রমাগত বর্ষণের ফলে এবং ভারতের উজানে সকল বাঁধ খুলে দেওয়ার কারণে প্রায় ১০টি জেলায় আকস্মিকভাবে বন্যা পরিস্থিতি উদ্ভব হওয়ায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। অপরিকল্পিত ও দুর্বল নির্মাণ কাজের কারণে সড়ক ও বাঁধগুলো ভেঙে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাপক ফসলহানি হওয়ায় কৃষকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বন্যা দুর্গত এলাকায় অবিলম্বে সরকারি ত্রাণ বিতরণ এবং বীজতলা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় নতুন বীজ সরবরাহের দাবি জানাচ্ছি। দলের নেতা-কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে উপদ্রুত এলাকায় দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানাচ্ছি।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য টিকার ব্যবস্থা না করে সরকার ছলনা ও প্রতারণা করছে অভিযোগ করে অবিলম্বে তাদেরকে বিশেষ ব্যবস্থায় টিকা দেওয়া নিশ্চিত করার দাবি জানান ফখরুল।