লকডাউন ‘খেলা’ সরকারের মর্মান্তিক তামাশা: বিএনপি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের লকডাউন লকডাউন ‘খেলা’ মর্মান্তিক তামাশা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (১৮ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। ১৭ জুলাই বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভার সিদ্ধান্ত জানাতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, গত ১৪ জুলাই কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় গ্যাটকো মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ মিলেছে শিরোমানে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তাতে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় বিস্ময় এবং ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। গ্যাটকো মামলাটি এখনও অভিযোগ গঠন হয়নি। শুধু মাত্র চার্জশিট দেওয়া হয়েছে কয়েক বৎসর পূর্বে। এখন পর্যন্ত বিচার কার্যক্রম শুরু হয়নি। ২০১৮ সালের ২৫ নভেম্বর দু’জন অভিযুক্ত ব্যক্তির অভিযোগ থেকে অব্যাহতির প্রাপ্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের একটি আদালত উক্ত আবেদন খারিজ করে সংশ্লিষ্ট রায় দেন। প্রায় তিন বৎসর পর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন হাইকোর্ট গত ১৩ জুলাই। মামলা নিম্ন আদালতে বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় তিন বৎসর পর প্রকাশিত রায়ে উচ্চ আদালতের এই ধরনের মন্তব্য উদ্দেশ্যমূলক এবং অগ্রহণযোগ্য। এই ধরনের মন্তব্য নিম্ন আদালতেকে প্রভাবিত করবে বলে প্রতীয়মান হয়।

তিনি বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক মহামারি করোনা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে। বিশেষ করে করোনার টিকা নিয়ে সরকার যে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে গোটা পরিস্থিতিকে লেজে গোবরে করে ফেলেছে। এখন পর্যন্ত ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট, চীনের সিনোফার্ম ও কোভ্যাক্স প্লাট ফার্ম থেকে মোট ১ কোটি ১৬ লাখ ৬২০ লাখ ডোজ টিকা সংগ্রহ করেছে কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘আকুল আহ্বান’ বিজ্ঞাপনে দেড় কোটি ডোজ সংগ্রহের কথা বলায় প্রমাণিত হয়েছে সরকার করোনা শুরুর প্রথম থেকেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে।

ফখরুল বলেন, টিকার মূল্য নিয়েও মিথ্যাচার করেছে। দেশের জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে হলে ২৬ কোটি ডোজ প্রয়োজন। গড়ে প্রতি মাসে ১ কোটি টিকা দিলেও ২ বৎসর দুই মাস লাগবে। অথচ এখন পর্যন্ত টিকা প্রাপ্তির কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকার দিতে পারছেনা অথবা টিকা প্রাপ্তির উৎস সম্পর্কে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। সরকারের নিজস্ব দুর্নীতি পরায়ন মহলকে সহায়তা করার জন্যই টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণের ক্ষেত্রে সরকার সুনির্দিষ্ট কোন রোডম্যাপ প্রদানে ব্যর্থ হয়েছে। উপরন্তু মিথ্যাচারের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। প্রবাসী শ্রমিকদের ক্ষেত্রেই একইভাবে প্রতারণা করা হচ্ছে। অযোগ্যতা, দুর্নীতি পরায়নতা এই ব্যর্থতার জন্য। এর সকল দায় দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে। শুধু মিথ্যাচার করে জনগণের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার সরকারের নেই। অবিলম্বে টিকা সংগ্রহ ও বিতরণের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রথমে লকডাউন তারপরে কঠোর লকডাউন পরে শিথিল লকডাউন ঈদের ১ দিন পর থেকে আরও কঠোর লকডাউন, শিল্প কারখানা বন্ধ ঘোষণা থেকে মনে হয় সরকারি সিদ্ধান্তগুলো সবই পাবনার হেমায়েতপুর থেকে আসছে। এই সব অপরিকল্পিত পদক্ষেপের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের দিন আনে দিন খায়, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত মানুষ, হকার, ছোট ব্যবসায়ী, রিকশা শ্রমিক, ভ্যান শ্রমিক, মাঝি, বাইকের চালকেরা ও পরিবহন শ্রমিকেরা।