জিয়াউর রহমানের লাশ পুড়ে অঙ্গার হয়ে গিয়েছিল: কাদের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

  • Font increase
  • Font Decrease

পাকিস্তানের জেনারেল জিয়াউল হকের মতো জেনারেল জিয়াউর রহমানের লাশও পুড়ে অঙ্গার হয়ে গিয়েছিল বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে কৃষক লীগের শোক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জেনারেল এরশাদ বহন করেছে সেই কফিনে নাকি জিয়াউর রহমানের লাশ ছিল, ফখরুল সাহেব এটা প্রমাণ হিসেবে এনেছে। ভিতরে কে আছে সেটা না, কফিন সেটাই কি প্রমাণ? যে ভিতরে জিয়াউর রহমানের লাশ ছিল? আমি ফখরুল সাহেবের কাছে দু-বছর ধরে একটাই প্রশ্ন করে আসছি, চট্রগ্রাম থেকে রাঙ্গুনিয়া হয়ে যে লাশ ঢাকায় এলো এর একটা ছবি দেখান। সেই লাশের একটা ছবি দেখান। তাহলে প্রমাণ কিভাবে দেবেন? আপনাদের তো যুক্তি নেই। এই কথা বলতে গেলেই তিনি বলেন ওবায়দুল কাদের মিথ্যাচার করছেন। একটা প্রশ্নরেও সঠিক জবাব তিনি দেননি।

গতকালও প্রশ্ন করেছিলাম সার্কিট হাউজ থেকে লাশটা রাঙ্গুনিয়ায় কে নিল, বলুন? লাশ কোথায় পাবেন, লাশ তো পুড়িয়ে ফেলেছে। পাকিস্তানেও বিমান দুর্ঘটনায় নিহত জেনারেল জিয়াউল হকের লাশ পুড়িয়ে ফেলেনি, পুড়ে গেছে। বিমান দুর্ঘটনায় আগুন জ্বলেছে দাউদাউ করে। বিমান দুর্ঘটনায় যখন আকাশে কোন আগুন জ্বলে সেখানে যে মানুষ থাকে, সে তো অঙ্গার হয়ে গেছে। সেখানেও জিয়াউল হককে ফয়সাল মসজিদের সামনে কফিন রেখে বিশাল জানাজা করা হয়েছে। কিন্তু ওই কফিনেও জিয়াউল হক নেই, এই কফিনেও জিয়াউর রহমান নেই। এই কথা বললেই ফখরুল সাহেব বলেন মিথ্যাচার করছেন। তাহলে প্রমাণ দিন একটা ছবি দেখান।

গুম-খুন বাংলাদেশে জিয়াউর রহমান শুরু করেছিল জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেখ হাসিনা সরকার গুম-খুনের রাজনীতি বিশ্বাস করে না। দেশের মানুষ জানে এদেশে গুম খুনের রাজনীতি চালু করেছে বিএনপি। ঢাকা সিটি ছাত্রলীগের নেতা মাহফুজ বাবু কোথায়? রাতের অন্ধকারে তাকে নিয়ে গিয়েছে জিয়াউর রহমানের বাহিনী। চট্রগ্রামে টর্চার করতে করতে মেরে ফেলা হয়েছে। তার লাশ আমরা দেখিনি।

গুম বলেন, আন্তর্জাতিক একটি মিডিয়াতেও দেখলাম ফখরুল সাহেব গুমের বিরুদ্ধে বলছে, ২০০১ এর পর আপনারা কত হাজার মানুষেকে গুম করেছেন? জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালে ওই নভেম্বর মাসে সেনাবাহিনীর কত অফিসারকে গুম করে হত্যা করেছেন? সেই ইতিহাস কি মুছে গেছে? শত শত অফিসার। গুমের ইতিহাস তো আপনাদের। আপনাদের দলের নেতা খালেদা জিয়ার আমলে চট্রগ্রামের বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন মিয়াকে গুম করা হলো, বলা হয়েছে আওয়ামী লীগ করেছে। তাকে অপহরণ করেছে; এটা পরবর্তিতে বেরিয়ে এলো।

গুম তারাই করেছে, তারাই তাকে আবার হত্যা করেছে। সবাই জানে চট্রগ্রামে যাদের একটু বয়স হয়েছে তারাই জানে। এটাও চাপা দিয়েছিলেন, নিজেদের দলের লোক। সেদিনও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বিএনপির এক কর্মী স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা। অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়েছে, ফখরুল সাহেব না বুঝেই বলে ফেলেছে গুম হয়েছে। তার মুক্তি চায়, সরকারে কাছে আবেদন করেছে। অস্ত্র হাতে ধরা পড়েছে। অস্ত্রবাজ যে করে তা তদন্তে বেরে হয়ে এসেছে।

মামলা থেকে রক্ষা পেতে পালিয়ে বেড়ানোদেরও বিএনপি গুমের তালিকায় নিয়ে এসেছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এদেশে তো অনেক গুম হয়েছে, নিজে নিজে গুম হয়ে যায়, নানা কারণে গুম হয়ে যায়। অনেকে মামলা থেকে; খুন সন্ত্রাস থেকে বাঁচার জন্য নিজে নিজে গুম হয়ে যায়। অনেকে আবার পালিয়ে বিদেশে চলে যায় হয়তো সাগরেই সমাধি হয়। ইতালি, লিবিয়ায় যায়, প্রত্যেকটার মধ্যেই বাংলাদেশের লোক আছে। সর্বশেষ ইতালিতে ট্রলারে যে ধরা পড়েছে সেখানে বাংলাদেশের লোক আছে।

আর ফখরুল সাহেবের গুমের লিস্টে এদের নামও আছে। নানা কারণে পালায়, নানা কারণে আত্মগোপন করে। কিছুদিন পরে আবার ফেরত আসে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশের মানুষের কাছে গুম শব্দটা পরিচিত ছিল না এই সরকার পরিচয় করিয়ে দিয়েছে বলে ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাব দেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, কেমন সত্যবাদী মানুষ, একটা পার্টির সেক্রেটারি। ২০০১ সালে কত হাজার মানুষকে গুম হত্যা করেছেন। গুম শব্দটা আপনারাই চালু করেছেন। জিয়াউর রহমানের আমলের চেয়ে বেগম জিয়ার আমলে সেটা আরও ১০ গুণ বেড়েছে। গুম শব্দটির পরিচিতি এবং বাস্তবতা দিয়েছেন আপনারাই।

কৃষকলীগের সভাপতি সমীর চন্দ্রের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি এ সময় বক্তব্য রাখেন।