সিরিজ সভায় ‘ষড়যন্ত্রের রূপকল্প’ করছে বিএনপি: কাদের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপি বিশেষ সিরিজ সভায় অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চা না করে সরকার বিরোধী সিরিজ ষড়যন্ত্রের রূপকল্প তৈরির গোপন বৈঠক করছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও বিএনপিতে গণতন্ত্রের কোন চর্চা নেই দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রের কথা বলে অথচ তাদের সম্মেলনের এক বছর পরে আমাদের এক টার্ম শেষ হয়ে আরেক টার্মেরও এক বছর আট মাস পেরিয়ে গেছে। আমাদের সম্মেলনে আমি যখন সাধারণ সম্পাদক হয়েছি এর এক বছর আগে তাদের জাম্বুজেট ৫০১ সদস্যের কমিটি হয়েছে। কিন্তু এখনও সেই কমিটি দিয়েই চলছে।

তারা মুখে গণতন্ত্রের বড় বড় বুলি আওড়ায় তাদের নিজেদের ঘরেই গণতন্ত্রের চর্চা নেই। তাদের সম্মেলন হয় না, তাদের কমিটি হয় না, কমিটির মিটিং পর্যন্ত হয় না। এই অবস্থা দিয়ে যে পার্টি চলছে তারা দেশে গণতন্ত্র কিভাবে প্রতিষ্ঠা করবে? সেটাই একটা বিরাট প্রশ্ন চিহ্ন হয়ে ঝুলে থাকে।

বিএনপি সরকার বিরোধী সিরিজ ষড়যন্ত্রের রূপকল্প তৈরির গোপন বৈঠক করছে দাবি করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, অবৈধ অসাংবিধানিক ভাবে ক্ষমতা দখলকারী জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত বিএনপি গণতান্ত্রিক রীতি নীতির কোন দায়ভার তাদের নেই। তাদের তথা কথিত বিশেষ যে সিরিজ সভাগুলো হয়েছে। এগুলো অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চা নয়। এই সিরিজ সভা সিরিজ বোমার পৃষ্টপোষক বিএনপির সিরিজ ষড়যন্ত্রের রূপকল্প তৈরিরর গোপন বৈঠকগুলো তারা করছে। এখানে গণতন্ত্রের কিছু নেই। কিভাবে সরকারকে ঠেকাবে, কিভাবে দেশের পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করবে, কিভাবে বিভিন্ন অপশক্তিকে উসকে দেবে। কারণ বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক শক্তির বিশ্বস্ত ঠিকানা হচ্ছে বিএনপি। এবং তারাই পৃষ্টপোষকতা দিয়ে এই সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলোকে জিয়িয়ে রেখেছে। আমরা জানি তাদের এখন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রতি কোন শ্রদ্ধা নেই। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র তারা করে।

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আগামী বছর নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রাক্কালে বিএনপি আবার নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন গঠনকে কেন্দ্র করে। নির্বাচন কমিশন যথা সময়ে যেভাবে হয়, আমাদের দেশের আইনগত প্রক্রিয়ায়ই করার যে বিধান রয়েছে সেভাবে আমাদের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন হবে। এ ব্যপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

গতবারও রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি গঠন করেছিলেন, সেই সার্চ কমিটিতে বিএনপিরও প্রতিনিধিত্ব ছিল। তাদের একজন এখনও আছে। বিভিন্ন সময় তিনি নোট অব ডিসেন্ট দেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। এটা গণতন্ত্রের বিউটি। বাইরে এসে তিনি মাঝে মাঝে যে অবস্থার সৃষ্টি করেছেন সেটা গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য এবং নির্বাচন কমিশনের জন্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আওয়ামী লীগে আগাম সম্মেলন হচ্ছে না

আওয়ামী লীগের আগাম সম্মেলন হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাসে আগাম কোন সম্মেলন হয়নি।

তিনি বলেন, ২০১৯ সালে ২০-২১ ডিসেম্বর আমাদের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল।

আগাম সম্মেলন কেন হবে? আওয়ামী লীগের ইতিহাসে আগাম কোন সম্মেলন হয়নি। নির্বাচন যথা সময়ে হবে, আওয়ামী লীগের সম্মেলনও যথা সময়ে হবে।

বিএনপির দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সংস্কৃতির প্রতি যে কোন ষড়যন্ত্র দেশের প্রচলিত আইন সংবিধান অনুযায়ী শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে। আমরা জনগণকে দেশ বিরোধী সকল ষড়যন্ত থেকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

আমাদের পার্টিকে শক্তিশালী সৃসংগঠিত করতে আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয় প্রশ্রয়কারী জঙ্গি সন্ত্রাসের পৃষ্টপোষক বিএনপির ষড়যন্ত প্রতিহত করতে দেশবাসীকে আহ্বান জানাচ্ছি। আন্দোলনের নামে দেশে সহিংসতা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যে কোন প্রয়াস আওয়ামী লীগ জনগণকে সাথে নিয়ে সমুচিত জবাব দেবে।