সরকারকে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে: ফখরুল



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারকে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, সরকার বলে তারা নাকি করোনা নিয়ন্ত্রণে সফল। এদিকে টিকা দিয়েছে মাত্র চার পার্সেন্ট। টিকা কোথা থেকে আসবে তাই তারা জানে না। বিতরণ কীভাবে করবেন তাই জানা নেই। সরকারকে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম ও বাংলাদেশ ছাত্র ফোরাম আয়োজিত ‘তারেক রহমানের ১৪তম কারামুক্তি দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পুলিশের সাংবাদিকতা করা নিয়ে সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের সব ক্ষমতা এখন পুলিশের কাছে। যখন পুলিশ সাংবাদিকতা করবে, তখন বুঝতে হবে যে সব শেষ। পুলিশকে অনেক ক্ষমতা দিয়েছে। ওরা তো নিজেরাই বলে যে বাতির রাজা ফিলিপস, মাছের রাজা ইলিশ আর দেশের রাজা পুলিশ। এদের কাছেই এখন সব ক্ষমতা। পুলিশ যখন চোর ডাকাত ধরা বাদ দিয়ে এই কাজ করবে, তখন তার কাছে কী আশা করা যাবে? চারদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যর্থ হচ্ছে। চাঁদা আদায় করছে গরিব মানুষকে আটকে রেখে। আর এর মধ্যে তারা আবার নতুন কাজ শুরু করেছে। পুলিশ সাংবাদিকতা করবে। এটা কিন্তু সুদূরপ্রসারী।

আমলাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আপনি জেলায় ডিসি অফিসে যান দেখবেন ওখানে কোন প্রোগ্রামে আওয়ামী লীগের চেয়ে তারাই বেশি আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পালন করে। আওয়ামী লীগ নাই তো এখন। এখন সব আমলালীগ।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশে এখন গণমাধ্যমকর্মীদের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় বাইরে থেকে যেসব টিভি ও ভিডিও চালানো হচ্ছে, তা প্রচারণা করার জন্য এখান থেকে অনুমতি নিতে হবে।

মেগা প্রজেক্টে দুর্নীতি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেদিন দেখলাম মেট্রোরেল উদ্বোধন করছে। মানুষ খুশি। বলছে পরিবর্তন হবে। পরিবর্তন কী শুধু ঢাকায় এই কয়েকজন মানুষের জন্য। হাজার মানুষের পরিবর্তন কোথায়। সবকিছুর দাম বেড়েছে। চাল, তেল, আলু, চিনির দাম আকাশচুম্বি।

আলোচনা সভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আপনি (শেখ হাসিনা) বলেছেন তারেক রহমানের মালয়েশিয়া কারখানা রয়েছে। আপনি অবৈধভাবে রাতের অন্ধকারে ক্ষমতায় এসেছেন। আপনি তার একটি আইসক্রিমের কারখানার সন্ধানও তো দেখাতে পারেননি। আপনারা অবৈধভাবে ক্ষমতায় রয়েছেন। আপনারা জনগণের সাথে প্রতারণা করছেন। আপনারাই জনগণের সাথে ষড়যন্ত্র করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্য তিনি আরও বলেন, আপনি টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে আপনার পিতার কবরের পাশে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন জিয়াউর রহমানকে আপনি কেন বীর উত্তম উপাধি দিয়েছিলেন। আর আপনার স্বামীর কবরে পাশে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন যে, তুমি আর আমি একসাথে জিয়ার ঘোষণা শুনেছি একথা বইতে কেন লিখছো।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আমিরুল ইসলাম খান আলিম, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন প্রমুখ।