জিয়াউর রহমান কখনোই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না: হানিফ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ

  • Font increase
  • Font Decrease

জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের আদর্শে বিএনপি গঠন করেছিলেন বলে দাবি করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন? জিয়াউর রহমান কখনোই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। জিয়াউর রহমান ছিলেন পাকিস্তানের এজেন্ট।

মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে কৃষক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হানিফ বলেন, বিএনপি আজকে বলে আমরা বারবার জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ আনি কেন। জিয়াউর রহমানের নাম তো আসবেই, কারণ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের নাম আসলে তো জিয়াউর রহমানের নাম আসবেই। কারণ এই হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমান জড়িত। জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের এজেন্ট ছিল বলেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পেরেছে। এই বাংলাদেশে যারা মুক্তিযুদ্ধে চেতনা ধারণ করে, যারা স্বাধীনতা বিশ্বাস করে তাদের হাতে কখনও বঙ্গবন্ধুর দিকে গুলি করার চিন্তাও আসবে না। যারা পাকিস্তানি ভাবধারায় বিশ্বাসী তাদের পক্ষেই সম্ভব ছিল বঙ্গবন্ধুকে আঘাত করা।

তিনি বলেন, ক্ষমতা দখলের জন্য পৃথিবীর বহু দেশের রাষ্ট্র প্রধানরা হত্যার শিকার হয়েছেন। কোথাও রাষ্ট্র প্রধানদের পরিবারের সকল সদস্যদের হত্যা করা হয়নি। নারী শিশুকে হত্যা করা হয়নি। কারণ বঙ্গবন্ধু হত্যা শুধু ক্ষমতা দখলের কারণে ছিল না। এটা ছিল ১৯৭১ সালে পরাজিত হওয়ার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য। পাকিস্তান এবং তাদের পশ্চিমা মিত্র যারা স্বাধীনতা মেনে নিতে পারে নাই তারাই ষড়যন্ত্র করে এই হত্যা করেছে।

বাংলাদেশের মূল প্রতিনিধিত্বকারী, মূল চক্রান্তকারী ছিল খুনি জিয়াউর রহমান। যেটা বারবার ইতিহাসের পাতায় উঠে এসেছে। জিয়াউর রহমান নিজেই বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে নিজেই প্রমাণ রেখে গেছেন। নিজে যদি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নাই থাকবেন, তাহলে কেন ইনডেমনিটি আইন করে এই বিচার কাজ বন্ধ করবেন। কেন খুনিদের কে বিদেশে পুনর্বাসন করে পুরস্কৃত করলেন? যদি জিয়াউর রহমান পুনর্বাসিত না করে তাদের বিচারের আওতায় আনতেন, তাহলে মূল কারিগর হিসেবে তার (জিয়াউর রহমান) নামটাও চলে আসতো। সে যে মূল চক্রান্তকারী সেটা বের হয়ে আসতো।

ওই সময়ে অনেকেই বিপদে পড়েই হোক দায়িত্ব নিয়েছিল, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করতে পারে নাই। আজকে বিএনপি নামক যে দলটি জিয়াউর রহমান গঠন করেছিল, সেই দলটিই পাকিস্তানের আদর্শে গঠন করেছিল জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান যে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না, তার প্রমাণ তিনি নিজেই। গোলাম আজমের মত কুখ্যাত রাজাকারকে উনি দেশে ফিরিয়ে আনলেন। অসংখ্য রাজাকারকে দিয়ে তিনি তার ক্যাবিনেট সাজালেন। কোনও মুক্তিযোদ্ধাকে তার চোখে পড়ে নাই। জয় বাংলা স্লোগান মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের স্লোগান, জিয়াউর রহমান জয়বাংলা স্লোগান নিষিদ্ধ করলো।

পাকিস্তান জিন্দাবাদের আদলে, করেছেন বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, এটা উনি নিয়ে আসলেন। এই যে বিএনপি নামক দলটি এটা পাকিস্তানের আদলে পাকিস্তানের বিশ্বাসদারীদের দিয়েই, ওই আদর্শে গঠন করেছিলেন। তার উত্তরসূরি খালেদা জিয়া, তারেক রহমানও পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী, তাদের চিন্তা চেতনাও পাকিস্তানি ভাবধারার। জিয়াউর রহমান যেমন রাজাকার জামায়াতের নেতাদের দিয়ে মন্ত্রী পরিষদ গঠন করেছিলেন তেমনি খালেদা জিয়াও কুখ্যাত রাজাকার নিজামি, আলী আহসান মুজাহিদের গাড়িতেও পতাকা তুলে দিয়েছিল।

কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ্রের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি এ সময় বক্তব্য রাখেন।