জিয়ার কবর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ‘হাস্যকর’: ফখরুল



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চন্দ্রিমা উদ্যানে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

'চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের লাশ যে নেই, তা খালেদা জিয়াসহ বিএনপির নেতারাও ভালো করে জানেন' - প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি মহাসচিব এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী যিনি নিশিরাতের ভোটের মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন তিনি আজকেও আবার বিশোধগার করেছেন আমাদের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের বিরুদ্ধে। তিনি তার মাজার সম্পর্কে কথা বলেছেন, তার একাত্তর সালের যুদ্ধের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেছেন। এটা একটা হাস্যকর বক্তব্য তিনি (প্রধানমন্ত্রী) রেখেছেন।

“এই বক্তব্যগুলো থেকে প্রমাণিত হয় যে, এরা কতটা প্রতিহিংসা পরায়ণ যে তারা যিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন তার ন্যূনতম যে স্বীকৃতি সেই স্বীকৃতি দিতেও তারা নারাজ। আজকে এটা ঐতিহাসিক ভাবে সত্য, দিবালোকের মতো সত্য যে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তিনি রণাঙ্গনের থেকেই যুদ্ধ করেছেন, রণাঙ্গনে থেকেই যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন। এটা দিবালোকের মতো সত্য যে আজকে তিনি (জিয়াউর রহমান) যেদিন শাহাদাত বরণ করে সেদিন এদেশের  লাখ লাখ মানুষ তার জন্য কেঁদে ছিলো এবং মানিক মিয়া এভিনিউতে লাখ লাখ মানুষের তার জানাজায় অংশ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি যে কত জনপ্রিয় নেতা ছিলেন সেটা প্রমাণিত হয়েছে।"

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ সংবিধান লঙ্ঘন করেছে, আওয়ামী লীগ যেখানে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রদ্রোহিতার কাজ করেছে। তারা গণতন্ত্র হত্যা করেছে, ভোটের অধিকার লুট করেছে, বাংলাদেশকে একটা তাবেদার রাষ্ট্রের পরিণত করেছে। সত্যিকার অর্থে বলতে কি তারা আজকে জনগণের সমস্ত অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে এটাকে একটা পুরোপুরি তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চলেছে। আওয়ামী লীগ বেশিদিন ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশি যে জাতীয়তাবাদ, বাংলাদেশে যে জাতি তার অস্তিত্ব রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) বিকালে ’২১ আগস্টের চক্রান্তমূলক গ্রেনেড হামলা’ শীর্ষক ‘ইতিহাস কথা কয়’ ব্যানারে এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

২১ আগস্টের ঘটনার প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২১ আগস্ট যে একটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের প্রথম সোপান ছিলো। প্রকৃতপক্ষে ২১ আগস্ট একটি সুদুরপ্রসারী চক্রান্ত বাংলাদেশকে আবার গণতন্ত্রহীন করার জন্য, বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নগুলোকে ভেঙে চুরমার করে দেয়ার জন্য, বাংলাদেশ যে একটি সত্যিকার অর্থে সুখী-সমৃদ্ধ রাষ্ট্র নির্মিত হবে সেই স্বপ্নকে পুরোপুরি ভেঙে দেয়ার জন্য ২১ আগস্ট।

“২১ আগস্ট এবং ১/১১ সেজন্য কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ১/১১ ঘটনার জন্য ২১ আগস্ট ছিলো একটা প্রাথমিক চক্রান্ত। ঝুঁকিটা বড় ছিলো। আমরা এই ধরনের যে ঘটনা বলুন, দুর্ঘটনার বলুন আমরা এর ঘোরতর বিরোধী। বিএনপি সবসময় যেকোনো রকম অন্যায়, হত্যা এবং সংঘাতের বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক দল। সেজন্য ওই সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ বিএনপির ওই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন, প্রতিবাদ করেছেন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা (শেখ হাসিনা) বাসায় যেতে চেয়েছিলেন কিন্তু তাকে যেতে দেয়া হয়নি, বাঁধা দেয়া হয়েছিলো।

তিনি বলেন, আমি শুধু বলতে চাই, ২১ আগস্টের পুরো বিষয়টা ছিলো একটা রাজনৈতিক বিষয়, প্রতিহিংসার রাজনীতি, চক্রান্তের রাজনীতির বিষয়। বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিতে দেয়া হবে না, বাংলাদেশকে একটা তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করা হবে, বাংলাদেশের মানুষের অধিকারগুলোকে ছিনিয়ে নেয়া হবে এবং সত্যিকার অর্থেই এদেশকে একটা নতজানু দেশ হিসেবে পরিণত করা হবে-সেটাই ছিলো উদ্দেশ্য, তার একটা অংশ ২১ আগস্ট।

তিনি আরও বলেন, আমাদের আইনজীবীবৃন্দ, আলোচকবৃন্দ যারা এখানে বক্তব্য রেখেছেন বিশেষ করে আমাদের প্রধান অতিথি তিনি যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন এটাতে প্রমাণিত হয়েছে যে, ২১ আগস্ট ছিলো সম্পূর্ণভাবে একটা সাজানো নাটক এবং সাজানো নাটকের ফলেই আওয়ামী লীগ আজকে ক্ষমতায় বসে আছে। সেজন্য আমরা খুব পরিস্কার করে বলতে পারি- ওই ঘটনার বেনিফিশিয়ারি হচ্ছে আওয়ামী লীগ। সেই কারণে আজকে তারা এটাকে ভিন্ন ভাবে ব্যাখ্যা করে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে চায়।

বিএনপি মহাসচিবের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান প্রমুখ।